মদনে বাঁ-হাত ভাঙ্গা শিশুর প্লাস্টার হল ডান হাতে
jugantor
মদনে বাঁ-হাত ভাঙ্গা শিশুর প্লাস্টার হল ডান হাতে

  মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি  

১৭ মার্চ ২০২০, ২২:৫৮:২৫  |  অনলাইন সংস্করণ

মায়ের কোলে শিশু ইমা আক্তার

নেত্রকোনার মদনে বাঁ-হাত ভেঙে যাওয়া দুই বছরের ওই শিশুর ডান হাতে প্লাস্টার করে বসলেন চিকিৎসক। নেত্রকোনার মদন উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মঙ্গলবার চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটে।

এ ব্যাপারে শিশুটির বাবা ইদুচাঁন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওই চিকিৎসকের বিচার চেয়ে স্বাস্থ্য প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

দুই বছরের ওই শিশুটির নাম ইমা আক্তার। সে মদন উপজেলার মদন দক্ষিণপাড়া গ্রামের ইদুচাঁনের শিশু কন্যা।

বসতঘরের খাট থেকে মাটিতে পড়ে ইমার বাঁ-হাতটি ভেঙ্গে যায়। হাতে ব্যথা অনুভব করলে শিশুটির মা তাসলিমা আক্তার মঙ্গলবার শিশুটিকে মদন হাসপাতালে নিয়ে যান।

একটি ক্লিনিকে এক্স-রে করে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মিরাজুল ইসলাম মিরাজকে দেখান। মিরাজুল ইসলাম মিরাজ রোগীকে সঠিকভাবে না দেখেই ভুলে ইমা আক্তারের ভাঙ্গা বাঁ-হাত রেখে ডান হাত প্লাস্টার করে বসেন।

প্লাস্টার সেরে ইমাকে বাড়ি নিয়ে যায় মা তাসলিমা আক্তার। বাড়িতে গেলেই শিশুটির ব্যথার যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে দেখে তারা আবার শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। বাঁ-হাতে ভাঙ্গা ডান হাতে প্লাস্টার করছেন কেন বললে তিনি আবার নতুন আরেকটি প্লাস্টার করার জন্য বলেন।

শিশুটির মা তাসলিমা আক্তার বলেন, আমি অনেকবার বলার চেষ্টা করেছিলাম, আমার মেয়েকে ভুল হাতে প্লাস্টার করা হচ্ছে। কিন্তু তিনি আমার কথায় কোনো গুরুত্বই দিলেন না। মেয়েটিকে বাড়ি নিয়ে গেলে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। ফলে আবার হাসপাতালে নিয়ে আসি। তিনি নতুন আরেকটি এক্স-রে দেন এবং বাঁ-হাত খোলে ডান হাতে প্লাস্টার করেন।

চিকিৎসকের কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করে শিশুটির বাবা ইদুচাঁন বলেন, এটা গাফিলতির চরম পর্যায়। এমনকি হাসপাতাল থেকে আমাদের একটা ট্যাবলেটও দেয়া হয়নি। আমি একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। এ ঘটনার তদন্তের দাবি করছেন তিনি।

উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মিরাজুল ইসলাম মিরাজ জানান, তারা আমাকে না বলে এক্স-রে করে নিয়ে এসেছে। শিশুটির ডান হাতে ধরতেই ব্যথা অনুভব করায় তার এ হাতেই প্লাস্টার করে দিয়ে ছিলাম। কিন্তু এক্স-রেতে কোন্ হাতে ব্যথা হয়েছে তা লেখা ছিল না। ফলে ভুলটি হয়েছে। আবার নতুন করে এক্স-রে নিয়ে প্লাস্টার করে দিয়েছি।

স্বাস্থ্য প্রশাসক ডা. ফখরুল হাসান চৌধুরী টিপু জানান, এমন ভুল খুবই দুঃখজনক। তবে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মদনে বাঁ-হাত ভাঙ্গা শিশুর প্লাস্টার হল ডান হাতে

 মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি 
১৭ মার্চ ২০২০, ১০:৫৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
মায়ের কোলে শিশু ইমা আক্তার
মায়ের কোলে শিশু ইমা আক্তার

নেত্রকোনার মদনে বাঁ-হাত ভেঙে যাওয়া দুই বছরের ওই শিশুর ডান হাতে প্লাস্টার করে বসলেন চিকিৎসক। নেত্রকোনার মদন উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মঙ্গলবার চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটে।

এ ব্যাপারে শিশুটির বাবা ইদুচাঁন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওই চিকিৎসকের বিচার চেয়ে স্বাস্থ্য প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

দুই বছরের ওই শিশুটির নাম ইমা আক্তার। সে মদন উপজেলার মদন দক্ষিণপাড়া গ্রামের ইদুচাঁনের শিশু কন্যা।

বসতঘরের খাট থেকে মাটিতে পড়ে ইমার বাঁ-হাতটি ভেঙ্গে যায়। হাতে ব্যথা অনুভব করলে শিশুটির মা তাসলিমা আক্তার মঙ্গলবার শিশুটিকে মদন হাসপাতালে নিয়ে যান।

একটি ক্লিনিকে এক্স-রে করে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মিরাজুল ইসলাম মিরাজকে দেখান। মিরাজুল ইসলাম মিরাজ রোগীকে সঠিকভাবে না দেখেই ভুলে ইমা আক্তারের ভাঙ্গা বাঁ-হাত রেখে ডান হাত প্লাস্টার করে বসেন।

প্লাস্টার সেরে ইমাকে বাড়ি নিয়ে যায় মা তাসলিমা আক্তার। বাড়িতে গেলেই শিশুটির ব্যথার যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে দেখে তারা আবার শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। বাঁ-হাতে ভাঙ্গা ডান হাতে প্লাস্টার করছেন কেন বললে তিনি আবার নতুন আরেকটি প্লাস্টার করার জন্য বলেন।

শিশুটির মা তাসলিমা আক্তার বলেন, আমি অনেকবার বলার চেষ্টা করেছিলাম, আমার মেয়েকে ভুল হাতে প্লাস্টার করা হচ্ছে। কিন্তু তিনি আমার কথায় কোনো গুরুত্বই দিলেন না। মেয়েটিকে বাড়ি নিয়ে গেলে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। ফলে আবার হাসপাতালে নিয়ে আসি। তিনি নতুন আরেকটি এক্স-রে দেন এবং বাঁ-হাত খোলে ডান হাতে প্লাস্টার করেন।

চিকিৎসকের কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করে শিশুটির বাবা ইদুচাঁন বলেন, এটা গাফিলতির চরম পর্যায়। এমনকি হাসপাতাল থেকে আমাদের একটা ট্যাবলেটও দেয়া হয়নি। আমি একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। এ ঘটনার তদন্তের দাবি করছেন তিনি।

উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মিরাজুল ইসলাম মিরাজ জানান, তারা আমাকে না বলে এক্স-রে করে নিয়ে এসেছে। শিশুটির ডান হাতে ধরতেই ব্যথা অনুভব করায় তার এ হাতেই প্লাস্টার করে দিয়ে ছিলাম। কিন্তু এক্স-রেতে কোন্ হাতে ব্যথা হয়েছে তা লেখা ছিল না। ফলে ভুলটি হয়েছে। আবার নতুন করে এক্স-রে নিয়ে প্লাস্টার করে দিয়েছি।

স্বাস্থ্য প্রশাসক ডা. ফখরুল হাসান চৌধুরী টিপু জানান, এমন ভুল খুবই দুঃখজনক। তবে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন