দুর্গাপুরে অধ্যক্ষের ভুলে কারাভোগ করছেন এক অভিভাবক

  দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি ১৪ মে ২০২০, ২১:০৫:৩২ | অনলাইন সংস্করণ

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে দ্বীনি আলীম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবদুর রহমানের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে মো. মোস্তফা (৪৫) নামের এক ছাত্রের অভিভাবক প্রায় ৩ মাস ধরে কারাভোগ করছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছেন মোস্তফার পিতা আবদুল মালেক।

এ নিয়ে অভিযোগ ও মামলার সূত্রে জানা গেছে, গত অক্টোবর মাসে ওই মাদ্রাসায় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করছিল। একপর্যায়ে মো. হাসান আপন (১৪) নামের এক শিক্ষার্থীর হাতের একটি ঢিল তার বন্ধু মো. তাহসিন আহমেদের (১০) চোখে লাগে। পরে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিজ খরচে তাহসিনকে ময়মনসিংহে প্রেরণ করেন। আহত শিক্ষার্থী ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবদুর রহমানের ভাইয়ের ছেলে।

ঘটনার পরদিন অধ্যক্ষ আবদুর রহমান প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে শিক্ষকদের উপস্থিতিতে এ ধরনের ঘটনার শাস্তিস্বরূপ ও উন্নত চিকিৎসার জন্য শিক্ষার্থীকে ঢাকা পাঠানোর কথা বলে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। কেউ কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে ভয়-ভীতির কারণে প্রায় ১ লাখ টাকা চাঁদা তুলে দেয়া হয় অধ্যক্ষ আবদুর রহমানের হাতে।

এ দিকে দুর্গাপুর হাসপাতালের চিকিৎসাতেই তাহসিন ভালো হয়ে যায়। এ বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় তার ভাতিজাকে ওই মাদ্রাসা থেকে সরিয়ে দেন। পরবর্তীকালে অধ্যক্ষসহ মাদ্রাসার এসএমসি কমিটির সদস্য সমন্বয়ে ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবক আবদুল মালেকের কাছে তার ভাতিজার উন্নত চিকিৎসা করতে ঢাকা নিতে হবে মর্মে তিন লাখ টাকা দাবি করে। আবদুল মালেক টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান।

পরে ওই শিক্ষার্থীকে অপহরণ করতে চেয়েছে মর্মে গত ১২ ফেব্রুয়ারি মো. মোস্তফা ও মো. হাসান আপনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন অধ্যক্ষের ভাই (তাহসিনের বাবা) মো. আবদুস সামাদ। ওই মামলায় শিশু শিক্ষার্থী আপন ও তার বাবাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আপন শিশু শিক্ষার্থী হওয়ায় তার দাদুর জিম্মায় দিয়ে তার বাবাকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন আদালত।

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ আব্দুর রহমান বলেন, করোনা ইস্যুতে প্রতিষ্ঠান ছুটি থাকায় বেশ কিছুদিন ধরে আমি এলাকার বাইরে অবস্থান করছি। এ নিয়ে ফোনে কোনো কথা বলব না বলে ফোন কেটে দেন।

এ ঘটনায় তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা সুমন দাস জানান, শিক্ষার্থীদের ঝগড়া নিয়ে বিষয়টি এতদূর গড়াবে ভাবতে পারিনি। আইনি জটিলতার কারণে কারাভোগ করছেন পশক্ষার্থীর বাবা। চক্ষু হাসপাতালের রিপোর্ট পেলেই আসল ঘটনাটি বেড়িয়ে আসবে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত