আম্পানের তাণ্ডবে পাবনায় ‘হাজার কোটি টাকার’ ক্ষতি

  আখতারুজ্জামান আখতার, পাবনা ২১ মে ২০২০, ২০:৩৩:৫২ | অনলাইন সংস্করণ

আম্পানের তাণ্ডবে পাবনায় ২০ শতাশ লিচু এবং ৩০ শতাংশ আম পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। এ ছাড়া শাক-সবজিসহ অন্যান্য ফসলের ক্ষতি হয়েছে কমপক্ষে ৪০ শতাংশ। এতে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে কৃষকের। এ ছাড়া জেলার বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। অসংখ্য কাঁচা ঘরবাড়ি এবং গাছপালা ভেঙে ও উপড়ে গেছে।

বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য মতে, প্রাথমিকভাবে আম্পানের ছোবলে পাবনার কৃষি ক্ষেত্রে ক্ষতি হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। জেলা কৃষি বিভাগ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কাজ করছে।

বুধবার বিকাল থেকেই পাবনায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি এবং হালকা বাতাস শুরু হয়। সন্ধ্যার পর থেকে তা বেড়ে যায়। রাত ৮টার পর থেকে বাতাসের গতিবেগ এবং বৃষ্টি বাড়তে থাকে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় তাণ্ডব। জেলা শহরসহ সব উপজেলায় বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। অনেক স্থানে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে এবং খুঁটি উপড়ে যায়। সারা রাত পুরো পাবনা গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকে। বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টা পর্যন্ত জেলার ৭টি উপজেলায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

জেলার গ্রামাঞ্চলে বিশেষ করে নদী তীরবর্তী ও চরঅঞ্চলে অসংখ্য ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। হাজার হাজার গাছ ভেঙে ও উপড়ে গেছে। শত শত বিঘা জমির ফসল তলিয়ে গেছে। উঠতি বোরো ধান, আম লিচু এবং সব ধরনের শাক-সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক আজাহার আলী জানান, জেলায় এ বছর ৪ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে লিচু আবাদ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৪৬ হাজার মেট্রিক টন। জেলার ঈশ্বরদীসহ সব স্থানেই লিচু বিক্রি শুরু হয়েছিল। কিন্তু আম্পানে ২০ থেকে ২২ ভাগ লিচু বিনষ্ট হয়েছে। জেলায় ২ হাজার ৬৭০ হেক্টর জমিতে আম আবাদ হয়েছিল। ঝড়ে ৩০ ভাগ আম নষ্ট হয়েছে।

বেড়া উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের শামসুর রহমান জানান, তার বাগানের কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকার আম নষ্ট হয়েছে। এলাকার সব কৃষকের এবং বাড়ির আঙিনার কোনো গাছেই আর আম নেই। এ ক্ষতি অপূরণীয়।

ঈশ্বরদীর বিশিষ্ট লিচু চাষি কেতাব মণ্ডল ওরফে লিচু কেতাব জানান, ঈশ্বরদীতে এ বছর অন্তত ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকার লিচু হয়েছিল। কিন্তু আম্পানের তাণ্ডবে পাকা লিচু ছিঁড়ে পড়ে বিনষ্ট হয়েছে। অসংখ্য লিচু গাছ ভেঙে গেছে। এতে কমপক্ষে ২০০ কোটি টাকার লিচুর ক্ষতি হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ জানায়, আম্পানে জেলার শাক-সবজির মহাক্ষতি হয়েছে। এবারে ১১ হাজার ৬৭৪ হেক্টর জমিতে শাক-সবজির আবাদ হয় এবং উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২ লাখ ৭ হাজার মেট্রিক টন। কিন্তু আম্পানে কমপক্ষে দেড় হাজার হেক্টরের ফসল ক্ষতি হয়েছে।

সবজি প্রধান ঈশ্বরদীর জগন্নাথপুরের বঙ্গবন্ধু কৃষি পদকপ্রাপ্ত সিদ্দিকুর রহমান ময়েজ জানান, এমনিতেই করোনার কারণে তারা ক্ষতিগ্রস্ত। তারপর আম্পানের কারণে এবার কৃষকের কোমর একেবারেই ভেঙে গেল। তার নিজের ৭০ বিঘা জমির পেয়ারা, কলা, পেপেসহ সব ধরনের সবজি বিনষ্ট হয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা জানান, সব উপজেলা থেকে ক্ষয়ক্ষতির খবর নেয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা না থাকায় প্রত্যন্ত এলাকার ক্ষয়ক্ষতির খবর নেয়া দেরি হচ্ছে। টাকার অংকে ক্ষতির পরিসংখ্যান দিতে সময় লাগবে।

বেড়ার পুরান ভারেঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান জানান, তার যমুনা তীরবর্তী গ্রাম এবং চরাঞ্চলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অসংখ্য কাঁচা ঘরকবাড়ি ভেঙে গেছে, অসংখ্য গাছপালা ভেঙে ও উপড়ে গেছে।

এ দিকে জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভগের সূত্র জানায়, এখনি ক্ষয়ক্ষতির হিসাব টাকার অংকে নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। তবে ক্ষতি হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত