হাসপাতালে ঠাঁই হল না, ভ্যানেই সন্তান প্রসব
jugantor
হাসপাতালে ঠাঁই হল না, ভ্যানেই সন্তান প্রসব

  রাজশাহী ব্যুরো  

১০ এপ্রিল ২০২০, ১৯:২৯:৪৩  |  অনলাইন সংস্করণ

বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

প্রসব বেদনা নিয়ে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ছুটে গিয়েছিলেন উপজেলার বাসুপাড়া ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামের নুরুল ইসলামের স্ত্রী মাহমুদা বেগম (৩৭)।

কিন্তু ডাক্তার ও নার্স তাকে সেবা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তারা সাফ জানিয়ে দেন এই কেন্দ্রে প্রসূতির সেবার ব্যবস্থা নেই।

এ সময় স্বাস্থ্য কেন্দ্রের গেটের কাছে ভ্যানের ওপরই তীব্র প্রসব বেদনায় ছটফট করছিলেন মাহমুদা। এরপরও মাহমুদার স্বজনদের ক্লিনিকে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে কেন্দ্রের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে ভেতরে চলে যান তারা। অগত্যা ক্লিনিকে যাওয়ার পথেই নিমতলা নামক জায়গায় ভ্যানের ওপরই সন্তান প্রসব করেন এই গৃহবধূ।

গূহবধূর স্বামী নুরুল ইসলাম বলেন, বুধবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে স্ত্রীর তীব্র প্রসব বেদনা উঠে। পরে ভ্যানে করে ৭ কিমি দূরে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যাই। হাসপাতালে পৌঁছে দেখি প্রধান ফটকে তালা। স্ত্রীকে ভ্যানের ওপর রেখেই বহু ডাকাডাকির পর নার্স ও ডাক্তার বেরিয়ে আসেন।

কিন্তু তারা দু'জনই জানিয়ে দেন এখানে প্রসূতি সেবার ব্যবস্থা নেই। নরমাল ডেলিভারিও করা যাবে না। কোনো ক্লিনিকে নেয়ার পরামর্শ দিয়ে গেটে তালা লাগিয়ে দেন।

মাহমুদার অপর এক স্বজন জানান, পরে ৩ কিমি দূরের ভবানীগঞ্জ ক্লিনিকে নেয়ার জন্য রওনা দেই। কিন্তু ভ্যানের ওপরেই মাহমুদা বাচ্চা প্রসব করেন। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।


জানতে চাইলে বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. গোলাম রাব্বানী জানান, আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। কেউ অভিযোগও করেনি। তবে এমন ঘটনা যদি ঘটে থাকে সেটা খুঁজে দেখা হবে। ডিউটিরত ডাক্তার ও নার্স কেন প্রসূতিকে সেবা দেননি সেটাও তদন্ত করা হবে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ করোনা প্রকোপ শুরু হওয়ার পর থেকেই বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অধিকাংশ ডাক্তার কাজ করছেন না। একজন জুনিয়র ডাক্তার ও প্রশিক্ষণার্থী নার্স আছেন হাসপাতালে। ফলে কোনো রোগী চিকিৎসা পাচ্ছেন না।

হাসপাতালে ঠাঁই হল না, ভ্যানেই সন্তান প্রসব

 রাজশাহী ব্যুরো 
১০ এপ্রিল ২০২০, ০৭:২৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ছবি: সংগৃহীত

প্রসব বেদনা নিয়ে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ছুটে গিয়েছিলেন উপজেলার বাসুপাড়া ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামের নুরুল ইসলামের স্ত্রী মাহমুদা বেগম (৩৭)। 

কিন্তু ডাক্তার ও নার্স তাকে সেবা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তারা সাফ জানিয়ে দেন এই কেন্দ্রে প্রসূতির সেবার ব্যবস্থা নেই। 

এ সময় স্বাস্থ্য কেন্দ্রের গেটের কাছে ভ্যানের ওপরই তীব্র প্রসব বেদনায় ছটফট করছিলেন মাহমুদা। এরপরও মাহমুদার স্বজনদের ক্লিনিকে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে কেন্দ্রের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে ভেতরে চলে যান তারা। অগত্যা ক্লিনিকে যাওয়ার পথেই নিমতলা নামক জায়গায় ভ্যানের ওপরই সন্তান প্রসব করেন এই গৃহবধূ।

গূহবধূর স্বামী নুরুল ইসলাম বলেন, বুধবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে স্ত্রীর তীব্র প্রসব বেদনা উঠে। পরে ভ্যানে করে ৭ কিমি দূরে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যাই। হাসপাতালে পৌঁছে দেখি প্রধান ফটকে তালা। স্ত্রীকে ভ্যানের ওপর রেখেই বহু ডাকাডাকির পর নার্স ও ডাক্তার বেরিয়ে আসেন। 

কিন্তু তারা দু'জনই জানিয়ে দেন এখানে প্রসূতি সেবার ব্যবস্থা নেই। নরমাল ডেলিভারিও করা যাবে না। কোনো ক্লিনিকে নেয়ার পরামর্শ দিয়ে গেটে তালা লাগিয়ে দেন। 

মাহমুদার অপর এক স্বজন জানান, পরে ৩ কিমি দূরের ভবানীগঞ্জ ক্লিনিকে নেয়ার জন্য রওনা দেই। কিন্তু ভ্যানের ওপরেই মাহমুদা বাচ্চা প্রসব করেন। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

 
জানতে চাইলে বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. গোলাম রাব্বানী জানান, আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। কেউ অভিযোগও করেনি। তবে এমন ঘটনা যদি ঘটে থাকে সেটা খুঁজে দেখা হবে। ডিউটিরত ডাক্তার ও নার্স কেন প্রসূতিকে সেবা দেননি সেটাও তদন্ত করা হবে। 

এলাকাবাসীর অভিযোগ করোনা প্রকোপ শুরু হওয়ার পর থেকেই বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অধিকাংশ ডাক্তার কাজ করছেন না। একজন জুনিয়র ডাক্তার ও প্রশিক্ষণার্থী নার্স আছেন হাসপাতালে। ফলে কোনো রোগী চিকিৎসা পাচ্ছেন না।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন