বিশ্বরেকর্ড গড়তে ২৮ ফুট দৈর্ঘ্যের কলম তৈরি হায়দারের

  মো.শফিকুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি ০৪ মার্চ ২০২০, ১২:০৪:৪২ | অনলাইন সংস্করণ

আবদুল্লাহ আল হায়দার ও তার ২৮ ফুট দৈর্ঘ্যের কলম। ছবি: যুগান্তর

বিশ্বরেকর্ড গড়ে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে বাংলাদেশ ও নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে ২৮ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি কলম তৈরি করেছেন আবদুল্লাহ আল হায়দার নামে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক যুবক।

৭৮ কেজি ওজনের এই কলমের দৈর্ঘ্য ২৭ দশমিক ৮ ফুট ও প্রস্থ ১৮ ইঞ্চি। সেগুনগাছ দিয়ে বানানো কলমটিকে বিশ্বের সর্ববৃহৎ কলমের স্বীকৃতি দিতে ইতোমধ্যে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে আবেদনও করেছেন তিনি।

স্বীকৃতি পেতে হলে গিনেস বুক কর্তৃপক্ষের দেয়া ৬১টি শর্ত পূরণ করতে হবে হায়দারকে। যদিও তার দাবি গিনেস বুক কর্তৃপক্ষের সব শর্তই পূরণ করতে পেরেছেন তিনি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বড়াইল ইউনিয়নের জালশুকা গ্রামের মৃত শরীফ আবদুল্লাহ হারুনের ছেলে আবদুল্লাহ আল হায়দার তার পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট।

হিসাববিজ্ঞানে স্নাতক সম্পন্ন করে এখন বাড়িতেই সময় কাটছে তার। বাড়ির ছাদের ওপর রেখেই কলমটি তৈরি করেছেন তিনি। কলমটিতে আরবি হরফে খোদাই করে লেখা হয়েছে– আল্লাহর পবিত্র ৯৯টি নাম ও পবিত্র কোরআন শরিফের ১১৪টি সুরার নাম।

হায়দার নিজেই আরবি হরফে নামগুলো খোদাই করেছেন। আর কলমের নিপ তৈরিতে তাকে সহযোগিতা করেছেন মাস্টার ক্রাফটম্যানশিপের হেড ট্রেইনার জাহিদ হোসেন।

আর আরবি হরফে লেখাগুলো যাচাইয়ে সহযোগিতা করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বিরামপুর উত্তরপাড়ায় অবস্থিত মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক নজরুল ইসলাম বিন সাইদ এবং সদর উপজেলার নরসিংসার এলাকার জোবায়দা খাতুন মহিলা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আবদুল্লাহ।

হায়দারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ২ জানুয়ারি তিনি কলমটি তৈরির কাজ শুরু করেন। এ জন্য গ্রামের পার্শ্ববর্তী লালপুর বাজার থেকে ২৮ হাজার টাকায় ২৫ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি সেগুনগাছ কেনেন তিনি।

গাছটি বাড়িতে এনে ছাদের ওপর রেখে শুকিয়ে দুভাগে কাটেন। এর পর ২৫ ফুট দৈর্ঘ্যের ও আধা ইঞ্চি প্রস্থের স্টিলের পাইপ স্থাপন করে গাছটি আঠা দিয়ে যুক্ত করেন।

কলমটির জন্য ১৫ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের নিপ বানাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের একটি ওয়ার্কশপে সাতবার চেষ্টা করে অষ্টমবারের মাথায় সফল হন হায়দার। ১৩ ফেব্রুয়ারি তিনি কলম তৈরির কাজ শেষ করেন।

হায়দার বলেন, বলপয়েন্ট কলম তৈরির জন্য ১৫ দিন আরবি হরফে লেখার চর্চা করেছেন তিনি। পরে রাতে কলমের গায়ে আল্লাহর পবিত্র ৯৯টি নাম ও পবিত্র কোরআন শরিফের ১১৪টি সুরার নাম এবং দুটি সুরার চারটি আয়াত আরবি হরফে লিখে খোদাই করেন।

তিনি আরও বলেন, এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ বলপয়েন্ট কলম হিসেবে স্বীকৃতি পেতে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে আবেদন করেছেন তিনি। গিনেস বুক কর্তৃপক্ষ তার আবেদনটি গ্রহণ করে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য ৬১টি শর্ত দিয়েছেন। সব শর্তই পূরণ করতে পেরেছেন বলে দাবি করেছেন হায়দার।

হায়দার আরও বলেন, গিনেস বুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পেরেছি যে, ২০১১ সালের এপ্রিল মাসে ভারতের হায়দরাবাদের আচার্য মুকুনুরি শ্রীনিভাসা নামে এক ব্যক্তি ৩৭ দশমিক ২৩ কেজি ওজনের সাড়ে পাঁচ মিটার (১৮ দশমিক ৫৩ ফুট) দৈর্ঘ্যের একটি বলপয়েন্ট কলম তৈরি করেছিলেন।

নথিপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, কলমটিকে বিশ্বের সর্ববৃহৎ কলম হিসেবে স্বীকৃতি দিতে আবেদন জানিয়ে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে ই-মেইল করেন হায়দার। তার ই-মেইলের উত্তরে গিনেস বুক কর্তৃপক্ষ আগামী ১২ সপ্তাহের মধ্যে হায়দারের সঙ্গে যোগাযোগ করবে বলে জানিয়েছে।

এই ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নরসিংসার এলাকার জোবায়দা খাতুন মহিলা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আবদুল্লাহ জানান, কলমে খোদাই করে আরফি হরফে লেখা আল্লাহর পবিত্র ৯৯টি নাম ও পবিত্র কোরআন শরিফের ১১৪টি সুরার নাম তিনি যাচাই করেছেন। সব নামই নির্ভুলভাবে লেখা হয়েছে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত