করোনার মধ্যেও বাঘায় টোল আদায়ের নামে চলছে চাঁদাবাজি
jugantor
করোনার মধ্যেও বাঘায় টোল আদায়ের নামে চলছে চাঁদাবাজি

  বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি  

১৫ মে ২০২০, ২০:১৩:২২  |  অনলাইন সংস্করণ

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় দেশজুড়ে চলছে অঘোষিত লকডাউন। এর মধ্যে খাবারসহ জরুরি প্রয়োজনীয় যানবাহনগুলো চলাচল করছে। সবকিছু বন্ধ রাখা হলেও সরকারি সিদ্ধান্ত অমান্য করে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভায় চলছে টোল আদায়ের নামে চাঁদাবাজি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন রাজশাহী সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন। কিন্তু প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করে বসে আছে। এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় তারা হতাশার মধ্যে পড়েছেন তারা।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ হেডকোয়ার্টাস কর্তৃক জারিকৃত সর্বশেষ ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সারা দেশে সুষ্ঠু পণ্য পরিবহন নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সিটি কর্পোরেশন/পৌরসভা কর্তৃক মহাসড়কে বিভিন্ন যানবাহন থেকে কোনো ধরনের টোল না আদায় করার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।

কিন্তু আড়ানীতে এই সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বিচারে টোল আদায় করে হচ্ছে। যা সরকারি সিদ্ধান্ত এবং সারা দেশে সুষ্ঠু পরিবহন নিশ্চিতকরণের পরিপন্থী। এই টোল আদায় করছে আড়ানী পৌরসভার পিয়াদাপাড়া গ্রামে তৈয়বুর রহমানের ছেলে ফারুক হোসেন ও মাস্টারপাড়া গ্রামের মৃত রফিজ উদ্দিনের ছেলে লেলিন হোসেন। এই দুইজন মেয়রের নাম ভাঙ্গিয়ে কাউকে কোনো তোয়াক্কা না করে টোল আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে সড়ক পরিবহনের আড়ানী শাখার সভাপতি রায়হান কবীর বলেন, আমার কাছে টোল আদায়ের অসন্তুষ্ট প্রকাশ করে শ্রমিকরা অভিযোগ করলে আমি বাঘা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানায় লিখিতভাবে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছি। তবে সাময়িকের জন্য বাঘা থানার পুলিশ এসে বন্ধ করলেও বর্তমানে টোল আদায় অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগপত্রের স্বাক্ষরকৃত ব্যক্তিদের টোল আদায়কারীরা নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন।

এ দিকে স্থানীয় এক সাংবাদিক শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে ওই পথ দিয়ে যাওয়ার পথে পথরোধ করে জোরপূর্বক ফারুক হোসেন ও লেলিন হোসেন। এ সময় মেয়রের সঙ্গে দেখা করানোর জন্য জোর করেন। পরে দেখা করাবে বলে জানালেও তারা সাংবাদিকের কথা না শুনে মোটরসাইকেলের চাবি নিয়ে নেয় এবং তারা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে ওই সাংবাদিককে বলে দিতে বলেন যে, এখানে কোনো চাঁদাবাজি হচ্ছে না।

বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ওসি, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রীর রাজনৈতিক এপিএস এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক নেতাদের অবগত করা হয়েছে। কিন্তু ওই চাঁদাবাজদের ব্যাপারে এখনও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এ দিকে প্রেস ক্লাবের সব সাংবাদিক ওই টোল আদায়কারী লেলিন ও ফারুকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ট্রাকচালক রনি আহম্মেদ বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করায় আমাকে টোল আদায়কানী ফারুক হোসেন, লেলিন হোসেনসহ কয়েকজন গালিগালাজ করে ও মারপিটের হুমকি দেন।

আড়ানী শাখার সড়ক পরিবহনের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম বলেন, আমি বর্তমানে দেশের ভয়াবহ অবস্থার কথা চিন্তা করে এবং সরকারের আদেশ বাস্তবায়নের জন্য এই চাঁদাবাজি বন্ধের সঙ্গে একমত পোষণ করি। তাই টোল আদায়কারী আমাকে মারধরের হুমকি দেয়। আমাকে তারা বলে, মেয়র মুক্তার অনুমতি দিলে তোর হাত পা ভেঙ্গে দিব। আর আমার আড়ানী বাজারের সবজির দোকান ভেঙ্গে ফেলতেও চেয়েছে তারা।

বাঘা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহিন রেজা বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। কিন্তু কেন টোল আদায় হচ্ছে, তা মেয়র মুক্তার সঠিক বলতে পারবেন। আমি ইউনিয়নগুলো দেখভাল করি। পৌরসভা স্থানীয় সরকার দেখভাল করে।

আড়ানী পৌর মেয়র মুক্তার আলী বলেন, অভিযোগের পর টোল আদায় বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে আমার অজান্তে কেউ টোল আদায় করলে অবশ্যই পৌরসভার পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নিব।

করোনার মধ্যেও বাঘায় টোল আদায়ের নামে চলছে চাঁদাবাজি

 বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি 
১৫ মে ২০২০, ০৮:১৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় দেশজুড়ে চলছে অঘোষিত লকডাউন। এর মধ্যে খাবারসহ জরুরি প্রয়োজনীয় যানবাহনগুলো চলাচল করছে। সবকিছু বন্ধ রাখা হলেও সরকারি সিদ্ধান্ত অমান্য করে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভায় চলছে টোল আদায়ের নামে চাঁদাবাজি। 

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন রাজশাহী সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন। কিন্তু প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করে বসে আছে। এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় তারা হতাশার মধ্যে পড়েছেন তারা।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ হেডকোয়ার্টাস কর্তৃক জারিকৃত সর্বশেষ ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সারা দেশে সুষ্ঠু পণ্য পরিবহন নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সিটি কর্পোরেশন/পৌরসভা কর্তৃক মহাসড়কে বিভিন্ন যানবাহন থেকে কোনো ধরনের টোল না আদায় করার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। 

কিন্তু আড়ানীতে এই সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বিচারে টোল আদায় করে হচ্ছে। যা সরকারি সিদ্ধান্ত এবং সারা দেশে সুষ্ঠু পরিবহন নিশ্চিতকরণের পরিপন্থী। এই টোল আদায় করছে আড়ানী পৌরসভার পিয়াদাপাড়া গ্রামে তৈয়বুর রহমানের ছেলে ফারুক হোসেন ও মাস্টারপাড়া গ্রামের মৃত রফিজ উদ্দিনের ছেলে লেলিন হোসেন। এই দুইজন মেয়রের নাম ভাঙ্গিয়ে কাউকে কোনো তোয়াক্কা না করে টোল আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

এ বিষয়ে সড়ক পরিবহনের আড়ানী শাখার সভাপতি রায়হান কবীর বলেন, আমার কাছে টোল আদায়ের অসন্তুষ্ট প্রকাশ করে শ্রমিকরা অভিযোগ করলে আমি বাঘা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানায় লিখিতভাবে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছি। তবে সাময়িকের জন্য বাঘা থানার পুলিশ এসে বন্ধ করলেও বর্তমানে টোল আদায় অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগপত্রের স্বাক্ষরকৃত ব্যক্তিদের টোল আদায়কারীরা নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন।

এ দিকে স্থানীয় এক সাংবাদিক শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে ওই পথ দিয়ে যাওয়ার পথে পথরোধ করে জোরপূর্বক ফারুক হোসেন ও লেলিন হোসেন। এ সময় মেয়রের সঙ্গে দেখা করানোর জন্য জোর করেন। পরে দেখা করাবে বলে জানালেও তারা সাংবাদিকের কথা না শুনে মোটরসাইকেলের চাবি নিয়ে নেয় এবং তারা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে ওই সাংবাদিককে বলে দিতে বলেন যে, এখানে কোনো চাঁদাবাজি হচ্ছে না।

বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ওসি, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রীর রাজনৈতিক এপিএস এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক নেতাদের অবগত করা হয়েছে। কিন্তু ওই চাঁদাবাজদের ব্যাপারে এখনও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এ দিকে প্রেস ক্লাবের সব সাংবাদিক ওই টোল আদায়কারী লেলিন ও ফারুকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ট্রাকচালক রনি আহম্মেদ বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করায় আমাকে টোল আদায়কানী ফারুক হোসেন, লেলিন হোসেনসহ কয়েকজন গালিগালাজ করে ও মারপিটের হুমকি দেন।

আড়ানী শাখার সড়ক পরিবহনের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম বলেন, আমি বর্তমানে দেশের ভয়াবহ অবস্থার কথা চিন্তা করে এবং সরকারের আদেশ বাস্তবায়নের জন্য এই চাঁদাবাজি বন্ধের সঙ্গে একমত পোষণ করি। তাই টোল আদায়কারী আমাকে মারধরের হুমকি দেয়। আমাকে তারা বলে, মেয়র মুক্তার অনুমতি দিলে তোর হাত পা ভেঙ্গে দিব। আর আমার আড়ানী বাজারের সবজির দোকান ভেঙ্গে ফেলতেও চেয়েছে তারা।

বাঘা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহিন রেজা বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। কিন্তু কেন টোল আদায় হচ্ছে, তা মেয়র মুক্তার সঠিক বলতে পারবেন। আমি ইউনিয়নগুলো দেখভাল করি। পৌরসভা স্থানীয় সরকার দেখভাল করে।

আড়ানী পৌর মেয়র মুক্তার আলী বলেন, অভিযোগের পর টোল আদায় বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে আমার অজান্তে কেউ টোল আদায় করলে অবশ্যই পৌরসভার পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নিব।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন