সাতক্ষীরায় ৮১৭ বস্তা সরকারি গম কালোবাজারে বিক্রি, দুদকের মামলা

  সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ৩১ মে ২০২০, ১৯:২৯:৪৭ | অনলাইন সংস্করণ

ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ ও রাস্তা সংস্কারের জন্য বরাদ্দকৃত ৮১৭ বস্তা গম শ্যামনগর থেকে পাচারের পর কালিগঞ্জের মেসার্স মনি মুক্তা রাইস মিল থেকে আটক করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় দুদক খুলনার পরিদর্শক নীল কমল পাল ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এদের মধ্যে আটক হয়েছেন মিল মালিক আবদুল গফফারের ছেলে মনিরুল ইসলাম মনি, ম্যানেজার মুজাহিদুল ইসলাম মুকুল এবং শ্যামনগর উপজেলার কৈখালি ইউপি মেম্বার পবিত্র মণ্ডল। তাদেরকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, শ্যামনগর থেকে সরকারি গম পাচার করে কালিগঞ্জের ভাড়াশিমলা গ্রামের সুলতানপুর কলোনীর রাইস মিলে নেয়া হয়েছে- এমন খবরে কালিগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিরুল ইসলামের নেতৃত্বে কালিগঞ্জ থানার ওসি দেলোয়ার হুসাইন বুধবার বিকালে ওই রাইস মিলের গোডাউনে অভিযান চালান। এ সময় সেখান থেকে সরকারি বস্তাভর্তি ৮১৭ বস্তা গম জব্দ করে পুলিশ। যার বাজার মূল্য প্রায় ১৪ লাখ ৮৮ হাজার টাকা।

বৃহস্পতিবার সকালে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় খুলনার পরিদর্শক নীল কমল পাল কালিগঞ্জ থানায় আসেন। তিনি তদারকির পর গ্রেফতার তিনজনসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং কয়েকজনকে অজ্ঞাত দেখিয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তিনি নিজেই তদন্তভার গ্রহণ পূর্বক পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, গম উদ্ধারের পরপরই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে মিল মালিকের ছেলে মনিরুল ইসলাম মনি, মিলের ম্যানেজার মুজাহিদুল ইসলাম মুকুলকে বুধবার রাতেই আটক করা হয়। পরে তাদের দেয়া তথ্য এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকায় বৃহস্পতিবার শ্যামনগরের কৈখালি ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড সদস্য পবিত্র কুমার মণ্ডলকে তার নিজ বাড়ি পরানপুর থেকে আটক করা হয়।

এদিকে, সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থল ও কালিগঞ্জ থানা পরিদর্শন করে ঘটনার পেছনে কারা আছেন তা খতিয়ে দেখার তাগিদ দেন।

সূত্র জানায়, শ্যামনগর উপজেলার কৈখালি ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ ও রাস্তা সংস্কারের জন্য বরাদ্দ হওয়া বিপুল পরিমাণ এই গমের কাজ না করেই তা সংস্কার দেখিয়ে গম উত্তোলন করে বিক্রি করা হয় কালোবাজারে। এরপর ওই গম শ্যামনগর থেকে কালিগঞ্জের মনি মুক্তা রাইস মিলের গোডাউন ঘরে মজুদ রাখা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, এক জনপ্রতিনিধির ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী মোহাম্মাদ আলীর কাছ থেকে কালিগঞ্জের আরেক ব্যবসায়ী আবদুল গফফার ৫০টন গম ক্রয় করেন। তিনি জানান, আমি শ্যামনগরের মোহাম্মাদ আলীর কাছ থেকে ৪৯ টন ২’শ কেজি বিভিন্ন ডিও লেটারের গম ক্রয় করেছি।

শ্যামনগরের কৈখালি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুর রহিম জানান, আটককৃত গম ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ বরাদ্দ নয়, এটি বিশেষ বরাদ্দ। উপজেলা চেয়ারম্যান বা এমপি সাহেবের বরাদ্দ হতে পারে। তবে আটক ইউপি সদস্য তাকে বলেছেন, পরানপুর লেবুখালির আতিয়ার শেখের বাড়ি থেকে সাত্তারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের জন্য ওই বরাদ্দ আসে।

এদিকে, দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় খুলনার পরিদর্শক নীল কমল পাল জানান, সরকারি গম কাজ না করেই আত্মসাৎ করার ঘটনার সামনে-পেছনে যারাই আছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত