দৌলতপুরে ফোন করলেই রোগীর বাড়িতে হাজির ডাক্তার
jugantor
দৌলতপুরে ফোন করলেই রোগীর বাড়িতে হাজির ডাক্তার

  দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি  

১৯ এপ্রিল ২০২০, ২১:৪৮:৫৬  |  অনলাইন সংস্করণ

কয়েকজন ডাক্তারের সমন্বয়ে গঠিত ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা টিম

সারা দেশে সাধারণ রোগীদের মাঝে যখন চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে সে সময় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। চিকিৎসা নিতে ডাক্তারের কাছে রোগী নয় বরং সেবা নিয়ে রোগীদের বড়িতে বাড়িতে যাচ্ছেন ডাক্তার। মিলছে বিনামূল্যে ওষুধও। এ জন্য দরকার শুধু একটি ফোন কল।

দুর্যোগের সময়ে এ ধরনের উদ্যোগে সাধারণ মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে। দৌলতপুর আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আ কা ম সারওয়ার জাহান বাদশাহ'র উদ্যোগে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ কার্যক্রম শুরু করেছে।

দৌলতপুর হাসপাতালের বেশ কয়েকজন ডাক্তারের সমন্বয়ে গঠিত ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা টিম আপদকালীন এ সেবা দিয়ে যাচ্ছে। এ জন্য কয়েকটি মোবাইল নম্বর চালু করা হয়েছে। গ্রামের স্বাস্থ্যকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে এ সব নম্বর দেয়া হয়েছে। রোগীরা তাদের সমস্যা নিয়ে ওই নম্বরে ফোন করলেই ওই টিমের ডাক্তাররা রোগীর বাড়িতে পৌঁছে যাচ্ছেন। বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ দিচ্ছেন।

উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নেই এ সেবা প্রদান করা হচ্ছে। এমনকি পদ্মা পাড়ি দিয়ে চরাঞ্চলে গিয়েও সেবা দেবেন তারা।

উপজেলার মথুরাপুর শেখপাড়া গ্রামের বিপুল বলেন, অসুস্থতা অনুভব করলে তিনি ওই নম্বরে ফোন দেন। ফোন পেয়েই ভ্রাম্যমাণ চিকিৎকের টিম তার বাড়ি উপস্থিত হয়ে চিকিৎসা ও বিনামূল্যে ওষুধ প্রদান করে।

ফিলিপনগর গ্রামের বাসিন্দা ও শিক্ষক মহাবুল ইসলাম বলেন, দুর্যোগকালীন ঘরে বসেই ডাক্তার পাওয়ার এ উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রসংশিত হয়েছে।

দৌলতপুর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সামসুল আরেফিন জানান, ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা সেবায় ২২ জন্য চিকিৎসক নিয়োজিত রয়েছেন। ফোন পেলেই তারা ছুটে যাচ্ছেন রোগীর বাড়িতে। রাত-দিন ২৪ ঘণ্টাই এ সেবা প্রদান করা হচ্ছে। এ ছাড়াও সাধারণ সর্দি-কাশির রোগীর চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ‘ফ্লু’ খোলা হয়েছে। করোনা উপসর্গ আছে এমন রোগীর খবর পেলেও বাড়িতে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।

দৌলতপুর আসনের এমপি অ্যাডভোকেট আ কা ম সারওয়ার জাহান বাদশাহ বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছিল। তাছাড়া উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রোগীদের যাওয়া-আসার ফলে তাদের মধ্যে করোনায় আক্রান্তের আশংকা থাকে। তাই সবাইকে ঘরে থাকার উপদেশ দেয়ার পাশাপাশি তাদের ঘরেই চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এ দিকে হাসপাতালে নেয়া আবশ্যক রোগীদের পরিবহনের জন্য ৫টি যানবাহন ব্যবস্থা করেছে ভয়েজ অফ ফিলিপনগর নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। মহামারী চলাকালীন বিনামূল্যে রোগীদের জন্য সংগঠনটি এ সেবা প্রদান করবে।

দৌলতপুরে ফোন করলেই রোগীর বাড়িতে হাজির ডাক্তার

 দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি 
১৯ এপ্রিল ২০২০, ০৯:৪৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
কয়েকজন ডাক্তারের সমন্বয়ে গঠিত ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা টিম
ডাক্তারের সমন্বয়ে গঠিত ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা টিম। ছবি: যুগান্তর

সারা দেশে সাধারণ রোগীদের মাঝে যখন চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে সে সময় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। চিকিৎসা নিতে ডাক্তারের কাছে রোগী নয় বরং সেবা নিয়ে রোগীদের বড়িতে বাড়িতে যাচ্ছেন ডাক্তার। মিলছে বিনামূল্যে ওষুধও। এ জন্য দরকার শুধু একটি ফোন কল। 

দুর্যোগের  সময়ে এ ধরনের উদ্যোগে সাধারণ মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে। দৌলতপুর আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আ কা ম সারওয়ার জাহান বাদশাহ'র উদ্যোগে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ কার্যক্রম শুরু করেছে। 

দৌলতপুর হাসপাতালের বেশ কয়েকজন ডাক্তারের সমন্বয়ে গঠিত ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা টিম আপদকালীন এ সেবা দিয়ে যাচ্ছে। এ জন্য কয়েকটি মোবাইল নম্বর চালু করা হয়েছে। গ্রামের স্বাস্থ্যকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে এ সব নম্বর দেয়া হয়েছে। রোগীরা তাদের সমস্যা নিয়ে ওই নম্বরে ফোন করলেই ওই টিমের ডাক্তাররা রোগীর বাড়িতে পৌঁছে যাচ্ছেন। বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ দিচ্ছেন। 

উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নেই এ সেবা প্রদান করা হচ্ছে। এমনকি পদ্মা পাড়ি দিয়ে চরাঞ্চলে গিয়েও সেবা দেবেন তারা। 

উপজেলার মথুরাপুর শেখপাড়া গ্রামের বিপুল বলেন, অসুস্থতা অনুভব করলে তিনি ওই নম্বরে ফোন দেন। ফোন পেয়েই ভ্রাম্যমাণ চিকিৎকের টিম তার বাড়ি উপস্থিত হয়ে চিকিৎসা ও বিনামূল্যে ওষুধ প্রদান করে। 

ফিলিপনগর গ্রামের বাসিন্দা ও শিক্ষক মহাবুল ইসলাম বলেন, দুর্যোগকালীন ঘরে বসেই ডাক্তার পাওয়ার এ উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রসংশিত হয়েছে। 

দৌলতপুর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সামসুল আরেফিন জানান, ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা সেবায় ২২ জন্য চিকিৎসক নিয়োজিত রয়েছেন। ফোন পেলেই তারা ছুটে যাচ্ছেন রোগীর বাড়িতে। রাত-দিন ২৪ ঘণ্টাই এ সেবা প্রদান করা হচ্ছে। এ ছাড়াও সাধারণ সর্দি-কাশির রোগীর চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ‘ফ্লু’ খোলা হয়েছে। করোনা উপসর্গ আছে এমন রোগীর খবর পেলেও বাড়িতে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। 

দৌলতপুর আসনের এমপি অ্যাডভোকেট আ কা ম সারওয়ার জাহান বাদশাহ বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছিল। তাছাড়া উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রোগীদের যাওয়া-আসার ফলে তাদের মধ্যে করোনায় আক্রান্তের আশংকা থাকে। তাই সবাইকে ঘরে থাকার উপদেশ দেয়ার পাশাপাশি তাদের ঘরেই চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। 

এ দিকে হাসপাতালে নেয়া আবশ্যক রোগীদের পরিবহনের জন্য ৫টি যানবাহন ব্যবস্থা করেছে ভয়েজ অফ ফিলিপনগর নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। মহামারী চলাকালীন বিনামূল্যে রোগীদের জন্য সংগঠনটি এ সেবা প্রদান করবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন