রোটেশনে উধাও স্বাস্থ্যবিধি, ভয়াবহ সংক্রমণের শংকা

  সাইদুর রহমান পান্থ, বরিশাল ব্যুরো ০১ জুন ২০২০, ২১:৩২:০৮ | অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ শুরুর পর থেকে ২ মাস ৬ দিন বন্ধ ছিল ঢাকা বরিশাল রুটে লঞ্চ চলাচল। গত শনিবার থেকে সরকারি নির্দেশে সীমিত আকারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে লঞ্চ চলাচল শুরু হয়। কিন্তু দুই প্রান্তে ছিল যাত্রীদের প্রচণ্ড ভিড়।

পাশাপাশি লঞ্চ মালিকদের সিন্ডিকেটে (রোটেশন প্রথা) প্রথম দিনেই উধাও হয়ে যায় স্বাস্থ্যবিধি। যার কারণে প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ভয়াবহ আকারে বৃদ্ধির শংকা প্রকাশ করেছে যাত্রীসহ সংশ্লিষ্টরা। যদিও রোটেশন শব্দটি মানতে নারাজ লঞ্চ মালিকরা। বিষয়টি নিয়ে নির্বিকার বিআইডব্লিউটিএসহ সরকারের নানা সংস্থাও।

বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-বরিশাল রুটে বর্তমানে চলাচল করছে ৩০টি লঞ্চ। নিয়ম অনুসারে এর অর্ধেক লঞ্চ ঢাকা সদর ঘাটে ও অর্ধেক লঞ্চ বরিশাল লঞ্চঘাটে থাকার কথা। কিন্তু রোটেশন পদ্ধতিতে মালিকরা দুই প্রান্ত মিলে কখনই ৮/১০টির বেশি লঞ্চ চালান না। ফলে যাত্রীরা ন্যূনতম সেবা দূরে থাক, লঞ্চে পা ফেলার জায়গাও পান না। করোনার এই মৌসুমেও চলছে এই রোটেশন প্রথা। প্রথম দিন মাত্র ৪টি লঞ্চ বরিশাল থেকে ছেড়ে গেছে। ঢাকা সদরঘাট থেকে মাত্র ৬টি লঞ্চ ছেড়ে বরিশালে এসেছে।

যাত্রী চাপ বেশি থাকায় সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি উধাও হয়ে গেছে এখানে। কিন্তু দুই প্রান্তে সমান পরিমান লঞ্চ থাকলে বা পরিবহন করলে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা যেতো। তবে এতে লাভ কম হতো লঞ্চ মালিকদের। তাই তারা সব লঞ্চ চলাচল না করিয়ে অল্প লঞ্চ দিয়ে যাত্রী পরিবহন করাচ্ছে। যার কারণে তারা লঞ্চে বেশি যাত্রী আনা নেয়া করাতে পারছে। আর বেশি মুনাফা পাচ্ছে। যদিও রোটেশন প্রথা নেই বলে দাবী করে লঞ্চ মালিকরা। এছাড়া বাসে যেভাবে ৬০ ভাগ বেশি ভাড়া নেয়া হচ্ছে তারা সেটা করছে না বলে দাবী তাদের।

সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের বরিশাল জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু বলেন, আমরা কেবল একটা দাবি জানাই, অন্য দিনগুলোয় না হলেও অন্তত করোনার এই সময়ে যেন রোটেশন ভেঙে লঞ্চ চালান মালিকরা। এতে খানিকটা হলেও দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করা যাবে।

বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সাবেক সভাপতি ও আইনজীবী এসএম ইকবাল বলেন, ৫ বছর আগেও এই রুটে ১০-১২টি লঞ্চ চলত। এখন চলে ২৮-৩০টি। মালিকদের যদি এতই লোকসান, তাহলে ফি বছর লঞ্চের সংখ্যা বাড়ছে কেন? এ ঘটনাই প্রমাণ করে, লোকসানের যেসব কথা বলা হচ্ছে, তা পুরোপুরি মিথ্যা। তারা অতি লাভের আশায় রোটেশন করে যাত্রী পরিবহন করছে।

শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি ও প্রবীণ আইনজীবী মানবেন্দ্র বটব্যাল বলেন, লঞ্চ মালিকরা যাত্রীদের জিম্মী করে রোটেশন প্রথা চালু করেছে। আদালত এই রোটেশন প্রথাকে অবৈধ ঘোষণা করলেও তা মানছেন না লঞ্চ মালিকরা। এমনকি এই না মানার প্রবনতা দুর করতে এগিয়ে আসছে না কোন সরকারি সংস্থা। প্রতিদিন উভয় প্রান্ত থেকে ১০টি করে ২০টি লঞ্চ চলাচল করলে সরকার যে স্বাস্থ বিধির কথা বলেছে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হতো। কিন্তু মালিকরা মুনাফার কারণে আগের নিয়ম বহাল রাখায় ঝঁকিপূর্ন হয়ে উঠবে এই রুট।

বাংলাদেশ নৌ চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থার কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও সুন্দরবন নেভিগেশনের চেয়ারম্যান, বরিশাল চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, ঢাকা বরিশাল নৌ রুটে ৩০টি নয় ২৩টি লঞ্চ চলাচল করে। এর মধ্যে নিয়মিত চলাচল করে ১৮ থেকে ২০টি লঞ্চ। সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএতে আমাদের মিটিং হয়েছে। সেখানে ধারণ ক্ষমতার মধ্যে লঞ্চ পরিচালনার কথা বলা হয়েছে। বাসে ৬০ ভাগ ভাড়া বৃদ্ধি করা হলেও আমরা পূর্বের ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করছি।
তিনি বলেন, লঞ্চ সার্ভের সময় যে অনুযায়ী ধারণ ক্ষমতা দেয়া হয়, সেই অনুযায়ী যাত্রী পরিবহন করলে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত হবে। তবে শনিবার প্রথম দিন থাকায় একটু এলোমেলো হয়েছে। রোববার বরিশাল থেকে ৬টি লঞ্চ ছাড়া হচ্ছে। আজ আর সমস্যা হবে না।

তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, রোটেশন প্রথা নেই। কেউ কেউ লঞ্চ চালাচ্ছে না। করোনার কারণে কেউ চালাচ্ছে না, আবার অনেক স্টাফ না আসার কারণে লঞ্চ চালাতে পাড়ছে না। যাত্রীদের সুরক্ষায় অনেক কার্যক্রম নেয়া হয়েছে। তবে সবার আগে যাত্রীদের সচেতন হতে হবে। তবেই করোনা সংক্রমণ এড়ানো যাবে।

বিআইডব্লিউটিএ বরিশালের নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাবের যুগ্ম পরিচালক আজমল হুদা মিঠু সরকার জানান, লঞ্চ মালিকদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে লঞ্চ পরিচালনার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে লঞ্চের সংখ্যা কম রয়েছে। অন্তত ৭টি করে লঞ্চ চলাচল করলে স্বাস্থ্য বিধি রক্ষা করা যাবে। এ বিষয়ে তাদের বার বার বলা হচ্ছে। বরিশাল জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান বলেন, সকালেও এই বিষয়ে লঞ্চ মালিকদের সঙ্গে মিটিং করেছি। সেখানে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। করোনা সংক্রমণ এড়াতে সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিতের বিকল্প নেই। লঞ্চ মালিকরা বলেছেন তারা লঞ্চের সংখ্যা বাড়াবেন। এ বিষয়ে সরকারও কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত