প্রতিষ্ঠার ৯ বছর পর সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু

  কিশোরগঞ্জ ব্যুরো ১৭ মার্চ ২০২০, ২১:১৫:২৫ | অনলাইন সংস্করণ

প্রতিষ্ঠার ৯ বছর পর সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু

প্রতিষ্ঠার ৯ বছর পর মুজিববর্ষের প্রথম দিনে কিশোরগঞ্জে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হল কিশোরগঞ্জের একমাত্র সরকারি মেডিকেল কলেজ।

বঙ্গবন্ধুর একনিষ্ঠ সহকর্মী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দুর্দিনের কাণ্ডারি হিসেবে পরিচিত শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামের নামে প্রতিষ্ঠিত এ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল উদ্বোধন করা হয়।

কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামের কন্যা প্রয়াত জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের ছোট বোন ডা. সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে হাসপাতালটির উদ্বোধন করেন।

এর আগে গত ১৫ আগস্ট সীমিতভাবে এ হাসপাতালের বহির্বিভাগের কার্যক্রম চালু হলেও জরুরি বিভাগসহ অন্যান্য বিভাগ বন্ধ ছিল।

কিশোরগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নের এ সরকারি হাসপাতালটিতে মঙ্গলবার থেকে মেডিসিন, সার্জারি, গাইনি, শিশু, চক্ষু, কার্ডিওলজিসহ ৯টি বিভাগ চালু হল।

কিশোরগঞ্জের বীর সন্তান, মুক্তিযুদ্ধ পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে দীর্ঘদিন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী, মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামের নামে স্থাপিত ৫০০ শয্যার এ হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হওয়ায় কিশোরগঞ্জবাসী নিজ শহরেই উন্নত চিকিৎসাসেবার সুযোগ পেল।

হাসপাতালটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে জেলা প্রশাসক সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী, পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ, হাসপাতালের পরিচালক ডা. সৈয়দ মনজুরুল হক, উপ-পরিচালক ডা. হেলাল উদ্দিন, পৌর মেয়র মাহমুদ পারভেজ, সিভিল সার্জন ডা. মুজিবুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি কামরুল আহসান শাহজাহান, সাধারণ সম্পাদক এমএ আফজল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বিসিবির ঢাকা বিভাগীয় পরিচালক সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম টিটি, বিএমএ সভাপতি ডা. মাহবুব ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক ডা. আবদুল ওয়াহাব বাদল, কিশোরগঞ্জ ২০৫ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সুলতানা রাজিয়া, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মো. আসাদ উল্লাহ এবং কর্তব্যরত শিক্ষক চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র আসিফ শফিক জানান, বেশ কয়েকবার তারিখ পরিবর্তনের ৯ বছর পর হাসপাতালটি চালু হওয়ায় এলাকাবাসীর মতো আমরাও খুশি হয়েছি। এতদিন শিক্ষার্থীরা প্রায় দুই কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ২৫০ শয্যার কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে ব্যবহারিক ক্লাসগুলো করতাম। এতে আমাদের বাড়তি সময় ব্যয় ও বাড়তি চাপ থাকতো। এ ছাড়া সেখানে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও উপকরণ সংকটে ভুগতে হতো। এখন নিজের ক্যাম্পাসে ব্যবহারিক ক্লাসসহ উপযুক্ত ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশে আমরা রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে পারব।

মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামের নামে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বীর দামপাড়া গ্রামের তার নিজ বাড়ির কাছে শহরতলীর যশোদলে ২০ একর ৮৩ শতাংশ জমিতে মেডিকেল কলেজটি স্থাপন করা হয়। এতে নির্মাণ ব্যয় হয় ৫০০ কোটি টাকা। দেশের এ দ্বিতীয় বৃহত্তম মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থীদের এবার নবম ব্যাচের যাত্রা চলছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, হাসপাতালটি শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করলেও সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, চিকিৎসকসহ বিপুল জনবল সংকট রয়েছে। এখনও ১১৬ জন চিকিৎসক-কর্মকর্তার মধ্যে পদ শূন্য রয়েছে ৭৩ জনের। ১৬৫ জন নার্সের মধ্যে মাত্র ৫৮ জন নার্স রয়েছেন।

কর্তৃপক্ষের দাবি ইতিমধ্যে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ১০৩ জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

এমন জনবল সংকট নিয়ে এ হাসপাতালটির যাত্রা শুরু হল যেখানে পাঁচতলা হাসপাতাল ভবনের ২২টি লিফট অপারেটরের জন্য লোকবল এখনো পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া ২০টি অপারেশন থিয়েটারের অধিকাংশ এখনও যন্ত্রপাতিহীন রয়েছে। মাত্র চারটি অপারেশন থিয়েটার নিয়েই শুরু হবে অস্ত্রোপচার কার্যক্রম। হাসপাতালের প্রিজনস সেল, স্থায়ী পুলিশ ও আনসার ক্যাম্প স্থাপন কাজও এখনও অসম্পন্ন রয়েছে।

সূত্র মতে, ২০১৯ সালের ১৫ আগস্ট সীমিতভাবে হাসপাতালটির বহির্বিভাগের কার্যক্রম শুরু হয়। অপরদিকে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জরুরি বিভাগসহ অন্যান্য বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ ছিল। তবে একাডেমিক ভবন, দুটি ছাত্রাবাস, দুটি ইন্টার্ন ডরমিটরি, নার্স-কর্মচারীদের স্টাফ কোয়ার্টার, ট্রেনিং সেন্টার, জিমনেশিয়ামসহ শিক্ষা কার্যক্রমের প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত হয়েছে। এখনও পরিচালক, উপ-পরিচালক, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক-শিক্ষকদের কোয়ার্টারগুলোর কাজ চলছে।

শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. সৈয়দ মঞ্জুরুল হক যুগান্তরকে বলেন, চিকিৎসক-নার্সসহ অন্যান্য যে লোকবল রয়েছে, তা কোনক্রমেই যথেষ্ট নয়। জনবল সংকট নিরসনে চাহিদাপত্র দেয়া হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে।

ঘটনাপ্রবাহ : মুজিববর্ষ

আরও
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত