কিশোরগঞ্জে শিশুর প্রতি এ কেমন নিষ্ঠুরতা
jugantor
কিশোরগঞ্জে শিশুর প্রতি এ কেমন নিষ্ঠুরতা

  কিশোরগঞ্জ ব্যুরো  

১৬ এপ্রিল ২০২০, ২২:২৪:৩৩  |  অনলাইন সংস্করণ

নির্যাতনের শিকার শিশু
নির্যাতনের শিকার শিশু। ছবি: যুগান্তর

পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত খাবার দেয়ায় তা না খেয়ে ফেলে দিয়েছিল ১০ বছর বয়সী শিশু শ্রমিক শাহ নূর (১০)। আর এ ঘটনার জেরে তার পায়ুপথে গরম ডিম ঢুকিয়ে মধ্যযুগীয় বর্বরোচিত কায়দায় নির্যাতন চালায় এক দোকান মালিক। 

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার গুণধর ইউনিয়নের গুণধর বাজারে সোমবার রাতে এ ঘটনা ঘটেছে। 

দোকান মালিক  মানিক মিয়া ওই  শিশুটিকে তার দোকান ঘরের আড়ার সঙ্গে উল্টো করে বেঁধে পায়ুপথে গরম ডিম ঢুকিয়ে পৈশাচিক নির্যাতন চালায়। 

এর আগে শিশুটির মুখে একের পর এক গরম আলু ঢুকিয়ে গামছা দিয়ে নাক-মুখ বেঁধে বেদম মারপিটও করা হয়। তবে প্রাণে মেরে ফেলার ভয় দেখানোর কারণে ঘটনাটি জানাজানি হতে অনেক সময় লাগে।

পরিবারের লোকজন শিশুটিকে বুধবার কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। 

কিন্তু হাসপাতালটিতে বর্তমানে করোনার চিকিৎসা চালু হওয়ায় তাকে সেখানে ভর্তি না করে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেন।
এ ধরনের বর্বরোচিত নির্যাতন চালানোর ঘটনার খবর পেয়ে করিমগঞ্জ থানা পুলিশ নির্যাতনকারী ব্যবসায়ী মানিক মিয়াকে আটক করেছে।

জানা গেছে, আট বছর আগে গুণধর সাহেব বাড়ির ছেলে শাখাওয়াত মিয়ার সঙ্গে শিশু শাহ নূর-এর মায়ের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এরপর থেকেই শিশুটির মা তার আরও  দুই সন্তানকে নিয়ে বিধবা বৃদ্ধ মায়ের বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন।

শিশু শাহনূর মায়ের সঙ্গে নানি বাড়িতে থেকেই একই গ্রামের খাঁ হাটির মৃত আবদুল আউয়ালের ছেলে মানিক মিয়ার দোকানে পেটে-ভাতে কাজ করত। সোমবার রাতে শিশুটিকে পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত ভাত খেতে দেয়া হয়। 

ওই দুর্গন্ধযুক্ত ভাত না খেয়ে ফেলে দেয়ায় দোকান মালিক মানিক মিয়া শিশুটির ওপর বর্বরোচিত কায়দায় এ নিষ্ঠুর নির্যাতনের পথ বেছে নেয়। 

নির্যাতনের একপর্যায়ে শিশুটি জ্ঞানও হারিয়ে ফেলে। পরে তাকে মাথায় পানি ঢেলে কিছুটা সুস্থ করে তোলা হয়। এ সময় এ ঘটনা কাউকে বললে জানে মেরে ফেলে বস্তায় ভরে তাকে নদীতে ফেলে দেয়া হবে বলে হুমকি দেয়া হয়। 

মৃত্যু ভয়ে এ ঘটনা কাউকে জানায় না সে। কিন্তু বুধবার বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের লোকজনের পীড়াপীড়িতে নির্যাতনের ঘটনা বলে দেয় সে। 

এভাবে এ বর্বরোচিত ও বীভৎস নির্যাতনের ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। 

শিশুটির নানি ষাটোর্ধ্ব বয়সী রুমু বেগম জানান,গরম ডিম ঢুকিয়ে  নির্যাতনের কারণে শিশুটির পায়ুপথের আশপাশে ফোসকা পড়ে চামড়া ঝলসে গেছে। সেখানে পোড়া ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার নির্যাতনকারী মানিক মিয়া দাবি করেন, ওই শিশুটি তার দোকান থেকে টাকা চুরি করেছিল। এ ঘটনায় কয়েকটি ছেলে তাকে এ ধরনের শাস্তি দিয়েছে। আর তিনি শুধু তাকে কয়েকটি চড় মেরেছিলেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর করিমগঞ্জ থানার ওসি মো. মমিনুল ইসলাম ওই নির্যানকারী ব্যবসায়ীকে আটকের কথা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। 

কিশোরগঞ্জে শিশুর প্রতি এ কেমন নিষ্ঠুরতা

 কিশোরগঞ্জ ব্যুরো 
১৬ এপ্রিল ২০২০, ১০:২৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
নির্যাতনের শিকার শিশু
নির্যাতনের শিকার শিশু। ছবি: যুগান্তর

পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত খাবার দেয়ায় তা না খেয়ে ফেলে দিয়েছিল ১০ বছর বয়সী শিশু শ্রমিক শাহ নূর (১০)। আর এ ঘটনার জেরে তার পায়ুপথে গরম ডিম ঢুকিয়ে মধ্যযুগীয় বর্বরোচিত কায়দায় নির্যাতন চালায় এক দোকান মালিক।

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার গুণধর ইউনিয়নের গুণধর বাজারে সোমবার রাতে এ ঘটনা ঘটেছে।

দোকান মালিক মানিক মিয়া ওই শিশুটিকে তার দোকান ঘরের আড়ার সঙ্গে উল্টো করে বেঁধে পায়ুপথে গরম ডিম ঢুকিয়ে পৈশাচিক নির্যাতন চালায়।

এর আগে শিশুটির মুখে একের পর এক গরম আলু ঢুকিয়ে গামছা দিয়ে নাক-মুখ বেঁধে বেদম মারপিটও করা হয়। তবে প্রাণে মেরে ফেলার ভয় দেখানোর কারণে ঘটনাটি জানাজানি হতে অনেক সময় লাগে।

পরিবারের লোকজন শিশুটিকে বুধবার কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।

কিন্তু হাসপাতালটিতে বর্তমানে করোনার চিকিৎসা চালু হওয়ায় তাকে সেখানে ভর্তি না করে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেন।
এ ধরনের বর্বরোচিত নির্যাতন চালানোর ঘটনার খবর পেয়ে করিমগঞ্জ থানা পুলিশ নির্যাতনকারী ব্যবসায়ী মানিক মিয়াকে আটক করেছে।

জানা গেছে, আট বছর আগে গুণধর সাহেব বাড়ির ছেলে শাখাওয়াত মিয়ার সঙ্গে শিশু শাহ নূর-এর মায়ের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এরপর থেকেই শিশুটির মা তার আরও দুই সন্তানকে নিয়ে বিধবা বৃদ্ধ মায়ের বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন।

শিশু শাহনূর মায়ের সঙ্গে নানি বাড়িতে থেকেই একই গ্রামের খাঁ হাটির মৃত আবদুল আউয়ালের ছেলে মানিক মিয়ার দোকানে পেটে-ভাতে কাজ করত। সোমবার রাতে শিশুটিকে পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত ভাত খেতে দেয়া হয়।

ওই দুর্গন্ধযুক্ত ভাত না খেয়ে ফেলে দেয়ায় দোকান মালিক মানিক মিয়া শিশুটির ওপর বর্বরোচিত কায়দায় এ নিষ্ঠুর নির্যাতনের পথ বেছে নেয়।

নির্যাতনের একপর্যায়ে শিশুটি জ্ঞানও হারিয়ে ফেলে। পরে তাকে মাথায় পানি ঢেলে কিছুটা সুস্থ করে তোলা হয়। এ সময় এ ঘটনা কাউকে বললে জানে মেরে ফেলে বস্তায় ভরে তাকে নদীতে ফেলে দেয়া হবে বলে হুমকি দেয়া হয়।

মৃত্যু ভয়ে এ ঘটনা কাউকে জানায় না সে। কিন্তু বুধবার বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের লোকজনের পীড়াপীড়িতে নির্যাতনের ঘটনা বলে দেয় সে।

এভাবে এ বর্বরোচিত ও বীভৎস নির্যাতনের ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

শিশুটির নানি ষাটোর্ধ্ব বয়সী রুমু বেগম জানান,গরম ডিম ঢুকিয়ে নির্যাতনের কারণে শিশুটির পায়ুপথের আশপাশে ফোসকা পড়ে চামড়া ঝলসে গেছে। সেখানে পোড়া ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার নির্যাতনকারী মানিক মিয়া দাবি করেন, ওই শিশুটি তার দোকান থেকে টাকা চুরি করেছিল। এ ঘটনায় কয়েকটি ছেলে তাকে এ ধরনের শাস্তি দিয়েছে। আর তিনি শুধু তাকে কয়েকটি চড় মেরেছিলেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর করিমগঞ্জ থানার ওসি মো. মমিনুল ইসলাম ওই নির্যানকারী ব্যবসায়ীকে আটকের কথা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।