রাতে সাইকেল চালিয়ে আগুন নেভাতে গেলেন ইউএনও
jugantor
রাতে সাইকেল চালিয়ে আগুন নেভাতে গেলেন ইউএনও

  হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি  

২৮ মার্চ ২০২০, ২০:৩৩:৪৩  |  অনলাইন সংস্করণ

সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছেন ইউএনও

শনিবার রাত ৪টার দিকে হঠাৎ আগুন লাগে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের মাধখলা চৌরাস্তা বাজারে। ওই বাজারে কারো কাছে ফায়ার সার্ভিসের ফোন নম্বর ছিল না। পরে লোকজন ফোন দেন উপজেলা চেয়ারম্যানকে। উপজেলা চেয়ারম্যান আবার ফোনে খবরটি জানান ইউএনও শেখ মহিউদ্দিনকে।

ঘটনাটি ফায়ার সার্ভিসকে জানিয়ে যখন ঘটনাস্থলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ঠিক তখনই মনে হল গাড়ির ড্রাইভারকে এই মুহূর্তে পাওয়া যাবে না। আর কিছু না ভেবে বাসার কেয়ারটেকারকে সঙ্গে নিয়ে সাইকেল চালিয়ে অন্ধকারের মধ্যেই রওনা দেন তিনি।

চার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন ফায়ার সার্ভিসের লোকজন কাজ শুরু করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইউএনও ঘটনাস্থলে গিয়ে বসে থাকেননি। এলাকাবাসীর সঙ্গে তিনিও আগুন নেভানোর কাজে হাত দেন। লোকজনকে সহযোগিতা করেন। ঘণ্টাখানিকের চেষ্টায় বাজারের আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে পুড়ে যায় পাঁচটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। তবে রক্ষা পায় অনেক দোকানপাট।

করোনা আতঙ্ক অগ্রাহ্য করে রাতের অন্ধকারে সাইকেল চালিয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়া, আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেয়া ও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতার জন্য ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছেন ইউএনও শেখ মহিউদ্দিন।

মাধখলা গ্রামের নাদিম ভূঞা বলেন, রাতের বেলায় ইউএনও সাইকেলযোগে ঘটনাস্থলে এসে ব্যবসায়ীদের পাশে এভাবে দাঁড়াবেন তা ভাবতে পারেননি ব্যবসায়ীরা। আগুনের কারণে মন খারাপ হলেও ইউএনওর মহানুভবতায় মুগ্ধ হয়েছেন তারা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মহিউদ্দিন বলেন, ঘটনাটি উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সোহেল ফোন করে আমাকে জানান। সঙ্গে সঙ্গেই ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। কিছুক্ষণের মধ্যেই গফরগাঁও ও কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে। যেন তারা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে।

রাতে সাইকেল চালিয়ে আগুন নেভাতে গেলেন ইউএনও

 হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি 
২৮ মার্চ ২০২০, ০৮:৩৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছেন ইউএনও
সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছেন ইউএনও। ছবি: সংগৃহীত

শনিবার রাত ৪টার দিকে হঠাৎ আগুন লাগে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের মাধখলা চৌরাস্তা বাজারে। ওই বাজারে কারো কাছে ফায়ার সার্ভিসের ফোন নম্বর ছিল না। পরে লোকজন ফোন দেন উপজেলা চেয়ারম্যানকে। উপজেলা চেয়ারম্যান আবার ফোনে খবরটি জানান ইউএনও শেখ মহিউদ্দিনকে। 

ঘটনাটি ফায়ার সার্ভিসকে জানিয়ে যখন ঘটনাস্থলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ঠিক তখনই মনে হল গাড়ির ড্রাইভারকে এই মুহূর্তে পাওয়া যাবে না। আর কিছু না ভেবে বাসার কেয়ারটেকারকে সঙ্গে নিয়ে সাইকেল চালিয়ে অন্ধকারের মধ্যেই রওনা দেন তিনি। 

চার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন ফায়ার সার্ভিসের লোকজন কাজ শুরু করেছে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইউএনও ঘটনাস্থলে গিয়ে বসে থাকেননি। এলাকাবাসীর সঙ্গে তিনিও আগুন নেভানোর কাজে হাত দেন। লোকজনকে সহযোগিতা করেন। ঘণ্টাখানিকের চেষ্টায় বাজারের আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে পুড়ে যায় পাঁচটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। তবে রক্ষা পায় অনেক দোকানপাট। 

করোনা আতঙ্ক অগ্রাহ্য করে রাতের অন্ধকারে সাইকেল চালিয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়া, আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেয়া ও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতার জন্য ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছেন ইউএনও শেখ মহিউদ্দিন।

মাধখলা গ্রামের নাদিম ভূঞা বলেন, রাতের বেলায় ইউএনও সাইকেলযোগে ঘটনাস্থলে এসে ব্যবসায়ীদের পাশে এভাবে দাঁড়াবেন তা ভাবতে পারেননি ব্যবসায়ীরা। আগুনের কারণে মন খারাপ হলেও ইউএনওর মহানুভবতায় মুগ্ধ হয়েছেন তারা। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মহিউদ্দিন বলেন, ঘটনাটি উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সোহেল ফোন করে আমাকে জানান। সঙ্গে সঙ্গেই ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। কিছুক্ষণের মধ্যেই গফরগাঁও ও কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। 

তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে। যেন তারা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন