চৌহালীতে সরকারী ধান ক্রয়ে অনিয়মের চেষ্টা

  চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি ০১ জুন ২০২০, ২৩:৩৯:২৫ | অনলাইন সংস্করণ

সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে সরকারী ন্যায্য মূল্যে বোরো ধান ক্রয়ে একটি প্রভাবশালী মহল গোপনে তালিকা দিয়ে অনিয়মের চেষ্টা করছে।

সোমবার দুপুরের দিকে বিতর্কিত সেই তালিকা বাদ দিয়ে প্রকৃত ধানচাষীদের তালিকা অনুযায়ী লটারি সম্পন্ন করেছে উপজেলা ধান ক্রয় কমিটি। এতে প্রকৃত ধানচাষীরা খুশি।

উপজেলা খাদ্য ও কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চরাঞ্চল অধ্যুষিত চৌহালীর ৭টি ইউনিয়নের কৃষকদের কাছ থেকে লটারির মাধ্যমে সরকারীভাবে এ বছর ন্যায্য মূল্যে ৪৩২ মেট্রিক টন ধান ক্রয়ের বরাদ্দ পাওয়া গেছে। প্রতিটি কৃষক সর্বোচ্চ ৩ মেট্রিক টন ধান বিক্রি করতে পারবে। প্রতি মন সরকারী মূল্য পাবেন ১ হাজার ৪০ টাকা।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন জানান, প্রকৃত ধানচাষী কৃষকদের একটি তালিকা করতে সরকারী নির্দেশনা রয়েছে। সে অনুযায়ী কৃষি অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কাজ করছে। কিন্তু প্রায় দুই সপ্তাহ আগে অফিস সহায়ক সোহেলের মাধ্যমে উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক সরকারের দেয়া ৪শ কৃষকের একটি তালিকা হাতে পাই। সেটা দ্রুত পাশ করিয়ে দেবার জন্য খাদ্য অফিস আমাদের চাপ সৃষ্টি করে।

বাধ্য হয়ে সেখানে কৃষি কর্মকর্তার সিল ও তার পক্ষে সাক্ষর দিয়ে তালিকাটি খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেই। বিষয়টি জানাজানি হলে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এতে প্রকৃত কৃষকরা সরকারী সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছেন এমন অভিযোগ ওঠে।

পরে চেয়ারম্যানের তালিকাটি বাতিল করে সোমবার সকালে কৃষি অফিসের এসও দের দেয়া তালিকা অনুযায়ী উপজেলা ধান ক্রয় কমিটি লটারি সম্পন্ন করেছে। এখন আর এ নিয়ে কোন সমস্যা বা বিরোধ নেই।

তবে চাপ সৃষ্টির অভিযোগ অস্বীকার করে চৌহালী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবদুল মালেক খন্দকার জানান, কৃষি অফিস থেকে প্রথমে যে তালিকা এসেছিলো সেটা সন্দেহ হলে বাতিল করে দেই। এ নিয়ে একটু বিভ্রান্তিতে পড়েছিলাম। পরে আজকের দিনের মধ্যে আবার নতুন করে তালিকা কৃষি অফিস আমাদের দিয়েছিল, সেটা দ্রুতই ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

এ দিকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জেরিন আহমেদ বলেন, অনিয়মের সুযোগ নেই, কারও সুপারিশ গ্রহণ করা হয়নি। এখানে দু’গ্রুপের দ্বন্দ্ব চলার কারণে একটু সমস্যা হয়েছিল। তবে কেউ আমার সিল ও সাক্ষর জাল করলে সেটা ঠিক করেনি।

এ ঘটনায় ধান ক্রয় কমিটির সভাপতি ও চৌহালী ইউএনও দেওয়ান মওদুদ আহমেদ বলেন, এসব কিছু আমাকে জানায়নি। তবে লটারিতে বিজয়ীরাই সরকারী ন্যায্য মূল্যে ধান বিক্রি করতে পারবে এতে কোনো সন্দেহ নেই।

এ ব্যাপারে চৌহালী উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক সরকার জানান, ধান ক্রয়ের তালিকার বিষয়ে আমি কিছু জানি না, এসব আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত