লাইনম্যানকে হত্যার অভিযোগে ধুনটে পবিসের ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

  বগুড়া ব্যুরো ১৪ মে ২০২০, ২৩:৩৩:৫৬ | অনলাইন সংস্করণ

বগুড়ার ধুনটে অস্থায়ী লাইনম্যান রিপন সরকারকে (৩৮) পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২’র (পবিস) জিএম, ডিজিএমসহ ৭ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। নিহত রিপনের স্ত্রী বিথী আকতার বুধবার রাতে ধুনট থানায় এ মামলা করেন।

এ ঘটনায় কর্তৃপক্ষ সমিতির এক কর্মকর্তাকে ক্লোজড ও অপরজনকে চাকরি থেকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়েছে।

ধুনট থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা জানান, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আসামীরা হল- পবিস-২-এর জিএম আবদুল কুদ্দুস, ধুনট জোনাল অফিসের ডিজিএম মাহবুব জিয়া, এজিএম আবদুর রশিদ, জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার ফিরোজ কবির, মথুরাপুর অভিযোগ কেন্দ্রের ইনচার্জ এনায়েত হোসেন, লাইন টেস্টিং কর্মকর্তা এমদাদুল হক ও লাইনম্যান সুলতান মাহমুদ।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধুনট উপজেলার চৌকিবাড়ি গ্রামের মৃত মতিয়ার রহমানের ছেলে রিপন সরকার বগুড়া পবিস-২-এর ধুনট জোনাল অফিসে দৈনিক মজুরিতে দীর্ঘদিন কাজ করে আসছেন। রিপনের সঙ্গে মথুরাপুর অভিযোগ কেন্দ্রের ইনচার্জ এনায়েত হোসেন ও লাইনম্যান সুলতান মাহমুদের বিরোধ সৃষ্টি হয়।

এনায়েত হোসেন গত ৬ মে দুপুরে মোবাইল করে রিপনকে দীঘলকান্দি বাজারের ট্রান্সফরমার সংযোগ মেরামত করতে বলেন। সাংসারিক কাজে ব্যস্ত থাকায় রিপন সেখানে অন্য কাউকে পাঠাতে অনুরোধ করেন। এতে এনায়েত হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে চাকরি স্থায়ী না হওয়ার হুমকি দেন।

বাধ্য হয়ে রিপন পবিসের দেয়া যন্ত্রপাতি নিয়ে ওই বিদ্যুতের খুঁটিতে ওঠেন। এর আগে এনায়েত হোসেন প্রধান সংযোগ বন্ধ করা হয়েছে বলে জানান। ফোন পেয়েই রিপন সরকার সংযোগ মেরামতের কাজ শুরু করেন। কিছুক্ষণ পরই বিদ্যুৎ সংযোগ চালু হয়। এ সময় বিদ্যুৎস্পর্শে রিপনের শরীরের প্রায় ৭০ ভাগ পুড়ে যায়।

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। রাত ৯টার দিকে তিনি মারা যান।

ধুনট পবিস জোনাল অফিসের ডিজিএম মাহবুব জিয়া প্রথমে বলেন, রিপন সরকার তাদের লাইনম্যান নন। পরে বলেন, ওই লাইনম্যানের মৃত্যুর ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলায় মথুরাপুর অভিযোগ কেন্দ্রের ইনচার্জ এনায়েত হোসেনকে ক্লোজড ও লাইন টেস্টিং কর্মকর্তা এমদাদুল হককে চাকরি থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। অফিসের পক্ষেও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে থানায় হত্যার অভিযোগে মামলার ব্যাপারে তিনি অবগত নন।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত