ভালুকায় চাঞ্চল্যকর মহসিন হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেফতার ৪
jugantor
ভালুকায় চাঞ্চল্যকর মহসিন হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেফতার ৪

  ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি  

১৩ মার্চ ২০২০, ১৪:৩৫:৫১  |  অনলাইন সংস্করণ

ভালুকায় চাঞ্চল্যকর মহসিন হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ৪

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ঝালপাঁজা গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী মহসিন সরকার (৫২) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে সিআইডি পুলিশের ময়মনসিংহ বিভাগের বিশেষ টিম।

এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করেছেন তারা।

গ্রেফতাররা হলেন- ফারুক, সাঈম, রাজিব ও মোশারফ হোসেন।

গ্রেফতারকৃতরা ইতিমধ্যে আদালতে এ খুনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে পুরো ঘটনা প্রকাশ করেছেন।

ঘাতকদের দেয়া জবানবন্দির ভিত্তিতে সিআইডি পুলিশ সূত্রে জানায়, মহসিন সরকারের বাড়িতে একটি তক্ষত থাকত। ওই এলাকার বাবুল মিয়ার ছেলে আদিল তক্ষতের বিষয়টি রাজিবকে জানায়। রাজিব বিষয়টি রুবেল ও আক্তার হোসেনকে জানায়। এর পর তারা সবাই মিলে পরিকল্পনা করে মহসিনের বাড়ির তক্ষতটি তারা ধরে নিয়ে কোটি টাকায় বিক্রি করবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘটনার রাতে (৩ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়) মহসিনের ঘরের জানালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তক্ষত ধরতে ব্যর্থ হয় তারা। ওই রাতে ১১টার দিকে তারা আবার মহসিনের বাড়িতে গিয়ে তক্ষত খোঁজাখুঁজির চেষ্টা করে।

কিন্তু এ সময় তারা মহসিনের কাছে ধরা পড়ে যায়। এদের একজনকে চিনে ফেলেন মহসিন। মহসিন বিছানার নিচ থেকে রামদা বের করে চোরদের ওপর হামলা করলে ফারুক, সাঈম, রুবেল ও আক্তার মহসিনকে ঝাপটে ধরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে দুই পাশ থেকে টান দিয়ে ধরে। ঘটনাস্থলেই মহসিন মারা যান। এ ঘটনার সময় রাজিব ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে পাহারা দিচ্ছিলেন।

খুনের পর ঘাতকরা মহসিনের ট্রাংক ভেঙে দুটি মোবাইল সেট, একটি কাশার বাটি ও একটি সেমাইয়ের মেশিন লুট করে নিয়ে যায়।

ঘটনার পর দিন (৪ অক্টোবর) দুপুরে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় বসতঘরের খাট থেকে মহসিন সরকারের লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায় মডেল থানা পুলিশ।

সিআইডি পুলিশ সূত্র জানায়, নিহতের ঘর থেকে চুরি হওয়া দুটি মোবাইল সেট উদ্ধারের পরই ঘটনার জট খুলে। কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের বাসিন্দা মাহবুব হকের কাছ থেকে মোবাইল সেট দুটি উদ্ধার করা হয়।

মাহবুব সেট দুটি পান তার ছোট ভাই জুবাইরের মাধ্যমে। জুবাইয়ের জানান, ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা গ্রামের মৃত ইয়াদ আলীর ছেলে ফারুকের কাছ থেকে মোবাইল সেট ক্রয় করেন তিনি। সেই সূত্র ধরে ভালুকার সিডস্টোর বাজারের একটি ওয়েল্ডিংয়ের দোকানের কর্মচারী ফারুককে আটক করে পুলিশ।

সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার শওকত আলম পিপিএম বলেন, ‘গত ১০ মার্চ রাতে ফারুক (২৪) ও উপজেলা বড়চালা গ্রামের ছফির উদ্দিনের ছেলে সাঈমকে (২০) আটক করি আমরা। তাদের জবানবন্দির পরিপ্রেক্ষিতে পর দিন হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে উপজেলার ঝালাপাঁজা গ্রামের মুস্তু মিয়ার ছেলে রাজিব (২৩) ও উপজেলার শিরিরচালা গ্রামের মৃত ওয়াহেদ আলীর ছেলে মোশারফ হোসেনকে (৩৫) আটক করা হয়।’


পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে আটক চারজনই মহসিন সরকার হত্যায় জড়িত বলে জবানবন্দি দেয়।

এদিকে নিহতের স্ত্রী পারভীন আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের নামে করা হত্যা মামলায় গ্রেফতার হন নিহতের ছোট ভাই ঝালপাঁজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রমজান আলী।


এদিকে মামলার বাদী পারভীন আক্তার বলছেন ভিন্নকথা। তক্ষতের কারণে নয়, পারিবারিক অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণেই তার স্বামী খুন হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘গত দুই মাস আগে রুবেল নামে আরও একজনকে সিআইডি পুলিশ অ্যারেস্ট দেখিয়ে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। রিমান্ডে থাকাবস্থায় আমার স্বামীর খুনের ঘটনায় জড়িত বলে জবানবন্দিও দেয় রুবেল। সেই জবানবন্দির ভিডিও অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার খন্দকার ছাইদ আহাম্মদ আমাকে দেখিয়েছেন। অথচ সেই রুবেলকে এ মামলায় অন্তর্ভুক্তি না করে চার্জশিট দেয়ার চেষ্টা চলছে। ’

পারিবারিক অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণে মহসিন খুন হয়েছে দাবি করে পারভীন আক্তার বলেন, ‘সম্প্রতি আমার দেবর রমজান আলী বেশ কিছু জমি বিক্রি করেছেন। সেই জমিতেও আমাদের মালিকানা রয়েছে। জমি বিক্রির টাকা দিয়ে সে মামলা থেকে পার পাওয়ার চেষ্টা করছেন। তক্ষতের ঘটনায় আমার স্বামী খুন হতে পারে না। কারণ এ তক্ষত আমার বাড়িতে প্রায় ১০ বছর ধরে বসবাস করছে।’

মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা (এসআই) জিয়াউর রহমান বলেন, ‘লুণ্ঠিত মোবাইলের সূত্রে ধরেই এ খুনে রহস্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের ধরার জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

ভালুকায় চাঞ্চল্যকর মহসিন হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেফতার ৪

 ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি 
১৩ মার্চ ২০২০, ০২:৩৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
ভালুকায় চাঞ্চল্যকর মহসিন হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ৪
নিহত ব্যবসায়ী মহসিন সরকার।

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ঝালপাঁজা গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী মহসিন সরকার (৫২) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে সিআইডি পুলিশের ময়মনসিংহ বিভাগের বিশেষ টিম।

এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করেছেন তারা।

গ্রেফতাররা হলেন- ফারুক, সাঈম,  রাজিব ও মোশারফ হোসেন।

গ্রেফতারকৃতরা ইতিমধ্যে আদালতে এ খুনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে পুরো ঘটনা প্রকাশ করেছেন।

ঘাতকদের দেয়া জবানবন্দির ভিত্তিতে সিআইডি পুলিশ সূত্রে জানায়, মহসিন সরকারের বাড়িতে একটি তক্ষত থাকত। ওই এলাকার বাবুল মিয়ার ছেলে আদিল তক্ষতের বিষয়টি রাজিবকে জানায়। রাজিব বিষয়টি রুবেল ও আক্তার হোসেনকে জানায়।  এর পর তারা সবাই মিলে পরিকল্পনা করে মহসিনের বাড়ির তক্ষতটি তারা ধরে নিয়ে কোটি টাকায় বিক্রি করবে।  

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘটনার রাতে (৩ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়) মহসিনের ঘরের জানালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তক্ষত ধরতে ব্যর্থ হয় তারা। ওই রাতে ১১টার দিকে তারা আবার মহসিনের বাড়িতে গিয়ে  তক্ষত খোঁজাখুঁজির চেষ্টা করে।

কিন্তু এ সময় তারা মহসিনের কাছে ধরা পড়ে যায়। এদের একজনকে চিনে ফেলেন মহসিন। মহসিন বিছানার নিচ থেকে রামদা বের করে চোরদের ওপর হামলা করলে ফারুক, সাঈম, রুবেল ও আক্তার মহসিনকে ঝাপটে ধরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে দুই পাশ থেকে টান দিয়ে ধরে। ঘটনাস্থলেই মহসিন মারা যান।  এ ঘটনার সময় রাজিব ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে পাহারা দিচ্ছিলেন।

খুনের পর ঘাতকরা মহসিনের ট্রাংক ভেঙে দুটি মোবাইল সেট, একটি কাশার বাটি ও একটি সেমাইয়ের মেশিন লুট করে নিয়ে যায়।

ঘটনার পর দিন (৪ অক্টোবর) দুপুরে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় বসতঘরের খাট থেকে মহসিন সরকারের লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায় মডেল থানা পুলিশ।

সিআইডি পুলিশ সূত্র জানায়, নিহতের ঘর থেকে চুরি হওয়া দুটি মোবাইল সেট উদ্ধারের পরই ঘটনার জট খুলে। কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের বাসিন্দা মাহবুব হকের কাছ থেকে মোবাইল সেট দুটি উদ্ধার করা হয়।  

মাহবুব সেট দুটি পান তার ছোট ভাই জুবাইরের মাধ্যমে।  জুবাইয়ের জানান, ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা গ্রামের মৃত ইয়াদ আলীর ছেলে ফারুকের কাছ থেকে মোবাইল সেট ক্রয় করেন তিনি।  সেই সূত্র ধরে ভালুকার সিডস্টোর বাজারের একটি ওয়েল্ডিংয়ের দোকানের কর্মচারী ফারুককে আটক করে পুলিশ।

সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার শওকত আলম পিপিএম বলেন, ‘গত ১০ মার্চ রাতে ফারুক (২৪) ও উপজেলা বড়চালা গ্রামের ছফির উদ্দিনের ছেলে সাঈমকে (২০) আটক করি আমরা। তাদের জবানবন্দির পরিপ্রেক্ষিতে পর দিন হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে উপজেলার ঝালাপাঁজা গ্রামের মুস্তু মিয়ার ছেলে রাজিব (২৩) ও উপজেলার শিরিরচালা গ্রামের মৃত ওয়াহেদ আলীর ছেলে মোশারফ হোসেনকে (৩৫)  আটক করা হয়।’  


পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে আটক চারজনই মহসিন সরকার হত্যায় জড়িত বলে জবানবন্দি দেয়।

এদিকে নিহতের স্ত্রী পারভীন আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের নামে করা হত্যা মামলায় গ্রেফতার হন নিহতের ছোট ভাই ঝালপাঁজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রমজান আলী।


এদিকে মামলার বাদী পারভীন আক্তার বলছেন ভিন্নকথা।  তক্ষতের কারণে নয়, পারিবারিক অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণেই তার স্বামী খুন হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘গত দুই মাস আগে রুবেল নামে আরও একজনকে সিআইডি পুলিশ অ্যারেস্ট দেখিয়ে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। রিমান্ডে থাকাবস্থায় আমার স্বামীর খুনের ঘটনায় জড়িত বলে জবানবন্দিও দেয় রুবেল। সেই জবানবন্দির ভিডিও অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার খন্দকার ছাইদ আহাম্মদ আমাকে দেখিয়েছেন।  অথচ সেই রুবেলকে এ মামলায় অন্তর্ভুক্তি না করে চার্জশিট দেয়ার চেষ্টা চলছে।  ’

পারিবারিক অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণে মহসিন খুন হয়েছে দাবি করে পারভীন আক্তার বলেন, ‘সম্প্রতি আমার দেবর রমজান আলী বেশ কিছু জমি বিক্রি করেছেন। সেই জমিতেও আমাদের মালিকানা রয়েছে। জমি বিক্রির টাকা দিয়ে সে মামলা থেকে পার পাওয়ার চেষ্টা করছেন।  তক্ষতের ঘটনায় আমার স্বামী খুন হতে পারে না। কারণ এ তক্ষত আমার বাড়িতে প্রায় ১০ বছর ধরে বসবাস করছে।’

মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা (এসআই) জিয়াউর রহমান বলেন, ‘লুণ্ঠিত মোবাইলের সূত্রে ধরেই এ খুনে রহস্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের ধরার জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন