সেই আরডিসি নাজিমের ঘুষ বাণিজ্য নিয়ে কক্সবাজারে সমালোচনার ঝড়

  কক্সবাজার প্রতিনিধি ১৭ মার্চ ২০২০, ২৩:০৫:৪৪ | অনলাইন সংস্করণ

কুড়িগ্রাম জেলার সাংবাদিক নির্যাতনকারী রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (আরডিসি) কক্সবাজারের সাবেক এসিল্যন্ড মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিনকে নিয়ে কক্সবাজারে আবারো সমালোচনার ঝড় ওঠেছে।

তার দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য ও অসদাচরণসহ বেপরোয়া বিচরণ নিয়ে নতুন করে সামাজিক যোগাযোগ ও কক্সবাজারের স্থানীয় গণমাধ্যমে আবারো নতুন করে বিতর্কের জন্ম নিয়েছে।

যশোরের বাসিন্দা বিসিএস-৩৩ ব্যাচের এই কর্মকর্তা কক্সবাজারে যোগ দিয়েছিলেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার, ভূমি (এসিল্যান্ড) হিসাবে।

২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে কক্সবাজারে দায়িত্ব নিয়েই তিনি জড়িয়ে পড়েছিলেন একের পর এক বিতর্কিত কাজে। এমনকি কক্সবাজারে দায়িত্ব পালনকালে বহু নানা কর্মকাণ্ডের জন্ম দিয়ে পুরো সময়জুড়ে ছিলেন বিতর্কের শীর্ষে!

পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত লেগে থাকত ভুয়া খতিয়ান তৈরি, খাস জমি উদ্ধারের নামে অভিযানের হুমকি দিয়ে মোটা অংকের অর্থ আদায়, নগদ টাকায় নামজারি খতিয়ান প্রদানসহ আরও অনেক অভিযোগ।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে কক্সবাজারের স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরে ওই সংবাদের কারণে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিককে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজা দেয়াসহ ঘরবাড়ি উচ্ছেদেরও হুমকি দেয়।

পরে উক্ত সংবাদের জেরে এবং অভিযানের নামে সাধারণ মানুষকে মারধরসহ নানা অভিযোগে সাবেক এসিল্যান্ড নাজিম উদ্দিনকে শাস্তিমূলকভাবে বদলি করা হয়েছিল পার্বত্য রাঙ্গামাটি জেলার লংগদু উপজেলায়। সেখান থেকে তিনি বদলি হয়ে যোগ দেন কুড়িগ্রাম জেলায়। কুড়িগ্রামে সাংবাদিক নির্যাতনে নেতৃত্ব দিয়ে এবার তিনি দেশজুড়ে আলোচনায় এসেছেন।

নির্যাতনের শিকার সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগ্যান জামিন পাওয়ার পর গণমাধ্যমে দেয়া বক্তব্যে তিনি বলেছেন, তাকে নির্যাতনে নেতৃত্ব দিয়েছেন কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের আরডিসি নাজিম উদ্দিন। শুধু তাই নয়, সাংবাদিক রিগ্যানকে নাজিম উদ্দিন ব্যাপক মারধর করেছেন। এছাড়াও অকথ্য গালাগালও করেছেন।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীনের নির্দেশে সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগানকে নির্মম নির্যাতন ও আইনের ‘অপব্যবহার’ করে এক বছরের জেল দেয়া ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে। সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনার সঙ্গে কক্সবাজারের সাবেক এসিল্যান্ড নাজিম উদ্দিন অগ্রভাগের থাকার খবর চাওর হলে কক্সবাজারে এখন তাকে নিয়েই বেশ সমালোচনা চলছে।

এরপর থেকেই কক্সবাজারে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের যেন লেখালেখির এক দারুণ খোরাক হয়ে পড়েছে। ফেসবুক-সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীনের চেয়েও আরডিসি নাজিম উদ্দিনের নানা কুকীর্তিই সবচেয়ে বেশি ভাইরাল হয়ে পড়েছে।

এমনকি কক্সবাজারে সেই এসিল্যান্ড নাজিম উদ্দিন কর্তৃক পর্যটন এলাকার দরিয়ানগরের নওফর আলী নামের এক বৃদ্ধকে জামার কলার ধরে টেনে-হিঁচড়ে আনার সেই ছবি ফেসবুকসহ সামাজিক মাধ্যমে আবার পোস্ট করেছে স্থানীয় সচেতন লোকজন। বিশেষ করে নাজিম উদ্দিনের হাতে লাঞ্ছিত, ক্ষতিগ্রস্ত এবং তার ওপর সংক্ষুব্ধ লোকজন নিন্দা জানিয়ে পোস্ট করছেন।

একই সঙ্গে তাকে ধিক্কার জানানো হচ্ছে। ফেসবুক ব্যবহারকারীদের অনেকে বলছেন-‘কয়লা ধুইলেও ময়লা যায় না’।

কক্সবাজারের সচেতন লোকজন বলছেন, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের আগে শুদ্ধাচারসহ সব ধরনের প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়। কিন্তু নাজিম উদ্দিনের মধ্যে সেই প্রশিক্ষণলব্ধ শুদ্ধাচার (ভদ্রতা) ছিল না। তিনি সব সময় নিজেকে মাস্তানের ভূমিকায় রাখতেন।

অভিযানে গিয়ে এক বৃদ্ধ নওফর আলীকে জামার কলার ধরে টেনে-হিঁচড়ে নির্যাতনের একটি ঘটনা ব্যাপক সমালোচনা জন্ম দিয়েছিল। তার এসব আচরণের কারণে খোদ জেলা প্রশাসকসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা বিব্রত ও ক্ষুব্ধ ছিলেন।

এছাড়াও কক্সবাজারে দায়িত্ব পালনকালে ভূমি অফিসে অনিয়ম-দুর্নীতি, সেবাপ্রার্থী এবং সাধারণ মানুষকে মারধর, গালাগালসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি। এক পর্যায়ের তা সীমা অতিক্রম করে। ফলে ভুক্তভোগীরা প্রকাশ্যে তার বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদের ঝড় তুলে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দফতরে অভিযোগ করে একাধিক ভুক্তভোগি। এসব অপকর্মের কারণে তৎকালীন এসিল্যান্ড নাজিম উদ্দিনকে স্ট্যান্ড রিলিজ করে রাঙামাটির দুর্গম উপজেলা লংগদুতে বদলি করা হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার মধ্যরাতে কুড়িগ্রামে সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগ্যানের বাড়িতে হানা দিয়ে তাকে মারধর করে তুলে নিয়ে যায় নাজিম। তার বাসায় আধা বোতল মদ ও ১৫০ গ্রাম গাঁজা পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ আনা হয়। এরপর গভীর রাতে জেলা প্রশাসকের অফিসে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

ঘটনাপ্রবাহ : কুড়িগ্রাম ডিসি সুলতানার কাণ্ড

আরও
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত