হালদায় রেকর্ড পরিমাণ ডিম সংগ্রহ
jugantor
হালদায় রেকর্ড পরিমাণ ডিম সংগ্রহ

  হাটহাজারী প্রতিনিধি  

২২ মে ২০২০, ২০:৫৪:৩২  |  অনলাইন সংস্করণ

হালদা
ডিম সংগ্রহ। ছবি: যুগান্তর

বিশ্বের একমাত্র জোয়ার-ভাটার মিঠা পানির প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র চট্টগ্রামের হালদা নদী। এই বিস্তীর্ণ এলাকায় এবার রুই জাতীয় (রুই, কাতাল, মৃগেল ও কালিবাউশ) মা-মাছ ডিম রেকর্ড পরিমাণ ডিম ছেড়েছে। 

বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে জোয়ারের সময় মা-মাছের কিছু নিষিক্ত ডিম পেলেও পরের দিন শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে পুরোদমে ডিম ছেড়েছে মা-মাছগুলো। যার পরিমাণ প্রায় ২৫ হাজার ৫৩৬ কেজি। 

মৎস্য অধিদফতর, হালদা রিভার রিচার্স সেন্টার ও হালদায় প্রকল্প কাজে নিয়োজিত এনজিও সংস্থা আইডিএফসহ তিনটি দফতরের কর্মকর্তারা মা-মাছের দেয়া এ নিষিক্ত ডিমের পরিমাণ নির্ধারণ করেছেন। যা বিগত ১২ বছরের রের্কডকে ছাড়িয়ে গেছে বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রুহুল আমিন। 

দেশে আবহাওয়া কিছুটা বৈরী হলেও হালদা নদীর আবহাওয়াগত পরিবেশ অনুকূলে থাকায় মা-মাছের দেয়া নিষিক্ত ডিম বংশ পরম্পরায় অভিজ্ঞ, দক্ষ, পরদর্শী প্রায় সাড়ে ৬শ' ডিম সংগ্রহকারী মৎস্যজীবী ২৮০টি নৌকায় ডিম ধরার মশারির জাল, বালতিসহ নানা সরঞ্জাম নিয়ে হালদার নদীর বুকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। 

দীর্ঘ অপেক্ষার পালা শেষে ডিম সংগ্রহকারী মৎস্যজীবীরা মা-মাছের নিষিক্ত আশানুরূপ ডিম সংগ্রহ করতে পেরে তাদের মাঝে বইছে আনন্দ-উৎসব। 

এ ছাড়া হালদা নদীতে ডিম সংগ্রহের ব্যস্ততা তথা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নদীতে মাছের নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করা ছিল হালদার ইতিহাসে বিরল ঘটনা। এমনটা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হালদা রিভার রিচার্স ল্যাবরেটরির সমন্বয়ক ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক হালদা গবেষক ড. মো. মঞ্জুরুল কিবরিয়া। 

সংগৃহীত মা-মাছের নিষিক্ত ডিমের পরিমাণ বেশি হওয়ায় হালদা পাড়ে কৃত্রিম রেণু পোনা উৎপাদনকারী ও বিক্রেতারা বেশ তৎপরতা চালাচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এতে করে প্রকৃত ডিম সংগ্রহকারী মৎস্যজীবীরা আতংকে ভুগছে। 

কৃত্রিম রেণু পোনা উৎপাদনকারী ও বিক্রেতার তৎপরতা সম্পর্কে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ডিএফও) ফারহানা লাভলী জানান, এই রকমের কোনো কিছু আমি দেখিনি। আমরা সার্বক্ষণিকভাবে হালদা পাড়ে অবস্থান করছি। লকডাউনের মধ্যে এ রকমের কোনো কিছু হওয়ার সম্ভবনা নেই। যদিও এরকমের কোনো কিছু দেখা যায় তা হলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে তিনি জানান। 

প্রসঙ্গত, প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদী চট্টগ্রামের হাটহাজারী, রাউজান ও ফটিকছড়ি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায়জুড়ে বয়ে গেছে। এটি বিশ্বের একমাত্র জোয়ার-ভাটা নদী যেখান থেকে সরাসরি রুই জাতীয় মাছের নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করা হয়। সাধারণত বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে পূর্ণিমায় প্রবল বর্ষণ আর মেঘের গর্জনের পর পাহাড়ি ঢল নামলে হালদা নদীতে রুই জাতীয় মাছ স্মরণাতীত কাল থেকে ডিম ছেড়ে আসছে।

হালদায় রেকর্ড পরিমাণ ডিম সংগ্রহ

 হাটহাজারী প্রতিনিধি 
২২ মে ২০২০, ০৮:৫৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
হালদা
ডিম সংগ্রহ। ছবি: যুগান্তর

বিশ্বের একমাত্র জোয়ার-ভাটার মিঠা পানির প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র চট্টগ্রামের হালদা নদী। এই বিস্তীর্ণ এলাকায় এবার রুই জাতীয় (রুই, কাতাল, মৃগেল ও কালিবাউশ) মা-মাছ ডিম রেকর্ড পরিমাণ ডিম ছেড়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে জোয়ারের সময় মা-মাছের কিছু নিষিক্ত ডিম পেলেও পরের দিন শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে পুরোদমে ডিম ছেড়েছে মা-মাছগুলো। যার পরিমাণ প্রায় ২৫ হাজার ৫৩৬ কেজি।

মৎস্য অধিদফতর, হালদা রিভার রিচার্স সেন্টার ও হালদায় প্রকল্প কাজে নিয়োজিত এনজিও সংস্থা আইডিএফসহ তিনটি দফতরের কর্মকর্তারা মা-মাছের দেয়া এ নিষিক্ত ডিমের পরিমাণ নির্ধারণ করেছেন। যা বিগত ১২ বছরের রের্কডকে ছাড়িয়ে গেছে বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রুহুল আমিন।

দেশে আবহাওয়া কিছুটা বৈরী হলেও হালদা নদীর আবহাওয়াগত পরিবেশ অনুকূলে থাকায় মা-মাছের দেয়া নিষিক্ত ডিম বংশ পরম্পরায় অভিজ্ঞ, দক্ষ, পরদর্শী প্রায় সাড়ে ৬শ' ডিম সংগ্রহকারী মৎস্যজীবী ২৮০টি নৌকায় ডিম ধরার মশারির জাল, বালতিসহ নানা সরঞ্জাম নিয়ে হালদার নদীর বুকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সংগ্রহ করতে দেখা গেছে।

দীর্ঘ অপেক্ষার পালা শেষে ডিম সংগ্রহকারী মৎস্যজীবীরা মা-মাছের নিষিক্ত আশানুরূপ ডিম সংগ্রহ করতে পেরে তাদের মাঝে বইছে আনন্দ-উৎসব।

এ ছাড়া হালদা নদীতে ডিম সংগ্রহের ব্যস্ততা তথা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নদীতে মাছের নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করা ছিল হালদার ইতিহাসে বিরল ঘটনা। এমনটা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হালদা রিভার রিচার্স ল্যাবরেটরির সমন্বয়ক ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক হালদা গবেষক ড. মো. মঞ্জুরুল কিবরিয়া।

সংগৃহীত মা-মাছের নিষিক্ত ডিমের পরিমাণ বেশি হওয়ায় হালদা পাড়ে কৃত্রিম রেণু পোনা উৎপাদনকারী ও বিক্রেতারা বেশ তৎপরতা চালাচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এতে করে প্রকৃত ডিম সংগ্রহকারী মৎস্যজীবীরা আতংকে ভুগছে।

কৃত্রিম রেণু পোনা উৎপাদনকারী ও বিক্রেতার তৎপরতা সম্পর্কে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ডিএফও) ফারহানা লাভলী জানান, এই রকমের কোনো কিছু আমি দেখিনি। আমরা সার্বক্ষণিকভাবে হালদা পাড়ে অবস্থান করছি। লকডাউনের মধ্যে এ রকমের কোনো কিছু হওয়ার সম্ভবনা নেই। যদিও এরকমের কোনো কিছু দেখা যায় তা হলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে তিনি জানান।

প্রসঙ্গত, প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদী চট্টগ্রামের হাটহাজারী, রাউজান ও ফটিকছড়ি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায়জুড়ে বয়ে গেছে। এটি বিশ্বের একমাত্র জোয়ার-ভাটা নদী যেখান থেকে সরাসরি রুই জাতীয় মাছের নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করা হয়। সাধারণত বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে পূর্ণিমায় প্রবল বর্ষণ আর মেঘের গর্জনের পর পাহাড়ি ঢল নামলে হালদা নদীতে রুই জাতীয় মাছ স্মরণাতীত কাল থেকে ডিম ছেড়ে আসছে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন