করোনাভাইরাস: সিঙ্গাপুর ফেরত যুবক ভর্তি হওয়ায় হাসপাতাল ছেড়ে পালাল রোগীরা!

  নওগাঁ প্রতিনিধি ০৩ মার্চ ২০২০, ০০:১২:৫০ | অনলাইন সংস্করণ

হাসপাতালের বেডে মেহেদী হাসান। ছবি: যুগান্তর

নওগাঁয় করোনা ভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে মেহেদী হাসান (২৭) নামে এক সিঙ্গাপুর ফেরত যুবককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে তাকে নওগাঁ সদর হাসপাতালের নতুন ভবনের তৃতীয় তলায় করোনা ইউনিটে তাকে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, করোনাভাইরাস সন্দেহে মেহেদী হাসান হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সংবাদ পেয়ে অনেক রোগী হাসপাতাল ছেড়ে চলে গেছে। অনেকে ছাড়পত্র নিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পুরো হাসপাতালে এখন সেবিকা ও রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

মেহেদী হাসানের বাড়ি জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার শ্রীমন্তপুর ইউনিয়নে আব্দুল খালেকের ছেলে। গত শুক্রবার মেহেদী হাসান তার গ্রামের বাড়িতে আসেন। হাসপাতালে মেহেদী হাসানের সঙ্গে তার মা হাসিনা খাতুন রয়েছে।

মেহেদী হাসানের মা হাসিনা খাতুন বলেন, গত চার বছর থেকে ছেলে সিঙ্গাপুরে শ্রমিকের কাজ করত। এর মধ্যে একবার গ্রামে এসেছিল। এরপর দেড় বছর পর গত শুক্রবার ঢাকা থেকে তার বাবার সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে আসে। গত দুইদিন সে ভালই ছিল। হঠাৎ করে রোববার রাত থেকে জ্বর, সর্দি ও মাথা ব্যথা শুরু হয়।

সোমবার বিকালে নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তারকে দেখানো হলে নওগাঁতে আসতে বলে। এরপর আমরা দেরি না করে সরাসরি নওগাঁ সদর হাসপাতালে এসে ভর্তি করায়।

তিনি দাবি করে বলেন, ছেলের আগে থেকে নাকে পলিপাস ছিল। মাঝে মধ্যেই নাক বন্ধ হয়ে মাথা ব্যথা ও সর্দি হতো। এসি মাইক্রোতে করে আসার কারণে তার হয়তো পলিপাসের সমস্যা দেখা দিয়েছে। এছাড়া ডাক্তাররা ছেলের পরীক্ষার জন্য রক্ত নিয়ে গেছে। এখন জ্বর কমেছে। করোনা বলে কোনো সন্দেহ করছেন না তিনি।

হাসপাতালের সিনিয়র নার্স সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, এ ভাইরাস মোকাবেলায় যে সুরক্ষিত পোশাক প্রয়োজন তা আমাদের নেই। যেহেতু এরকম প্রথম একটা রোগী ভর্তি হয়েছে। একটু ভয় কাজ করছে।

নওগাঁ সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. মুনির আলী আকন্দ বলেন, করোনার যে উপসর্গ (জ্বর, সর্দি, কাশি) তার মধ্যে সবই আছে। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনও আমরা নিশ্চিত না। পরীক্ষার জন্য কিছু নমুনা আমরা ঢাকায় পাঠিয়েছি।

তিনি বলেন, এটা একটা গুজব হতে পারে। করোনা ভাইরাস মোকাবেলা প্রাথমিক ভাবে যে মাস্ক ও গ্লাভস তা আমাদের যথেষ্ট আছে। পরীক্ষার পর যদি শরীরে করোনা পাওয়া যায় তারপর পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

আরও
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত