বিপন্ন প্রজাতির খাটাশের দেখা মিলল চট্টগ্রামের মসজিদে

  হাটহাজারী প্রতিনিধি ০৩ মার্চ ২০২০, ২২:৪৭:২০ | অনলাইন সংস্করণ

খাটাশ। ছবি: যুগান্তর

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় দেখা মিলল বিপন্ন প্রজাতির ছোট খাটাশ। যদিও এ প্রাণীটি চট্টগ্রামের মানুষের কাছে বাঘডাশ নামে বেশ পরিচিত। তবে এদেশে ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের রক্ষিত বন্যপ্রাণীর তালিকার তফসিল-১ অনুযায়ী এ প্রজাতিটি সংরক্ষিত।

মঙ্গলবার বিপন্ন প্রজাতির এই খাটাশের দেখা মিলল রাউজান উপজেলার ৪ নম্বর গহিরা ইউনিয়নের কোতোয়ালি ঘোণা গ্রামের কাজী পাড়া এলাকার রাইতুল ইজ্জাত জামে মসজিদে। রাত ৮টার দিকে এশার নামাজ পড়তে মসজিদে গেলে হাজী মো. রফিক নামে এক মুসল্লি এ বিপন্ন প্রজাতির প্রাণীটিকে প্রথমে দেখতে পান।

ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাইফুল হক জানান, আড়াই ফুটের মতো দৈর্ঘ্য ও সাড়ে ৩ কেজি ওজনের এ প্রাণীটি দেখতে অনেকটা হিংস্র ধরনের। তবে ওই প্রাণীটাকে দেখে অনেকটা ক্ষুধার্ত বলে মনে হচ্ছে। কয়েকজন শিশু-কিশোররা জাল দিয়ে আটক করে এ প্রাণীটাকে মারার জন্য উদ্যত হয়। পরে এ বিপন্ন প্রাণীটিকে মারতে বাধা দেয়া হয়।

বিপন্ন এ প্রাণীর ব্যাপারে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি)প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মঞ্জুরুল কিবরিয়া যুগান্তরকে বলেন, ছোট খাটাশ একটি বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী। এ ধরণের খাটাশ ‘গন্ধগোকুল’ নামেও এলাকাভেদে পরিচিত হলেও চট্টগ্রামের মানুষের কাছে বাঘডাশ নামে বেশ পরিচিত। এরা গাছে চড়তে ওস্তাদ।

মাটিতেও সমান সচল, ভালো দৌড়বিদ এবং অল্প জায়গায় আত্মগোপনে পারদর্শী। ওজন তিন থেকে পাঁচ কেজি। শরীরের মাপ লেজ বাদে ৯০ থেকে ৯৩ সেন্টিমিটার, লেজ ৩০ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে। নিরীহ স্বভাবের এ প্রাণীটি বাঁশবন-ঘাসবন, শুকনো কাশবন, খড়বন, জালিবেতঝাড়, ইটের পাঁজা ও ঝোপঝাড় হচ্ছে খাটাশের আবাসস্থল।

তিনি আরও জানান, প্রায় সব ধরনের ফল, বিভিন্ন ছোট প্রাণী ও পতঙ্গ, তাল-খেজুরের রস ইত্যাদি তাদের বেশ পছন্দের খাবার। তবে তারা গাছে উঠতে পারলেও মাটিতেই শিকার ধরে এবং ইঁদুর, কাঠবিড়ালি, ছোট পাখি, টিকটিকি, কীটপতঙ্গ ও সেগুলির লার্ভা খেয়ে থাকে। গৃহস্থের হাঁস-মুরগি চুরি করে। দেশভেদে এদের খাবারের তারতম্য দেখা যায়। কফি এদের অন্যতম প্রিয় একটি খাদ্য।

প্রসঙ্গত, আবাসভূমি ধ্বংস ও হাঁস-মুরগি বাঁচানোর জন্য ব্যাপক নিধনের জন্যই এরা বিপন্ন। ছোট খাটাশ বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, মায়ানমার, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, চীন, হংকং, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, লাওস, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনামে পাওয়া যায়।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত