সুদে নেয়া টাকা জুয়ায় খুইয়ে বিষপান দম্পতির, বেঁচে গেলেন স্ত্রী

  ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ২৬ মে ২০২০, ২৩:৪৮:১৪ | অনলাইন সংস্করণ

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে সুদে নেয়া টাকা জুয়া খেলে হেরে বিষপান করেছে এক দম্পতি । এতে স্বামী মারা গেলেও স্ত্রী বেঁচে গেছেন।

মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের মহেষপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, ওই গ্রামের আবদুল সালামের পুত্র হারুন মিয়া প্রায় ৫ বছর পূর্বে বিয়ে করেন পাশের গ্রামের নামাপাড়ার আবদুল হেকিমের কন্যা জেসমিন আক্তারকে। তাদের তিন বছর বয়সের হুমায়রা নামে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে হারুন জুয়া খেলায় আসক্ত হয়ে পড়েন। এ নিয়ে পরিবারের মাঝে প্রতি নিয়তই কলহ দেখা লেগে থাকত। জুয়ার টাকা সংগ্রহ করতে না পেরে প্রায়ই স্ত্রীর ওপর অত্যাচার নির্যাতন করতেন হারুন।

হারুনের মা খোরশেদা বেগম জানান, বয়োবৃদ্ধ স্বামী স্থানীয় একটি হাইস্কুলে দফতরির চাকরি করে সংসার চালাতেন। স্বামীর অসুস্থতার কারণে তার বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করে পুত্র হারুনকে এই পদে বহাল করেন। কিন্তু হারুন কোনো মতেই জুয়া খেলা ছাড়েনি।

তিনি জানান, হারুন সুদখোরদের কাছ থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা নিয়ে জুয়া খেলে হেরে যায়। সময় মতো টাকা পরিশোধ করতে না পারায় সুদখোররা বাড়িতে এসেও টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করতো। নিরুপায় হয়ে বাবা পুত্রের সুদের টাকা পরিশোধের জন্য জমি বিক্রি করে টাকা পরিশোধের সিদ্ধান্ত নিলেও করোনার জন্য জমি বিক্রি করা সম্ভব হয়নি।

মঙ্গলবার সকালে হারুন ঘরের জিনিসপত্র ভাঙচুর করে স্থানীয় বাজারে গিয়ে বিষ কিনে এনে নিজ ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করে সে নিজে ও স্ত্রী বিষ পান করে। ঘরের ভিতর তাদের গোঙানির শব্দ শুনে বাড়ির লোকজন দরজা ভেঙে তাদের উদ্ধার করে দ্রুত ঈশ্বরগঞ্জ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক হারুনকে মৃত ঘোষণা করেন। স্ত্রী জেসমিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি মোখলেছুর রহমান আকন্দ জানান, পাওনাদারদের ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় স্বামী-স্ত্রী বিষপান করেন।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত