বোরহানউদ্দিন তথ্য জানতে চাওয়ায় সাংবাদিককে অপমান করলেন এসআই

  বোরহানউদ্দিন (ভোলা) প্রতিনিধি ১৯ মে ২০২০, ২৩:৪৪:৩০ | অনলাইন সংস্করণ

বোরহানউদ্দিন থানা (ফাইল ছবি)

ভোলার বোরহানউদ্দিন থানার পুলিশের উপ-পরিদর্শক(এসআই)শফিকুল ইসলাম কুয়েতে পুলিশ হেফাজতে থাকা হারুন নামের এক ব্যক্তির ভেরিফিকেশন নামে ৫ হাজার টাকা দাবির অভিযোগ পাওয়া যায়। ওই বিষয়টি হারুনের মা রওশনআরা দৈনিক ভোরের কাগজের প্রতিনিধি ও বোরহানউদ্দিন শাহবাজপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেককে জানান। আব্দুল মালেক ঘটনার সত্যতা জানতে চাইলে তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, তোমার কি!

এ আচরণে আবদুল মালেক হতবাক হয়ে যান। বিষয়টি সহকর্মী সংবাদকর্মীরা জানলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের প্রতিক্রিয়া জানান। তারা অবিলম্বে ওই এসআইয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

জানা যায়, সোমবার এসআই শফিকুল উপজেলার বড়মানিকা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কুয়েতপ্রবাসী হারুনের বাড়িতে ভেরিফিশেনের জন্য যান। হারুনের মা রওশনআরা জানান, ওইদিন ওই এসআই তাকে ৫ হাজার টাকাসহ কাগজপত্র নিয়ে থানায় যেতে বলেন। তিনি ধার-দেনা করে দেড় হাজার টাকাসহ থানায় তার কাছে যান। কিন্তু এসআই শফিকুল কাগজপত্র টাকা না রেখে মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) ৫ হাজার টাকাসহ আসতে বলেন।

রওশনআরা আরও বলেন, ছেলে হারুন ২ বছর আগে ঋণ নিয়ে কুয়েত গেছে। এজেন্সি কুয়েত নিয়ে তার ছেলের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। ওই ঋণের টাকা পরিশোধ করতে পারেননি। ওর বাবা গত ৬ বছর মারা যাওয়ায় সংসারে উপার্জনশীল ব্যক্তি নেই। তিনি শুনেছেন, হারুন কুয়েতের পুলিশ হেফাজতে আছে। এর বেশি টাকা যোগার করা সম্ভব হয়নি।

সাংবাদিক আব্দুল মালেক বলেন, ওই বিষয়টি বোরহানউদ্দিন থানার এসআই শফিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, তোমার কি দরকার? কিছুক্ষণ পর বলেন থানায় আস। ১ ঘণ্টা পর আবার ফোন দিয়ে দাম্ভিকতা দেখিয়ে বলেন ফেসবুকে লিখে আমার কিছু করতে পারবে না।

এ ব্যাপারে বোরহানউদ্দিন রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি এমএইচ শিপন বলেন, করোনার মহাসংকটে পুলিশ সম্মুখ সারির যোদ্ধা হিসেবে ইমেজ সৃষ্টি করেছেন। আশা করি পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এসআই শফিকুল ইসলামের দায়ভার নেবে না।

প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ওমর ফারুক তারেক বলেন, এ ঘটনা অনাকাঙ্খিত। তিনি পুলিশের ভাবমূর্তির স্বার্থে ওই এসআইর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (লালমোহন সার্কেল) মো. রাসেলুর রহমান বলেন, এ ঘটনা দু:খজনক। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।

জেলা পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, ঘটনাটি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত