বরিশালে মহাশ্মশান কমিটির অমানবিক কার্যক্রমে ক্ষোভ

  বরিশাল ব্যুরো ০১ জুন ২০২০, ২২:৩৪:৪৬ | অনলাইন সংস্করণ

ঐতিহ্যবাহী বরিশাল মহাশ্মশানে করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত ব্যক্তির সৎকারে বাঁধা দেয়ার ঘটনায় ক্ষোভ বিরাজ করছে সুশীল সমাজের মধ্যে। শ্মশান রক্ষা কমিটির কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

এ ব্যাপারে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের বরিশাল জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু বলেন,সব কিছুতে এখন দলীয় করণ হয়ে যাচ্ছে। দলের প্রভাবে এখন সব স্থানেই পদ পদবী দেয়া হয়। যার কারণে মানবিক বিষয়গুলো তাদের ভিতর থাকে না। পবিত্র এসব জায়গায় এই সম্পর্কে জানে এবং বোঝে তাদেরই নেতৃত্বে বসানো উচিত। অন্যথায় কাণ্ডজ্ঞানহীন এই ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটবে।

বরিশাল মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুরঞ্জিৎ দত্ত লিটু বলেন,অভিযোগের বিষয়টি যদি সত্যি হয় তাহলে সেটা দুঃখজনক। আমরা বিষয়টি শুনেছি এবং সৎকারের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা করেছি। এছাড়া এই ধরনের কর্মকাণ্ড যাতে ভবিষ্যতে না হয় সে বিষয়ে নজর রাখা প্রয়োজন।

বরিশাল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি পুলক চ্যাটার্জী বলেন,ঐতিহ্যবাহী মহাশ্মশান থেকে এমন ঘটনা শোনাটা সত্যিই দুঃখজনক। ওখানকার কমিটি থেকে এমন কর্মকাণ্ড আশা করিনি কখনও। এমন জায়গায় জ্ঞানী লোক দরকার। যারা সৎকারে বাঁধা দিয়েছেন মনে করি তাদের শিক্ষার যথেষ্ট অভাব রয়েছে।

শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি ও প্রবীন আইনজীবী মানবেন্দ্র বটব্যাল বলেন,শনিবারের ঘটনাটি অমানবিক। হোক করোনা রোগী বা যে কোনো ব্যধিতে মৃত্যুবরণকারী তার এখানে সৎকারের অধিকার ও বিধান রয়েছে।

এমন ঘটনাও আছে যে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের বাহিরের লোকের সৎকারও এই মহাশ্মশানে করা হয়েছে। আবার এমনও রয়েছে এখানে সৎকারই হয়নি কিন্তু তার সমাধি এখানে স্থাপন করা হয়েছে।

মহাশ্মশান রক্ষাকারী নেতৃবৃন্দ যে আচরণ ও ব্যক্তিত্বের প্রমাণ দিয়েছে তা লজ্জাজনক। বরিশালে বসবাসকারী হিন্দু সমাজের জন্য দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন মানবেন্দ্র বটব্যাল।

বরিশাল জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান জানান, মহাশ্মশানে শনিবার যে ঘটনা ঘটেছে সেটা শ্মশান কমিটির অনীহার কারণেই ঘটেছে। তাদের ডেকে এই ধরনের কোনো কাজ যাতে না হয় সেজন্য কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, করোনা উপসর্গ নিয়ে শনিবার বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু হয় নগরীর ধানগবেষনা রোডের বাসিন্দা নিতাই চন্দ্র শীলের। তবে তার মরদেহ সৎকারের জন্য বরিশাল মহাশ্মশানে ওইদিন বিকালে নেয়া হলে তাতে বাঁধা দেয়ার অভিযোগ ওঠে শ্মশান কমিটির সাধারণ সম্পাদক তমাল মালাকারের বিরুদ্ধে। পরে বৃষ্টিতে ভিজে মরদেহ নিয়ে শ্মশানের বাইরে অপেক্ষা করেন মৃতের স্ত্রী মঞ্জু রানী। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার ঝড় শুরু হয়।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত