৪ বছর পর জানলেন তাদের নামে চালের কার্ড আছে!
jugantor
৪ বছর পর জানলেন তাদের নামে চালের কার্ড আছে!

  রাজশাহী ব্যুরো  

২৪ এপ্রিল ২০২০, ১৮:৫৭:৫২  |  অনলাইন সংস্করণ

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ঝিকড়া ইউনিয়নের নামকান গ্রামের চার হতদরিদ্র ব্যক্তির নাম আছে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির তালিকায়। তবে বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন চার বছর পর গত বুধবার।

গত চার বছরেও তারা ১০ টাকা কেজির এক কেজি চালও পাননি। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকালে ইউপি খোদা বখসকে ১২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে ডিলার বা খাদ্য বিভাগের তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত কারো বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

জানা গেছে, নামকান গ্রামের দিনমজুর হতদরিদ্র আক্কাছ আলী, লোকমান আলী, সাহারা বিবি ও আবদুল আজিজের ক্ষেত্রে ঘটেছে এমন বঞ্চনা আর প্রতারণার ঘটনা।

হতদরিদ্র এই ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির তালিকায় নাম তুলতে তারা ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে ঝিকড়া ইউপি সদস্য খোদা বখসের কাছে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও এক কপি ছবি জমা দিয়েছিলেন।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য সরবরাহের পর নির্দিষ্ট সময়ে তাদের নাম ১০ টাকা কেজির চালের উপকারভোগীর তালিকাভুক্ত হবে বলে জানানো হয়।

২০১৬ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে স্থানীয় ডিলার ও আওয়ামী লীগ নেতা আবু হেনার মাধ্যমে হতদরিদ্র কর্মসূচির চাল বিক্রি শুরু হয় ওই এলাকায়। কিন্তু ওই চারজনের ভাগ্যে এক কেজি চালও জোটেনি। নাম তালিকাভুক্ত হয়নি জানিয়ে ইউপি সদস্য ও চাল ডিলার আবু হেনা তাদের কয়েকবার ফিরিয়ে দিয়েছেন।

এ দিকে চলমান করোনা পরিস্থিতির কারণে আবার হতদরিদ্রদের নাম তালিকাভুক্ত করা হবে, এমন খবর পেয়ে ওই চারজন ঝিকড়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ ফৌজদারের কাছে যান। পুনরায় জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও ছবি দেন চেয়ারম্যানকে। একটা কার্ড করে দেয়ার অনুরোধ করেন।

ইউপি চেয়ারম্যান কার্ডের তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের সময় দেখতে পান এই চার হতদরিদ্র্যের নামে ১০ টাকা কেজির চালের তালিকায় ২০১৬ সাল থেকেই আছে। তারা না জানলেও তাদের নামে এ পর্যন্ত ১৫ বার ১০ টাকা কেজি দরের ৩০ কেজি করে চাল তুলে নেয়া হয়েছে।

চালের ডিলার জানান, এই চার হতদরিদ্র্যের নামের চাল তুলেছেন এলাকার ইউপি সদস্য খোদা বখস। চার হতদরিদ্র্য বুধবার অভিযোগ করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে।

বৃহস্পতিবার বিকালে ইউপি সদস্য খোদা বখসকে তলব করা হয় ইউএনও অফিসে। হতদরিদ্র্যের চাল আত্মসাতের কথা স্বীকার করলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ইউপি মেম্বারকে ১২ হাজার টাকা আর্থিক জরিমানা করেন।

বাগমারার ইউএনও শরিফ আহম্মেদ চার হতদরিদ্র্যের হাতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ড তুলে দেন। তিনি বলেন, এখন থেকে তারা ১০ কেজির চাল কিনতে পারবেন ডিলারের কাছ থেকে। তবে অভিযোগ উঠেছে এই চার হতদরিদ্র্যের চাল আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত ডিলার ও আওয়ামী লীগ নেতা আবু হেনা এবং কার্ড তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

শরিফ আহম্মেদ বলেন, ডিলারের বিরুদ্ধে তদন্ত হবে। তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।

৪ বছর পর জানলেন তাদের নামে চালের কার্ড আছে!

 রাজশাহী ব্যুরো 
২৪ এপ্রিল ২০২০, ০৬:৫৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ঝিকড়া ইউনিয়নের নামকান গ্রামের চার হতদরিদ্র ব্যক্তির নাম আছে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির তালিকায়। তবে বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন চার বছর পর গত বুধবার। 

গত চার বছরেও তারা ১০ টাকা কেজির এক কেজি চালও পাননি। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকালে ইউপি খোদা বখসকে ১২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে ডিলার বা খাদ্য বিভাগের তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত কারো বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। 

জানা গেছে, নামকান গ্রামের দিনমজুর হতদরিদ্র আক্কাছ আলী, লোকমান আলী, সাহারা বিবি ও আবদুল আজিজের ক্ষেত্রে ঘটেছে এমন বঞ্চনা আর প্রতারণার ঘটনা। 

হতদরিদ্র এই ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির তালিকায় নাম তুলতে তারা ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে ঝিকড়া ইউপি সদস্য খোদা বখসের কাছে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও এক কপি ছবি জমা দিয়েছিলেন। 

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য সরবরাহের পর নির্দিষ্ট সময়ে তাদের নাম ১০ টাকা কেজির চালের উপকারভোগীর তালিকাভুক্ত হবে বলে জানানো হয়। 

২০১৬ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে স্থানীয় ডিলার ও আওয়ামী লীগ নেতা আবু হেনার মাধ্যমে হতদরিদ্র কর্মসূচির চাল বিক্রি শুরু হয় ওই এলাকায়। কিন্তু ওই চারজনের ভাগ্যে এক কেজি চালও জোটেনি। নাম তালিকাভুক্ত হয়নি জানিয়ে ইউপি সদস্য ও চাল ডিলার আবু হেনা তাদের কয়েকবার ফিরিয়ে দিয়েছেন। 

এ দিকে চলমান করোনা পরিস্থিতির কারণে আবার হতদরিদ্রদের নাম তালিকাভুক্ত করা হবে, এমন খবর পেয়ে ওই চারজন ঝিকড়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ ফৌজদারের কাছে যান। পুনরায় জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও ছবি দেন চেয়ারম্যানকে। একটা কার্ড করে দেয়ার অনুরোধ করেন। 

ইউপি চেয়ারম্যান কার্ডের তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের সময় দেখতে পান এই চার হতদরিদ্র্যের নামে ১০ টাকা কেজির চালের তালিকায় ২০১৬ সাল থেকেই আছে। তারা না জানলেও তাদের নামে এ পর্যন্ত ১৫ বার ১০ টাকা কেজি দরের ৩০ কেজি করে চাল তুলে নেয়া হয়েছে। 

চালের ডিলার জানান, এই চার হতদরিদ্র্যের নামের চাল তুলেছেন এলাকার ইউপি সদস্য খোদা বখস। চার হতদরিদ্র্য বুধবার অভিযোগ করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে। 

বৃহস্পতিবার বিকালে ইউপি সদস্য খোদা বখসকে তলব করা হয় ইউএনও অফিসে। হতদরিদ্র্যের চাল আত্মসাতের কথা স্বীকার করলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ইউপি মেম্বারকে ১২ হাজার টাকা আর্থিক জরিমানা করেন। 

বাগমারার ইউএনও শরিফ আহম্মেদ চার হতদরিদ্র্যের হাতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ড তুলে দেন। তিনি বলেন, এখন থেকে তারা ১০ কেজির চাল কিনতে পারবেন ডিলারের কাছ থেকে। তবে অভিযোগ উঠেছে এই চার হতদরিদ্র্যের চাল আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত ডিলার ও আওয়ামী লীগ নেতা আবু হেনা এবং কার্ড তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। 

শরিফ আহম্মেদ বলেন, ডিলারের বিরুদ্ধে তদন্ত হবে। তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন