১০ হাজার টাকার চুক্তিতে পুলিশ সদস্য শরীফকে হত্যা
jugantor
১০ হাজার টাকার চুক্তিতে পুলিশ সদস্য শরীফকে হত্যা

  গাজীপুর প্রতিনিধি  

১৫ মার্চ ২০২০, ২৩:৪৬:৪৫  |  অনলাইন সংস্করণ

গত ৪ মার্চ গাজীপুর মহানগরীর ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের গেটের সামনে থেকে অজ্ঞাত যুবকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ৮ মার্চ বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে ওই লাশ পৌর গোরস্থানে দাফন করা হয়।

পরবর্তীতে ১২ মার্চ নিহত যুবকের পরিচয় সনাক্ত করা হয়। নিহত মো. শরীফ আহামেদ (৩৩) ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার ঝিলকি এলাকার মো. আলাউদ্দিন ফকিরের ছেলে। তিনি গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) ট্রাফিক দক্ষিণ বিভাগে কর্মরত কনস্টেবল ছিলেন। নিহতের বাবা আলাউদ্দিন হোসেনও একজন পুলিশ সদস্য।

পূর্ব শত্রুতার জের ধরে শরীফ আহামেদকে হত্যা করতে ১০ হাজার টাকায় খুনিদের সঙ্গে চুক্তি করে মোফাজ্জল এবং মনির নামে দুইজন।

র‌্যাব জানতে পারেন এ ঘটনায় ১৪ মার্চ র‌্যাব-১ এর সদস্যরা হত্যাকাণ্ডের মূলহোতাসহ ৩ খুনি গাজীপুরের শ্রীপুরের গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ী এলাকায় আত্মগোপনে রয়েছে। পরে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে ময়মনসিংহ জেলার আবদুল মালেকের ছেলে মো. মোফাজ্জল হোসেন (২৮), একই জেলার মৃত জবান আলীর ছেলে মো. মাসুদ মিয়া (২৫) ও নেত্রকোনা জেলার মো. আবদুল করিমের ছেলে মনির হোসেনকে (৩০) গ্রেফতার করে র‌্যাব সদস্যরা।

তাদের দেয়া তথ্যমতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত তাকওয়া পরিবহনের ১টি বাস, গাড়ির রক্তমাখা হুইল রেঞ্জ, ১টি চাকু এবং ভিকটিমের ৩টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, নিহত পুলিশ কনস্টেবল শরীফর সাথে মোফাজ্জল ও তাকওয়া বাসের চালক মনিরের পূর্ব পরিচয় ছিল। কিছুদিন পূর্বে তাদের দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। ওই দ্বন্দ্বের জেরে মোফাজ্জল এবং মনির দুজনে শরীফকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

আটককৃত মোফাজ্জলের পরিকল্পনা অনুযায়ী ১ মার্চ কনস্টেবল শরীফকে খুন করার জন্য মোফাজ্জল তার ময়মনসিংহের গ্রামের বাড়ীর দু:সম্পর্কের আত্মীয় কুখ্যাত ভাড়াটে খুনি মাসুদকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে খুনের চুক্তিতে ভাড়া করে এবং তাকে অগ্রিম ৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। ২ মার্চ খুনের চুক্তি অনুযায়ী তারা মাসুদকে গাজীপুরে নিয়ে আসে এবং মনিরের বাসায় বসে হত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ৩ মার্চ দুপুরে তাকওয়া বাসের ড্রাইভার মনির ৯৯ টাকার মার্কেট থেকে একটি চাকু ক্রয় করে। ৩ মার্চ রাত সাড়ে ১১ ঘটিকায় মোফাজ্জল কৌশলে নিহত কনস্টেবল শরীফকে ভোগড়া বাইপাস এলাকায় নিয়ে আসার পর তাকে তাকওয়া পরিবহনে ওঠায়। মনির হোসেন বাসটিকে চালিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডে শ্রীপুরের মাওনার উদ্দেশ্যে রওনা হয় এবং জয়দেবপুরের ভবানীপুর বাজার থেকে ইউটার্ন নিয়ে পুনরায় চান্দনা চৌরাস্তার দিকে যেতে থাকে।

পথিমধ্যে চলন্ত বাসের ভিতর পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা বাসের দরজা-জানালা বন্ধ করে দেয়। আনুমানিক রাত দেড়টার দিকে বাসটি হোতাপাড়া আসার পর মাসুদ বাসে থাকা লোহার হুইল রেঞ্জ দিয়ে শরীফের পিছন থেকে মাথায় আঘাত করে। এতে শরীফ অজ্ঞান হয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে।

পরে মোফাজ্জল ও মাসুদ মিলে নাইলনের রশি দিয়ে শরীফের দুই হাত বেঁধে বুকের উপর বসে ধারালো চাকু দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর নিহত শরীফের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন, টাকা-পয়সা ৩ জনে ভাগাভাগি করে নেয় এবং রাত ২টার দিকে ন্যাশনাল পার্কের ৪নং গেটের সামনে বাসটি থামিয়ে লাশটি রাস্তার পার্শ্বে ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়।

পালিয়ে যাওয়ার সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা চাক রাস্তার পার্শ্বে ন্যাশনাল পার্কের ঝোপে ফেলে দেয়। পরে তারা বাসন এলাকায় একটি সিএনজি পাম্পের পানি দিয়ে গাড়ির রক্ত ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করে। তাদের রক্ত মাখা জামা-কাপড় পলিথিন ব্যাগে করে গাড়ির টুলবক্সের ভিতর রেখে দেয় এবং মনিরের নাওজোরস্থ ভাড়া বাসায় গোসল করে রাতের খাবার খেয়ে একত্রে রাত্রিযাপন করে।

১০ হাজার টাকার চুক্তিতে পুলিশ সদস্য শরীফকে হত্যা

 গাজীপুর প্রতিনিধি 
১৫ মার্চ ২০২০, ১১:৪৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

গত ৪ মার্চ গাজীপুর মহানগরীর ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের গেটের সামনে থেকে অজ্ঞাত যুবকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ৮ মার্চ বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে ওই লাশ পৌর গোরস্থানে দাফন করা হয়।

পরবর্তীতে ১২ মার্চ নিহত যুবকের পরিচয় সনাক্ত করা হয়। নিহত মো. শরীফ আহামেদ (৩৩) ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার ঝিলকি এলাকার মো. আলাউদ্দিন ফকিরের ছেলে। তিনি গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) ট্রাফিক দক্ষিণ বিভাগে কর্মরত কনস্টেবল ছিলেন। নিহতের বাবা আলাউদ্দিন হোসেনও একজন পুলিশ সদস্য।

পূর্ব শত্রুতার জের ধরে শরীফ আহামেদকে হত্যা করতে ১০ হাজার টাকায় খুনিদের সঙ্গে চুক্তি করে মোফাজ্জল এবং মনির নামে দুইজন।

র‌্যাব জানতে পারেন এ ঘটনায় ১৪ মার্চ র‌্যাব-১ এর সদস্যরা হত্যাকাণ্ডের মূলহোতাসহ ৩ খুনি গাজীপুরের শ্রীপুরের গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ী এলাকায় আত্মগোপনে রয়েছে। পরে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে ময়মনসিংহ জেলার আবদুল মালেকের ছেলে মো. মোফাজ্জল হোসেন (২৮), একই জেলার মৃত জবান আলীর ছেলে মো. মাসুদ মিয়া (২৫) ও নেত্রকোনা জেলার মো. আবদুল করিমের ছেলে মনির হোসেনকে (৩০) গ্রেফতার করে র‌্যাব সদস্যরা।

তাদের দেয়া তথ্যমতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত তাকওয়া পরিবহনের ১টি বাস, গাড়ির রক্তমাখা হুইল রেঞ্জ, ১টি চাকু এবং ভিকটিমের ৩টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, নিহত পুলিশ কনস্টেবল শরীফর সাথে মোফাজ্জল ও তাকওয়া বাসের চালক মনিরের পূর্ব পরিচয় ছিল। কিছুদিন পূর্বে তাদের দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। ওই দ্বন্দ্বের জেরে মোফাজ্জল এবং মনির দুজনে শরীফকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

আটককৃত মোফাজ্জলের পরিকল্পনা অনুযায়ী ১ মার্চ কনস্টেবল শরীফকে খুন করার জন্য মোফাজ্জল তার ময়মনসিংহের গ্রামের বাড়ীর দু:সম্পর্কের আত্মীয় কুখ্যাত ভাড়াটে খুনি মাসুদকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে খুনের চুক্তিতে ভাড়া করে এবং তাকে অগ্রিম ৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। ২ মার্চ খুনের চুক্তি অনুযায়ী তারা মাসুদকে গাজীপুরে নিয়ে আসে এবং মনিরের বাসায় বসে হত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ৩ মার্চ দুপুরে তাকওয়া বাসের ড্রাইভার মনির ৯৯ টাকার মার্কেট থেকে একটি চাকু ক্রয় করে। ৩ মার্চ রাত সাড়ে ১১ ঘটিকায় মোফাজ্জল কৌশলে নিহত কনস্টেবল শরীফকে ভোগড়া বাইপাস এলাকায় নিয়ে আসার পর তাকে তাকওয়া পরিবহনে ওঠায়। মনির হোসেন বাসটিকে চালিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডে শ্রীপুরের মাওনার উদ্দেশ্যে রওনা হয় এবং জয়দেবপুরের ভবানীপুর বাজার থেকে ইউটার্ন নিয়ে পুনরায় চান্দনা চৌরাস্তার দিকে যেতে থাকে।

পথিমধ্যে চলন্ত বাসের ভিতর পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা বাসের দরজা-জানালা বন্ধ করে দেয়। আনুমানিক রাত দেড়টার দিকে বাসটি হোতাপাড়া আসার পর মাসুদ বাসে থাকা লোহার হুইল রেঞ্জ দিয়ে শরীফের পিছন থেকে মাথায় আঘাত করে। এতে শরীফ অজ্ঞান হয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে।

পরে মোফাজ্জল ও মাসুদ মিলে নাইলনের রশি দিয়ে শরীফের দুই হাত বেঁধে বুকের উপর বসে ধারালো চাকু দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর নিহত শরীফের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন, টাকা-পয়সা ৩ জনে ভাগাভাগি করে নেয় এবং রাত ২টার দিকে ন্যাশনাল পার্কের ৪নং গেটের সামনে বাসটি থামিয়ে লাশটি রাস্তার পার্শ্বে ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়।

পালিয়ে যাওয়ার সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা চাক রাস্তার পার্শ্বে ন্যাশনাল পার্কের ঝোপে ফেলে দেয়। পরে তারা বাসন এলাকায় একটি সিএনজি পাম্পের পানি দিয়ে গাড়ির রক্ত ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করে। তাদের রক্ত মাখা জামা-কাপড় পলিথিন ব্যাগে করে গাড়ির টুলবক্সের ভিতর রেখে দেয় এবং মনিরের নাওজোরস্থ ভাড়া বাসায় গোসল করে রাতের খাবার খেয়ে একত্রে রাত্রিযাপন করে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন