মানসিক ভারসাম্যহীনদের সেবায় সুখ পান মারুফ-মরিয়ম দম্পতি
jugantor
মানসিক ভারসাম্যহীনদের সেবায় সুখ পান মারুফ-মরিয়ম দম্পতি

  রংপুর ব্যুরো  

০২ মার্চ ২০২০, ২২:৪৩:৫৩  |  অনলাইন সংস্করণ

মানসিক ভারসাম্যহীন এক বৃদ্ধার সঙ্গে কথা বলছেন মারুফ কেইন
মানসিক ভারসাম্যহীন এক বৃদ্ধার সঙ্গে কথা বলছেন মারুফ কেইন

কারও পা নেই, চোখ নেই। কেউ শুনতে বা বলতে পারে না। শারীরিক নানা প্রতিবন্ধকতা ছাড়াও সমস্যা হল সবাই মানসিক ভারসাম্যহীন। তাদের প্রতিপালন করছেন মারুফ-মরিয়ম দম্পতি। তাদের সেবার মধ্যেই  সুখ খুঁজে পান তারা।

এমন বিরল ঘটনা দেখা গেছে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম হাসিনা নগরে। সেখানে গ্লোরি সমাজ উন্নয়ন সংস্থা গড়ে তুলেছে ভারসাম্যহীনদের সেবা কেন্দ্র। যা বর্তমানে মানবতার তীর্থস্থান পাগলের বাড়ি হিসেবে পরিচিত।

সরেজমিন জানা গেছে, ২০১৪ সালে একজন মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে আশ্রয় দিয়ে শুরু হয় মারুফ-মরিয়ম দম্পতির এ সেবা কার্যক্রম। শুরুতে অনেকে বাঁকা দৃষ্টিতে তাকালেও ধীরে ধীরে গ্রামবাসীর সহযোগিতা উৎসাহযোগায় তাদের।

পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর সেবা কেন্দ্র থেকে ১৮ জন মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষ বাড়ি ফিরে গেলেও গ্লোরি সমাজ উন্নয়ন সংস্থার এই সেবা কেন্দ্রে বসবাস করছেন ১৭ জন অসহায় মানুষ। কারও পা নেই, চোখ নেই। কেউ পারে না শুনতে-বলতেও।

শারীরিক নানা প্রতিবন্ধকতা ছাড়াও তাদের সমস্যা হল সবাই মানসিক ভারসাম্যহীন। পরিবার-পরিজনই হয়তো এদের বোঝা ভেবে ফেলে গেছে, নয় তো প্রিয়জনদের কাছ থেকে হারিয়ে নিরুদ্দেশ এ মানুষগুলো।

পথ থেকে কুড়িয়ে এনে বাড়িতে রেখে পরম মমতায় প্রতিপালন করছেন মারুফ-মরিয়ম দম্পতি। তাদের সেবা-শুশ্রূষায় জীবন ফিরে পেয়েছেন অসহায় এ মানুষেরা।

এ বিষয়ে গ্লোরি সমাজ উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান এমএ মারুফ কেইন বলেন, আমি ভাসমান মানুষদের সেবা করতাম। পরে চিন্তা করলাম সবাইকে একসঙ্গে করা যায় কি না। আমরা শুধু তাদেরকেই এখানে নিয়ে আসি যারা রাস্তা-ঘাটে পরে থাকে ও অসহায়। তাদের সেবা করছি। দেখাশুনা ও খাওয়া-দাওয়া করাচ্ছি।

স্থানীয় গ্রামবাসী বলেন, মহৎ এই উদ্যোগ প্রসারে আরও সহযোগিতা প্রয়োজন।

রংপুর ভাসমান নিরাশ্রয় মানুষের সেবা কেন্দ্রের সভাপতি নিখিল চন্দ্র রায় বলেন, সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত। সবাইকে এগিয়ে আসার অনুরোধ করছি।

রংপুরের জেলা প্রশাসক আসিব আহসান বলেন, ঠিকানাবিহীন অসহায় মানুষের কল্যাণে সেবা কেন্দ্রের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সরকারিভাবে তাদের যতটুকু সাহায্য করা সম্ভব তার ব্যবস্থা করা হবে।

মানসিক ভারসাম্যহীনদের সেবায় সুখ পান মারুফ-মরিয়ম দম্পতি

 রংপুর ব্যুরো 
০২ মার্চ ২০২০, ১০:৪৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
মানসিক ভারসাম্যহীন এক বৃদ্ধার সঙ্গে কথা বলছেন মারুফ কেইন
মানসিক ভারসাম্যহীন এক বৃদ্ধার সঙ্গে কথা বলছেন মারুফ কেইন

কারও পা নেই, চোখ নেই। কেউ শুনতে বা বলতে পারে না। শারীরিক নানা প্রতিবন্ধকতা ছাড়াও সমস্যা হল সবাই মানসিক ভারসাম্যহীন। তাদের প্রতিপালন করছেন মারুফ-মরিয়ম দম্পতি। তাদের সেবার মধ্যেই সুখ খুঁজে পান তারা।

এমন বিরল ঘটনা দেখা গেছে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম হাসিনা নগরে। সেখানে গ্লোরি সমাজ উন্নয়ন সংস্থা গড়ে তুলেছে ভারসাম্যহীনদের সেবা কেন্দ্র। যা বর্তমানে মানবতার তীর্থস্থান পাগলের বাড়ি হিসেবে পরিচিত।

সরেজমিন জানা গেছে, ২০১৪ সালে একজন মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে আশ্রয় দিয়ে শুরু হয় মারুফ-মরিয়ম দম্পতির এ সেবা কার্যক্রম। শুরুতে অনেকে বাঁকা দৃষ্টিতে তাকালেও ধীরে ধীরে গ্রামবাসীর সহযোগিতা উৎসাহযোগায় তাদের।

পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর সেবা কেন্দ্র থেকে ১৮ জন মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষ বাড়ি ফিরে গেলেও গ্লোরি সমাজ উন্নয়ন সংস্থার এই সেবা কেন্দ্রে বসবাস করছেন ১৭ জন অসহায় মানুষ। কারও পা নেই, চোখ নেই। কেউ পারে না শুনতে-বলতেও।

শারীরিক নানা প্রতিবন্ধকতা ছাড়াও তাদের সমস্যা হল সবাই মানসিক ভারসাম্যহীন। পরিবার-পরিজনই হয়তো এদের বোঝা ভেবে ফেলে গেছে, নয় তো প্রিয়জনদের কাছ থেকে হারিয়ে নিরুদ্দেশ এ মানুষগুলো।

পথ থেকে কুড়িয়ে এনে বাড়িতে রেখে পরম মমতায় প্রতিপালন করছেন মারুফ-মরিয়ম দম্পতি। তাদের সেবা-শুশ্রূষায় জীবন ফিরে পেয়েছেন অসহায় এ মানুষেরা।

এ বিষয়ে গ্লোরি সমাজ উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান এমএ মারুফ কেইন বলেন, আমি ভাসমান মানুষদের সেবা করতাম। পরে চিন্তা করলাম সবাইকে একসঙ্গে করা যায় কি না। আমরা শুধু তাদেরকেই এখানে নিয়ে আসি যারা রাস্তা-ঘাটে পরে থাকে ও অসহায়। তাদের সেবা করছি। দেখাশুনা ও খাওয়া-দাওয়া করাচ্ছি।

স্থানীয় গ্রামবাসী বলেন, মহৎ এই উদ্যোগ প্রসারে আরও সহযোগিতা প্রয়োজন।

রংপুর ভাসমান নিরাশ্রয় মানুষের সেবা কেন্দ্রের সভাপতি নিখিল চন্দ্র রায় বলেন, সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত। সবাইকে এগিয়ে আসার অনুরোধ করছি।

রংপুরের জেলা প্রশাসক আসিব আহসান বলেন, ঠিকানাবিহীন অসহায় মানুষের কল্যাণে সেবা কেন্দ্রের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সরকারিভাবে তাদের যতটুকু সাহায্য করা সম্ভব তার ব্যবস্থা করা হবে।