সিদ্ধিরগঞ্জের রাতের আঁধারে কর্মহীনদের ঘরের দরজায় ত্রাণ

  হোসেন চিশতী সিপলু, সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) থেকে ১৫ মে ২০২০, ১৯:০০:১০ | অনলাইন সংস্করণ

নেই কোন ক্যামেরাম্যান, নেই ব্যানারও। শুধু সঙ্গে ৪-৬ জন লোক। যাদের সবার দু’হাতে খাদ্যসামগ্রী। এগুলো রেখে দেয়া হচ্ছে বাসা-বাড়ির দরজার সামনে।

আসার সময় কেবল কয়েকটি টোকা দিয়ে আসছেন দরজায়। ঘরের বাসিন্দারা দরজা খুলে কাউকে খাঁজে পান না দরজার সামনে। তবে যা পান তা দেখে অবাকই হন।

দরজার সামনেই একটা ব্যাগ। ব্যাগের মধ্যে চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, আলু ও আটাসহ খাদ্যসমাগ্রী। এ মানবিক সহায়তায় আপ্লুত কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায় লোকজন।

পরে খবর নিয়ে জানতে পারেন নাসিক ৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আরিফুল হক হাসান ও তার লোকজনই খাদ্যসামগ্রী এভাবে ত্রাণ রেখে গেছেন দরজার সামনে।

সবাই যখন ত্রাণ নিয়ে প্রচারণায় ব্যস্ত তখন এ ধরনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার লোকজন।

এলাকাবাসী জানায়, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সিদ্ধিরগঞ্জের ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আরিফুল হক হাসান জাতীয় শ্রমিকলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল মতিন মাষ্টারের বড় ছেলে।

এ নিয়ে দ্বিতীয়বার তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। ইতিপূর্বে শীত এবং অন্য দূর্যোগের সময় দরিদ্র ও সমস্যাপীড়িত এলাকাবাসীর সাহায্যে এগিয়ে আসা আরিফুল হক হাসান করোনা দুর্যোগের সময়ও রাতের আঁধারে এভাবেই সাহায্য করে আসছেন অসহায় এলাকবাসীর।

অসহায় ওয়ার্ডবাসীকে লজ্জায় না ফেলতে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতেই এমন কৌশলে ওয়ার্ডবাসীকে সাহায্য করে আসছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক এ ক্রীড়া সম্পাদক।

একই কারণে খাদ্য বিতরণের খবরটি কোন গণমাধ্যম এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রচার করতে দেননি নিজ কর্মী ও সহযোগীদের। করোনার শুরুতে এ মহামারী থেকে দেশ ও দেশের মানুষের পরিত্রাণের মসজিদে কোরআন খতম ও এলাকাবাসীকে সচেতন করতে লিফলেট বিতরণ করেছিলেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাউজিং এলাকার এক বাসিন্দা জানান, এবার প্রথম ত্রাণ পেলাম। তাও ঘরের দরজার সামনে। সবাই ত্রাণ দিয়ে ছবি তুলতে চায়। কিন্তু কোন প্রকার ছবি তোলা ছাড়া দরজার সামনে খাদ্য সামগ্রীর ব্যাগ পেলাম, যা অবাক করার মতো ঘটনা। এভাবেই সবাই যদি রাতে ত্রাণ দিতো, তাহলে আমাদের মতো মধ্যবিত্তের অনেক উপকার হতো। আমরা লজ্জা পাওয়া থেকে বাঁচতাম।

এ বিষয়ে কাউন্সিলর আরিফুল হক হাসান জানান, গোপনে অসহায় সব মানুষের তালিকা করি। পরবর্তীতে তালিকা অনুযায়ী আমার লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে রাতে তাদের বাসার দরজার সামনে খাদ্য সামগ্রীর ব্যাগ রেখে আসি। আসার সময় বন্ধ দরজায় কয়েকটি টোকা দিয়ে আসি, যাতে ঘরে নিয়ে পারে।

খাদ্যসামগ্রী গ্রহণের সময় কাউকে যাতে সংকোচে বা লজ্জায় পড়তে না হয় তার জন্যই এ কৌশল বলে জানান তিনি। এছাড়া সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্যেও এভাবে তিনি ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করে আসছেন বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সরকারি ত্রাণের পাশাপাশি ইনশআল্লাহ আমার ব্যক্তিগত উদ্যোগেও অসহায়দের সাহায্য অব্যাহত থাকবে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত