পরিচ্ছন্নকর্মীর কাছে দুঃখপ্রকাশ করেছেন ক্রিকেটার সাব্বির

  রাজশাহী ব্যুরো ০১ জুন ২০২০, ২১:১০:৩৮ | অনলাইন সংস্করণ

মারধরের অভিযোগ ওঠার পর রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) পরিচ্ছন্নকর্মী বাদশার কাছে দুঃখপ্রকাশ করেছেন ক্রিকেটার সাব্বির রহমান।

রাসিকের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নিযাম-উল-আযীম বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, রোববার রাতেই তার কাছে যান সাব্বির এবং তার বাবা। ডাকা হয় পরিচ্ছন্নকর্মীকেও। তখন উভয়পক্ষই দুঃখপ্রকাশ করেন।

এর আগে রোববার বিকালে নগরীর বেলদারপাড়া এলাকায় সাব্বির পরিচ্ছন্নকর্মী বাদশার বুকে একটি ধাক্কা মারেন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর অন্য পরিচ্ছন্নকর্মীরাও সাব্বিরের বাড়ির সামনে যান। সাব্বির দুঃখপ্রকাশ না করলে তার বাসার ময়লা নিয়ে যাওয়া হবে না বলে তারা ঘোষণা দেন।

এর আগে ঘটনার পরই সাব্বির বিষয়টি সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন এবং কাউন্সিলর নিযাম-উল-আযীমকে জানান। মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে বিষয়টির সমাধান চান তিনি।

কাউন্সিলর নিযাম-উল-আযীম বলেন, খুবই ছোট ঘটনা। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে অনেক বাড়াবাড়ি হয়ে গেল। রাতে সাব্বির এবং তার বাবা এসেছিলেন। পরিচ্ছন্নকর্মী বাদশাকেও ডাকা হয়েছিল। এ সময় সাব্বির এবং তার বাবা দুঃখপ্রকাশ করেন। বাদশাও দুঃখপ্রকাশ করেন। তারা বলেন, এ রকম ঘটনা ঠিক হয়নি। ভবিষ্যতে সবাই সতর্ক থাকবেন। এভাবে মীমাংসা হয়েছে।

সোমবার দুপুরে রাসিকের পরিচ্ছন্নকর্মী বাদশা বলেন, যেভাবে চোখ রাঙিয়ে ছুটে এসে সাব্বির আমাকে বুকে আঘাত করেছিল, তাতে খুব ব্যথা পেয়েছি। তবে মনের ব্যথাটা বড় ব্যথা। আমি সাব্বিরের বাবার বয়সী। ছেলের বয়সী কেউ গালি দিয়ে আঘাত করলে কষ্টটা বেশি লাগে।

বাদশা উল্টো চোখ রাঙিয়েছেন বলে সাব্বিরের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি ময়লা ফেলার কাজ করি। সাব্বিরকে না হয় নাই বা চিনলাম। গাড়ি নিয়ে কেউ হর্ন দিলে তাকে আমি চোখ রাঙাবো সেই সাহস কি আমার আছে?

তিনি বলেন, যা হয়ে গেছে, তা নিয়ে আর কথা বলতে চাই না। কাউন্সিলর সাহেব সব মিটমাট করে দিয়েছেন। তারা (সাব্বিরের পরিবার) দুঃখপ্রকাশ করেছেন। ওপর থেকেও কারও সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতে নিষেধ করেছে। আর কিছু না বলা আমার জন্য এখন ভালো।

এর আগে রাতে সাব্বির ঘটনার বিবরণ দিয়েছিলেন, তিনি এবং তার স্ত্রী গাড়িতে চড়ে বাইরে থেকে আসেন। এ সময় তার বাড়ির সামনে সিটি কর্পোরেশনের ময়লা নিয়ে যাওয়ার একটি ভ্যান দাঁড়িয়ে ছিল। যার কারণে তিনি বাসায় গাড়ি নিয়ে ঢুকতে পারছিলেন না। দুই মিনিট ধরে হর্ন দেয়ার পর আসেন পরিচ্ছন্নকর্মী বাদশা। তখন তার সঙ্গে শুধু কথা কাটাকাটি হয়েছে বলে দাবি করেন সাব্বির।

তিনি বলেন, মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। মাঝ রাস্তায় কাউকে কি মারধর করা এতই সহজ? বাদশা আমার পরিচিত। আমি তাকে ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা করি। তার কাছ থেকে এমন আচরণ আমি প্রত্যাশা করিনি। ঘটনা কিছুই না, কিন্তু আমার শত্রুর অভাব নেই। তারা বিষয়টাকে বড় করার চেষ্টা করছেন।

রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে ২০১৭ সালের ২১ ডিসেম্বর ‘ম্যাও’ বলে ডাকার কারণে এক কিশোরকে মারধর করেছিলেন সাব্বির রহমান। এ কারণে ছয় মাসের জন্য জাতীয় দল থেকে বহিষ্কার হয়েছিলেন তিনি। তারপর ফিরেছেন জাতীয় দলে। কিন্তু এবার তার বিরুদ্ধে পরিচ্ছন্নকর্মীকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন এই ক্রিকেটার।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত