রায় জাল করে ভূমি খারিজ, এসিল্যান্ড ও বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা

  ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:১৯ | অনলাইন সংস্করণ

কিশোরগঞ্জ

আদালতের রায় জাল করে প্রতারণার মাধ্যমে বাড়ির ভূমি খারিজ করে নেয়ার অভিযোগে ভৈরবের সাবেক এসিল্যান্ড মো. আনিছুজ্জামানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছে।

মামলায় ভৈরব উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলামকে আসামি করা হয়।

আদালতের আদেশে শনিবার রাতে মামলাটি দায়ের করেন হাফছা সুলতানা।

তার স্বামীর নাম তোফাজ্জল হোসেন এবং বাড়ি শহরের ভৈরবপুর উত্তরপাড়া এলাকায়।

মামলায় আরও যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন বাদল মিয়া ওরফে বেদন, জামাল মিয়া, সুফিয়া বেগম, নূর আলম, রাজু আহমেদ, আপন মিয়া, মোহাম্মদ আলী ও ফাহিম।

মামলার ৭ নাম্বার আসামি আরিফুল ইসলাম ও ১০ নাম্বার আসামি ভৈরব উপজেলার সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আনিছুজ্জামান। এই মামলায় সাক্ষী করা হয় ৫ জনকে।

ভৈরব থানার ওসি মো. শাহিন মামলাটি শনিবার রাতে থানায় রেকর্ড করার কথা স্বীকার করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শহরের ভৈরবপুর উত্তরপাড়া এলাকার হাফছা সুলতানার ভোগদখলীয় বৈধ সম্পত্তির ১৫ শতাংশ ভূমি ৯ আসামি মিলে কিশোরগঞ্জ ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল আদালতের এক ভুয়া ও মিথ্যা রায় দেখিয়ে বাদীকে নোটিশ না দিয়ে খারিজ করে ফেলে। তারা মিথ্যাভাবে মামলার নাম্বার দেখায় ৯৯১৩/১৪।

ভৈরব ভূমি অফিসের সাবেক এসিল্যান্ড মো. আনিছুজ্জামান আদালতের জাল রায়ের সইমুরি নকল দেখে বিবাদীদের ১৫ শতাংশ ভূমি তাদের নামে খারিজ করে দেন। বিবাদীরা ভূমি খারিজ করে বাদী হাফছা সুলতানার ভূমি বিক্রির উদ্যোগ গ্রহণ করলে তিনি ঘটনাটি জানতে পারেন।

পরে বাদী কিশোরগঞ্জ ল্যান্ড সার্ভে আদালতে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন ৯৯১৩/১৪ নাম্বারের কোনো মামলাই হয়নি এবং ভৈরব ভূমি অফিসে দাখিল করা রায়টি জালভাবে করা হয়েছে। তারপর গত বছর ঘটনাটি অবহিত করে ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর বাদী ভৈরব ভূমি অফিসে এক আবেদনে খারিজটি বাতিল করতে একটি মিসকেস করেন। তবে সাবেক এসিল্যান্ড বাদীর আবেদন পাওয়ার পরও খারিজটি বাতিল করেননি।

তারপর বাদী খারিজ বাতিল করতে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (রাজস্ব) নিকট আপিল করলে শুনানি শেষে তাদের প্রতারণার খারিজটি বাতিল করা হয়। এরপর প্রতারণার মামলার জাল রায় ভূমি অফিসে দাখিল করার অভিযোগে বাদী হাফছা সুলতানা কিশোরগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সিআর আদালত নং ২-এ একটি অভিযোগ করেন।

অভিযোগ পেয়ে আদালত গত তিন মাস আগে ভৈরব থানার ওসিকে অভিযোগটি থানায় এজাহার করে ঘটনাটি তদন্ত করতে আদেশ দেন। ঘটনা সত্য হলে ১০ আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশ প্রদান করেন। এরই প্রেক্ষিতে শনিবার রাত সাড়ে ১১টায় মামলাটি এজাহার হিসেবে রেকর্ড করা হয়।

মামলার বাদী হাফছা সুলতানা বলেন, আমাদের দখলীয় বাড়ির ভূমিটি আসামিরা এসিল্যান্ডের সঙ্গে যোগসাজশ করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তারা জাল রায় দেখিয়ে খারিজ করে। খারিজের পর তারা কয়েকজনের কাছ থেকে পাওয়ার অব এটর্নি নিয়ে আমার বাড়িতে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণ করতে চেয়েছিল। আমার বাড়িটি অন্যদের কাছে বিক্রির পাঁয়তারা করছিল তারা। পরে আদালতে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি প্রতারণার মাধ্যমে তারা জাল রায় দিয়ে এ কাজ করেছে। এ কারণে আমি আদালতে প্রতারণার মামলা করেছি।

ভৈরব ভূমি অফিসের সাবেক এসিল্যান্ড মো. আনিছুজ্জামান ঘুষ খাওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, আদালতের রায়টি জাল কিনা সেটাতো আমি জানতাম না। জেলা প্রশাসক অফিসের নির্দেশ পেয়ে আমি খারিজটি করেছি। পরে ঘটনাটি জানার পর আমার অন্যত্র বদলি হয়ে যায়। এ কারণে খারিজটি আমি বাতিল করতে পারেনি।

ভৈরব সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিমাদ্রি খিসা জানান, এ ঘটনাটি আমি অফিসে যোগদানের আগে। কাজেই এ বিষয়ে আমি কিছুই মন্তব্য করব না।

ভৈরব থানার ওসি মো. শাহিন জানান, আদালতের আদেশ থানায় অভিযোগটি এজাহার হিসেবে শনিবার রাতে রেকর্ড করেছি। বিষয়টি তদন্ত করতে কয়েক মাস সময় লেগেছে। তদন্তে বাদীর অভিযোগের সত্যতা পাওয়াই মামলাটি রেকর্ড করেছি। ঘটনাটি আরও সুষ্ঠু তদন্ত করে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

'কোভিড-১৯' সর্বশেষ আপডেট

# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ৫১ ২৫
বিশ্ব ৮,২৩,১৯৪১,৭৪,৩৩২৪০,৬৩৩
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×