ইউনাইটেড হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের সঠিক তদন্ত দাবি নিহত লিটনের পরিবারের
jugantor
ইউনাইটেড হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের সঠিক তদন্ত দাবি নিহত লিটনের পরিবারের

  বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি  

২৯ মে ২০২০, ২২:১৬:০৭  |  অনলাইন সংস্করণ

পরিবারের সঙ্গে লিটনের সেলফি
পরিবারের সঙ্গে লিটনের সেলফি।

ইউনাইটেড হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার সঠিক তদন্ত করে বিচার দাবি করেছেন ওই ঘটনায় নিহত রিয়াজুল আলম লিটনের পরিবারের সদস্যরা। প্রয়োজনে ইউনাইটেড হাসপাতালের নামে মামলা করা হবে বলে জানিয়েছেন নিহত লিটনের বড় ভাই রইসুল আযম ডাবলু।

স্বামীকে খুন করা হয়েছে দাবি করে লিটনের স্ত্রী ফৌজিয়া আক্তার জেনি বলেন, আমার স্বামীর জ্বর এবং সামান্য শ্বাসকষ্ট হয়েছিল। ভালো চিকিৎসা পাব সেই আশায় ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ করোনা সন্দেহে বন্ডে সই নিয়ে আমার স্বামীকে আইসোলেশন সেন্টারে নিয়ে যায়। যদি বন্ড সই না দেই তাহলে তারা ভর্তি নেবে না বলে জানিয়ে দেয়।

তিনি আরও বলেন, ভর্তির পর তারা আমার স্বামীকে পাশেই একটা গোডাউনের মতো একটি ঘরে আইসোলেশনে রাখে। এর পর তারা আমার সঙ্গে আর কোনো প্রকার কথা বলেনি। বাচ্চা ছোট থাকায় এক আত্মীয় আর গাড়িচালককে রেখে চলে আসি। ২ ঘণ্টা পর ফোন করে আমার আত্মীয় জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছে আপনার রোগী ভালো আছে রাতের খাবার খেয়েছে। একটু আরাম পাওয়ার জন্য হালকা অক্সিজেন দেয়া হয়েছে। 

লিটনের স্ত্রী আরও বলেন, আমার স্বামী সুস্থই ছিলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তিনি নিজেই বের হয়ে আসতে পারতেন এবং সঙ্গে আরও একজনকে নিয়ে আসতে পারতেন। কিন্তু ঘরে অতিরিক্ত দাহ্য পদার্থ থাকায় এবং ঘরের দরজা লক করা ছিল বলেই তিনি বের হতে পারিননি। এ কারণে আমি মনে করি আমার স্বামীকে খুন করা হয়েছে। আমাদের তিনজনের পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস ছিলেন আমার স্বামী। আমি এখন শিশু সন্তান নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছি। আমার সব শেষ হয়ে গেছে। আমি সরকারের কাছে বিচার চাই।

স্থানীয় বাসিন্দা অ্যাডভোকেট ওয়ারিস-উল ইসলাম অলি জানান, বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন তিনি। ঢাকাস্থ বীরগঞ্জ সমিতির উপদেষ্টা এবং লায়নস ক্লাব অব দিনাজপুর গার্ডেনের সাবেক সভাপতি ছিলেন। গরীব মেধাবী ছাত্রদের আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেছেন। বীরগঞ্জ গত বন্যায় এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত অনেক মানুষকে বাড়ি মেরামত করে দিয়েছেন। শীতের তীব্রতায় শীত বস্ত্র প্রদান করেছেন। সব শেষ করোনায় সাধারণ মানুষ যখন বিপদে আছেন তখন তাদের বাড়ি বাড়ি উপহার পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করেছেন লিটন। 

এ দিকে লিটনের এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন অনেকে।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় লিটনের লাশ গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরের বীরগঞ্জে নিয়ে আসা হয়। পরে বিকাল ৩টায় বাড়ির পাশে ঈদগা মাঠে জানাজা শেষে স্থানীয় দক্ষিণ সুজালপুর করবস্থানে বাবার পাশে দাফন করা হয়। 

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ পৌর শহরের সুজালপুর মাস্টারপাড়ার বাসিন্দা ফরজান আলীর ছেলে রিয়াজুল আলম লিটন। ৪ ভাই ও ১ বোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট লিটন। লেখাপড়া এবং চাকরি সূত্রে দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার শ্যামলী প্রিন্স বাজার এলাকায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করছেন তিনি। 

প্রসঙ্গত, গত ২৭ মে বুধবার রাত ৯টা ৫৫ মিনিটে ইউনাইটেড হাসপাতালের বর্ধিত অংশে করোনা ইউনিটে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট কাজ করে রাত সাড়ে ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। সেখানে থাকা ৫ জন রোগী মারা যান। অগ্নিকাণ্ডে নিহতরা হলেন মোহাম্মদ মাহবুব (৫০), মনির হোসেন (৭৫), ভেরন অ্যান্থনি পল (৭৪), খোদেজা বেগম (৭০) ও রিয়াজুল আলম লিটন (৫০)। এদের মধ্যে প্রথম ৩ জন করোনা আক্রান্ত ছিলেন। বাকি ২ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল। তারা রিপোর্টের অপেক্ষায় ছিলেন। মৃত্যুর পর জানা যায় নিহত রিয়াজুল আলম লিটন করোনা আক্রান্ত ছিলেন না।

ইউনাইটেড হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের সঠিক তদন্ত দাবি নিহত লিটনের পরিবারের

 বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি 
২৯ মে ২০২০, ১০:১৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
পরিবারের সঙ্গে লিটনের সেলফি
পরিবারের সঙ্গে লিটনের সেলফি।

ইউনাইটেড হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার সঠিক তদন্ত করে বিচার দাবি করেছেন ওই ঘটনায় নিহত রিয়াজুল আলম লিটনের পরিবারের সদস্যরা। প্রয়োজনে ইউনাইটেড হাসপাতালের নামে মামলা করা হবে বলে জানিয়েছেন নিহত লিটনের বড় ভাই রইসুল আযম ডাবলু।

স্বামীকে খুন করা হয়েছে দাবি করে লিটনের স্ত্রী ফৌজিয়া আক্তার জেনি বলেন, আমার স্বামীর জ্বর এবং সামান্য শ্বাসকষ্ট হয়েছিল। ভালো চিকিৎসা পাব সেই আশায় ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ করোনা সন্দেহে বন্ডে সই নিয়ে আমার স্বামীকে আইসোলেশন সেন্টারে নিয়ে যায়। যদি বন্ড সই না দেই তাহলে তারা ভর্তি নেবে না বলে জানিয়ে দেয়।

তিনি আরও বলেন, ভর্তির পর তারা আমার স্বামীকে পাশেই একটা গোডাউনের মতো একটি ঘরে আইসোলেশনে রাখে। এর পর তারা আমার সঙ্গে আর কোনো প্রকার কথা বলেনি। বাচ্চা ছোট থাকায় এক আত্মীয় আর গাড়িচালককে রেখে চলে আসি। ২ ঘণ্টা পর ফোন করে আমার আত্মীয় জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছে আপনার রোগী ভালো আছে রাতের খাবার খেয়েছে। একটু আরাম পাওয়ার জন্য হালকা অক্সিজেন দেয়া হয়েছে।

লিটনের স্ত্রী আরও বলেন, আমার স্বামী সুস্থই ছিলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তিনি নিজেই বের হয়ে আসতে পারতেন এবং সঙ্গে আরও একজনকে নিয়ে আসতে পারতেন। কিন্তু ঘরে অতিরিক্ত দাহ্য পদার্থ থাকায় এবং ঘরের দরজা লক করা ছিল বলেই তিনি বের হতে পারিননি। এ কারণে আমি মনে করি আমার স্বামীকে খুন করা হয়েছে। আমাদের তিনজনের পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস ছিলেন আমার স্বামী। আমি এখন শিশু সন্তান নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছি। আমার সব শেষ হয়ে গেছে। আমি সরকারের কাছে বিচার চাই।

স্থানীয় বাসিন্দা অ্যাডভোকেট ওয়ারিস-উল ইসলাম অলি জানান, বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন তিনি। ঢাকাস্থ বীরগঞ্জ সমিতির উপদেষ্টা এবং লায়নস ক্লাব অব দিনাজপুর গার্ডেনের সাবেক সভাপতি ছিলেন। গরীব মেধাবী ছাত্রদের আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেছেন। বীরগঞ্জ গত বন্যায় এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত অনেক মানুষকে বাড়ি মেরামত করে দিয়েছেন। শীতের তীব্রতায় শীত বস্ত্র প্রদান করেছেন। সব শেষ করোনায় সাধারণ মানুষ যখন বিপদে আছেন তখন তাদের বাড়ি বাড়ি উপহার পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করেছেন লিটন।

এ দিকে লিটনের এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন অনেকে।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় লিটনের লাশ গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরের বীরগঞ্জে নিয়ে আসা হয়। পরে বিকাল ৩টায় বাড়ির পাশে ঈদগা মাঠে জানাজা শেষে স্থানীয় দক্ষিণ সুজালপুর করবস্থানে বাবার পাশে দাফন করা হয়।

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ পৌর শহরের সুজালপুর মাস্টারপাড়ার বাসিন্দা ফরজান আলীর ছেলে রিয়াজুল আলম লিটন। ৪ ভাই ও ১ বোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট লিটন। লেখাপড়া এবং চাকরি সূত্রে দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার শ্যামলী প্রিন্স বাজার এলাকায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, গত ২৭ মে বুধবার রাত ৯টা ৫৫ মিনিটে ইউনাইটেড হাসপাতালের বর্ধিত অংশে করোনা ইউনিটে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট কাজ করে রাত সাড়ে ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। সেখানে থাকা ৫ জন রোগী মারা যান। অগ্নিকাণ্ডে নিহতরা হলেন মোহাম্মদ মাহবুব (৫০), মনির হোসেন (৭৫), ভেরন অ্যান্থনি পল (৭৪), খোদেজা বেগম (৭০) ও রিয়াজুল আলম লিটন (৫০)। এদের মধ্যে প্রথম ৩ জন করোনা আক্রান্ত ছিলেন। বাকি ২ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল। তারা রিপোর্টের অপেক্ষায় ছিলেন। মৃত্যুর পর জানা যায় নিহত রিয়াজুল আলম লিটন করোনা আক্রান্ত ছিলেন না।