কার্ড থাকলেও ১০ টাকা কেজির চাল পান না তারা

  আব্বাস আলী, নওগাঁ প্রতিনিধি ২৪ মে ২০২০, ১৮:২৪:৫৩ | অনলাইন সংস্করণ

নওগাঁ সদর উপজেলার কীর্ত্তিপুর ইউনিয়নের বুজরুক আতিথা (মধ্যপাড়া) গ্রামের আ. জব্বার দেওয়ানের ছেলে ভ্যানচালক মাজেদুর রহমান দেওয়ান। সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজির চালের কার্ডের সুবিধাভোগী। কিন্তু ছয়বার তোলার পর আর চাল পান না তিনি।

শুধু মাজেদুর রহমানই না, তার মতো অনেক অসহায় ব্যক্তি আজ সরকারের সুবিধা থেকে বঞ্চিত। আবার কেউ খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতাভুক্ত না হয়েও ১০ টাকা কেজির চালের কার্ডের সুবিধাভোগ করছে। অনেকের নামে কার্ড থাকলেও সুবিধা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

স্থানীয় কীর্ত্তিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, মেম্বার ও সংশ্লিষ্ট ডিলারদের যোগসাজশে এ অনিয়ম করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মাজেদুর রহমান দেওয়ান জানান, ২০১৬ সালে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতাভুক্ত হন তিনি। ছয়বার চাল উত্তোলনের পর তার কার্ডটি হারিয়ে যায়। এর পর থেকে তিনি চাল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হন। কিন্তু তার নামে চাল উত্তোলন কখনো বন্ধ হয়নি।

কার্ড হারানোর পর চেয়ারম্যান ও মেম্বারের কাছে বহুবার ধর্না দিয়েছি। কার্ড যাচাই বাছাইয়ের নামে এবং কার্ডধারীদের চাল দিচ্ছি দিব বলে গত চার বছর পেরিয়ে গেছে। এরপর আশা ছেড়ে দিয়েছি। শুনছি আমার নামে চাল উত্তোলন করা হয়।

দাশকান্দি শা পাড়া গ্রামের রংমিস্ত্রি রিপন বলেন, আমার নামে কার্ড (৬১৮) হয়েছে শুনেছি। কিন্তু গত তিন বছরেও কার্ড হাতে পাইনি বা চাল উত্তোলন করতে পারিনি। আমার নামে অন্য মানুষরা চাল তোলে।

শেরপুর গ্রামের সিদ্দিকের স্ত্রী হাফিজা বলেন, তিনি ১০ টাকা কেজি চালের কার্ডের জন্য গ্রামের নাসির উদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে এক হাজার টাকা দিয়েছি। কিন্তু এখনো কোনো কার্ড পাইনি। চাল দেয়ার দিনে নাসির একটি স্লিপ হাতে ধরিয়ে দেন। স্লিপ দিয়ে কার্ড ছাড়াই এ বছরে গত তিনবারে ৩০ কেজি করে চাল পেয়েছেন।

একই কথা জানালেন মামুনের স্ত্রী শাপলা বিবি। তিনি কার্ডের জন্য দেড় হাজার টাকা দিয়েছেন। কার্ড না পেয়েও দুইবার চাল পেয়েছেন।

অভিযুক্ত নাসির উদ্দিন বলেন, কার্ড করে দেয়ার নামে আমি কারো কাছ থেকে টাকা নেয়নি। একজন চাল বিক্রি করে আরেকজন কিনে নেয়।

এ ইউনিয়নের ডিলার বেলাল হোসেন ও মাহাবুব হাসান বলেন, দুইজন ডিলারের আওতায় ১ হাজার ৩১৬টি কার্ড রয়েছে। এই কার্ডের বিপরীতে খাদ্য গুদাম থেকে চাল উত্তোলন এবং বিতরণ করা হয়। তবে একই পরিবারে একাধিক ব্যক্তির নামে কার্ড থাকায় প্রত্যয়নের কারণে অন্য ব্যক্তিকে চাল দেয়া হয়। এখানে কোনো অনিয়ম করা হয় না।

কীর্ত্তিপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আতোয়ার রহমান বলেন, কোনো কার্ডধারী চাল পেল কি পেল না, এটা ডিলারের বিষয়। কার্ডগুলো আমি চেয়ারম্যান হওয়ার আগে ইস্যুকৃত। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তবে ব্যাপক অনিয়ম আছে বলে মনে হয় না।

সদর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মোহাজের হাসান বলেন, এমন অভিযোগ বরদাস্ত করা যাবে না। ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ট্যাগ অফিসারের মাধ্যমে তৃতীয় দফা সংশোধন হচ্ছে। স্বচ্ছতা আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ওই ইউনিয়নে ইতিমধ্যে ২৩০টি কার্ড সংশোধন করা হয়েছে। আপাতত কোনো সমস্যা নাই। প্রয়োজনে আবারও সংশোধন করা হবে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত