বিদ্যালয় কক্ষের দেয়াল যেন পাঠ্যবই!
jugantor
বিদ্যালয় কক্ষের দেয়াল যেন পাঠ্যবই!

  দিনাজপুর প্রতিনিধি  

০৮ মার্চ ২০২০, ২২:২৭:৩৯  |  অনলাইন সংস্করণ

পাকেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দেয়াল
পাকেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দেয়াল

ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা বদলে গেছে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ১৮নং পাকেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ।

প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে গল্প আর খেলার ছলে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের পাঠদান করেন শিক্ষকরা। ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অভিভাবকরাও।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষে রয়েছে বাংলা ও ইংরেজিতে লেখা রঙ্গিন বর্ণ, নামতার ধারণা, বাংলা-ইংরেজি মাস, সপ্তাহের নাম, গণিতের সংখ্যা ও বিভিন্ন চিহ্ন, বিজ্ঞানের বিভিন্ন আবিষ্কারের ছবি, বঙ্গবন্ধুর ছবি, সাত বীরশ্রেষ্ঠের ছবি, বিভিন্ন ফুল-ফল ও পশু-পাখির ছবি, বিভিন্ন ছড়া এবং মূল ভবনে আছে মনীষীদের বাণী ও সচেতনতা মূলক বিভিন্ন লেখা। কক্ষের দেয়ালগুলো যেন সাজানো হয়েছে পাঠ্যবইয়ের মতো।

আর মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টের মাধ্যমে ক্লাস নেয়া হয় ও সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, জুতা পায়ে টয়লেট যাওয়াসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক ভিডিও দেখানো হচ্ছে যার ফলে যেমন জ্ঞান অর্জন হচ্ছে তেমনি আচরণেও ব্যাপক পরিবর্তন হচ্ছে।

পড়ালেখায় শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে শিক্ষা বিভাগের পরামর্শে ব্যতিক্রমী এসব উদ্যোগ নিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ক্লাস চলে আর প্রাক-প্রাথমিকে মোট শিক্ষার্থী ৪৫ জন।

শিক্ষক ইয়াসমিন আরা জানান, দেয়ালে লেখা দেখে, ছড়া, খেলনা ও চিত্রাঙ্কনের মাধ্যমে সহজেই শিক্ষার্থীরা শিখছে আর পড়ালেখায় আগ্রহ বাড়ছে।

মারজিয়া নামে এক ছাত্রীর অভিভাবক জানান, বিদ্যালয়ের দেয়াল যেন পাঠ্যবই যা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। কেননা শিশুরা এখানে খেলার ছলে যা শিখছে তার ফল ইতিবাচক।

পাকেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার প্রতি মনোযোগ বাড়াতে সরকারি সহায়তায় নতুন পদ্ধতি নেয়া হয়। সাজানো দেয়াল দেখে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন বিষয় শিখতে ও জানতে শিশুদের আগ্রহ বাড়ছে। যার ফলে শিশুরা বিদ্যালয়ে নিয়মিত আসে।

এ বিষয়ে খানসামা উপজেলার সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার অনুপম ঘোষ জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় আনন্দঘন পরিবেশে শিশুদের পাঠদান দিতে প্রথম পর্যায়ে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি কক্ষ সাজানো হয়েছে। শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি দেয়ালে এসব চিত্র-লেখা দেখে নানা বিষয় জানতে ও অতি সহজে শিখতে পারছে।

পাকেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চমকপ্রদ এই পাঠদান পদ্ধতি সত্যিই প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বিদ্যালয় কক্ষের দেয়াল যেন পাঠ্যবই!

 দিনাজপুর প্রতিনিধি 
০৮ মার্চ ২০২০, ১০:২৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
পাকেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দেয়াল
পাকেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দেয়াল

ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা বদলে গেছে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ১৮নং পাকেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ।

প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে গল্প আর খেলার ছলে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের পাঠদান করেন শিক্ষকরা। ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অভিভাবকরাও।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষে রয়েছে বাংলা ও ইংরেজিতে লেখা রঙ্গিন বর্ণ, নামতার ধারণা, বাংলা-ইংরেজি মাস, সপ্তাহের নাম, গণিতের সংখ্যা ও বিভিন্ন চিহ্ন, বিজ্ঞানের বিভিন্ন আবিষ্কারের ছবি, বঙ্গবন্ধুর ছবি, সাত বীরশ্রেষ্ঠের ছবি, বিভিন্ন ফুল-ফল ও পশু-পাখির ছবি, বিভিন্ন ছড়া এবং মূল ভবনে আছে মনীষীদের বাণী ও সচেতনতা মূলক বিভিন্ন লেখা। কক্ষের দেয়ালগুলো যেন সাজানো হয়েছে পাঠ্যবইয়ের মতো।

আর মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টের মাধ্যমে ক্লাস নেয়া হয় ও সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, জুতা পায়ে টয়লেট যাওয়াসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক ভিডিও দেখানো হচ্ছে যার ফলে যেমন জ্ঞান অর্জন হচ্ছে তেমনি আচরণেও ব্যাপক পরিবর্তন হচ্ছে।

পড়ালেখায় শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে শিক্ষা বিভাগের পরামর্শে ব্যতিক্রমী এসব উদ্যোগ নিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ক্লাস চলে আর প্রাক-প্রাথমিকে মোট শিক্ষার্থী ৪৫ জন।

শিক্ষক ইয়াসমিন আরা জানান, দেয়ালে লেখা দেখে, ছড়া, খেলনা ও চিত্রাঙ্কনের মাধ্যমে সহজেই শিক্ষার্থীরা শিখছে আর পড়ালেখায় আগ্রহ বাড়ছে।

মারজিয়া নামে এক ছাত্রীর অভিভাবক জানান, বিদ্যালয়ের দেয়াল যেন পাঠ্যবই যা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। কেননা শিশুরা এখানে খেলার ছলে যা শিখছে তার ফল ইতিবাচক।

পাকেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার প্রতি মনোযোগ বাড়াতে সরকারি সহায়তায় নতুন পদ্ধতি নেয়া হয়। সাজানো দেয়াল দেখে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন বিষয় শিখতে ও জানতে শিশুদের আগ্রহ বাড়ছে। যার ফলে শিশুরা বিদ্যালয়ে নিয়মিত আসে।

এ বিষয়ে খানসামা উপজেলার সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার অনুপম ঘোষ জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় আনন্দঘন পরিবেশে শিশুদের পাঠদান দিতে প্রথম পর্যায়ে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি কক্ষ সাজানো হয়েছে। শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি দেয়ালে এসব চিত্র-লেখা দেখে নানা বিষয় জানতে ও অতি সহজে শিখতে পারছে।

পাকেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চমকপ্রদ এই পাঠদান পদ্ধতি সত্যিই প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।