ভালো ফল করেও কাঁদছে মেধাবী আশা
jugantor
ভালো ফল করেও কাঁদছে মেধাবী আশা

  চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি  

০১ জুন ২০২০, ২১:২৯:১৭  |  অনলাইন সংস্করণ

আশা খাতুন

শিক্ষা জীবনের শুরু থেকে কখনও দ্বিতীয় হননি আশা খাতুন (১৬)। অষ্টম শ্রেণিতে পেয়েছিলেন জিপিএ-৫ এবং ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি। এরই ধারাবাহিকতায় এবারের এসএসসি পরীক্ষায়ও বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পেয়েছেন গোল্ডেন জিপিএ-৫। তবে ভালো ফল করেও কাঁদছে এই মেধাবী ছাত্রী।

আগামীতে ডাক্তার হয়ে গরীব মানুষের সেবা করতে চায় আশা। কিন্তু তার ভবিষ্যৎ অন্তরায় হয়ে দেখা দিয়েছে দারিদ্র।

পাবনার চাটমোহর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের নিভৃতপল্লী রামপুর গ্রামের দিনমজুর আলাউদ্দিন আলী ও গৃহিণী ফরিদা খাতুনের মেয়ে আশা এবার উপজেলার চড়উকোল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে পাশ করায় পরিবারে বইছে আনন্দের বন্যা। কিন্তু ভালো ফলাফল করেও আগামীতে আশার পড়াশোনা নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে । দিনমজুর বাবার পক্ষে মেয়েকে ভর্তি করা বা তার পড়াশোনার খরচ চালানো কোনোমতেই সম্ভব নয়!

সোমবার সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, জীর্ণ একটি টিনের ছাপড়া ঘরে বাবা-মা, একমাত্র ভাই ফয়সালকে নিয়ে বসবাস আশা খাতুনের পরিবারের। বাড়িতে যাওয়ার নেই কোনো রাস্তা। জঙ্গলে পরিপূর্ণ বাড়ির চারিদিক। বাবার দিনমজুরির আয়ে কোনমতে সংসার চলে তাদের।

অশ্রুসিক্ত নয়নে আশা খাতুন এই প্রতিবেদককে বলেন, আব্বু যদি না পারে, তাহলে এভাবেই হয়তো ভবিষ্যৎ শেষ হয়ে যাবে। পড়াশোনা হবে না! কিন্তু আমার ইচ্ছে আছে ভালো কলেজে পড়াশোনা করার। পড়াশোনা শিখে ডাক্তার হয়ে গরীব মানুষের সেবা করার। কিন্তু আমাদের কোনো সম্পদ নেই যা বিক্রি করে পড়াশোনা করবো।

বাবা আলাউদ্দিন আলী যুগান্তরকে বলেন, আশা ভালো ফলাফল করায় খুব খুশি হয়েছি, কিন্তু দুশ্চিন্তা ঘিরে ধরেছে। মেয়ের সমবয়সীদের অনেকের বিয়ে হয়ে গেছে। কিন্তু শত কষ্টের মাঝেও তাকে পড়াশোনা করিয়েছি। কিন্তু নতুন করে চিন্তায় পড়েছি কীভাবে তার (আশা) পড়াশোনার খরচ চালাবো। আমার সামর্থ্য নেই মেয়েকে পড়াশোনা করানোর।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চড়ইকোল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাপস রঞ্জন তলাপাত্র যুগান্তরকে বলেন, আশা অসম্ভব মেধাবী। ও কোনো দিন ক্লাসে দ্বিতীয় হয়নি। দরিদ্রতা জয় করে ভালো ফলাফল করেছে। স্কুলের সুনাম বজায় রেখেছে। তবে ওর (আশা) লেখাপড়ার খরচ চালাতে বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত।

ভালো ফল করেও কাঁদছে মেধাবী আশা

 চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি 
০১ জুন ২০২০, ০৯:২৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
আশা খাতুন
আশা খাতুন

শিক্ষা জীবনের শুরু থেকে কখনও দ্বিতীয় হননি আশা খাতুন (১৬)। অষ্টম শ্রেণিতে পেয়েছিলেন জিপিএ-৫ এবং ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি। এরই ধারাবাহিকতায় এবারের এসএসসি পরীক্ষায়ও বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পেয়েছেন গোল্ডেন জিপিএ-৫। তবে ভালো ফল করেও কাঁদছে এই মেধাবী ছাত্রী।

আগামীতে ডাক্তার হয়ে গরীব মানুষের সেবা করতে চায় আশা। কিন্তু তার ভবিষ্যৎ অন্তরায় হয়ে দেখা দিয়েছে দারিদ্র।

পাবনার চাটমোহর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের নিভৃতপল্লী রামপুর গ্রামের দিনমজুর আলাউদ্দিন আলী ও গৃহিণী ফরিদা খাতুনের মেয়ে আশা এবার উপজেলার চড়উকোল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে পাশ করায় পরিবারে বইছে আনন্দের বন্যা। কিন্তু ভালো ফলাফল করেও আগামীতে আশার পড়াশোনা নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে । দিনমজুর বাবার পক্ষে মেয়েকে ভর্তি করা বা তার পড়াশোনার খরচ চালানো কোনোমতেই সম্ভব নয়!

সোমবার সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, জীর্ণ একটি টিনের ছাপড়া ঘরে বাবা-মা, একমাত্র ভাই ফয়সালকে নিয়ে বসবাস আশা খাতুনের পরিবারের। বাড়িতে যাওয়ার নেই কোনো রাস্তা। জঙ্গলে পরিপূর্ণ বাড়ির চারিদিক। বাবার দিনমজুরির আয়ে কোনমতে সংসার চলে তাদের।

অশ্রুসিক্ত নয়নে আশা খাতুন এই প্রতিবেদককে বলেন, আব্বু যদি না পারে, তাহলে এভাবেই হয়তো ভবিষ্যৎ শেষ হয়ে যাবে। পড়াশোনা হবে না! কিন্তু আমার ইচ্ছে আছে ভালো কলেজে পড়াশোনা করার। পড়াশোনা শিখে ডাক্তার হয়ে গরীব মানুষের সেবা করার। কিন্তু আমাদের কোনো সম্পদ নেই যা বিক্রি করে পড়াশোনা করবো।

বাবা আলাউদ্দিন আলী যুগান্তরকে বলেন, আশা ভালো ফলাফল করায় খুব খুশি হয়েছি, কিন্তু দুশ্চিন্তা ঘিরে ধরেছে। মেয়ের সমবয়সীদের অনেকের বিয়ে হয়ে গেছে। কিন্তু শত কষ্টের মাঝেও তাকে পড়াশোনা করিয়েছি। কিন্তু নতুন করে চিন্তায় পড়েছি কীভাবে তার (আশা) পড়াশোনার খরচ চালাবো। আমার সামর্থ্য নেই মেয়েকে পড়াশোনা করানোর।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চড়ইকোল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাপস রঞ্জন তলাপাত্র যুগান্তরকে বলেন, আশা অসম্ভব মেধাবী। ও কোনো দিন ক্লাসে দ্বিতীয় হয়নি। দরিদ্রতা জয় করে ভালো ফলাফল করেছে। স্কুলের সুনাম বজায় রেখেছে। তবে ওর (আশা) লেখাপড়ার খরচ চালাতে বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত।

 

ঘটনাপ্রবাহ : এসএসসি পরীক্ষা-২০২০

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন