ধার করা বই পড়ে জিপিএ-৫ পেল শিল্পী আক্তার
jugantor
ধার করা বই পড়ে জিপিএ-৫ পেল শিল্পী আক্তার

  কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি  

০২ জুন ২০২০, ২০:৪৩:৪০  |  অনলাইন সংস্করণ

সহায়ক বই আর টেস্ট পেপার কেনার সামর্থ্য ছিল না। তাই সহপাঠী আর শিক্ষকদের কাছ থেকে বই ধার নিয়ে পড়ে আবার ফেরত দিত। অর্থাভাবে প্রাইভেট টিউশনির টাকা জোগাতে পারত না।

এভাবে শতেক বাঁধা পেরিয়ে সাফল্য ছিনিয়ে এনেছে কুড়িগ্রাম সদরের শিল্পী আক্তার। তার ইচ্ছা ভবিষ্যতে চিকিৎসক হওয়ার। কিন্তু সামনে বিস্তর পথ কীভাবে পাড়ি দেবে তা জানে না অটোরিকশাচালকের মেয়ে শিল্পী।

শিল্পী আক্তার এ বছর কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী বহুমুখী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে একমাত্র জিপিএ-৫ পাওয়া সৌভাগ্যবান। আশপাশের স্কুলগুলোর মধ্যে তার সাফল্যই সেরা।

শিল্পীর বাড়ি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের শিবরাম ফকিরপাড়া গ্রামে। বাবা শফিকুল ইসলাম পেশায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক। দিনভর অটোচালিয়ে খরচ মেটানোর পর ২৫০-৩০০ টাকা আয় হয়। তাই দিয়ে কোনোমতে সংসারের হাল ধরে আছেন। বাড়ি-ভিটার ৭ শতক জমি ছাড়া কিছুই নেই চার সদস্যের এই পরিবারটির।

অনেক কষ্টে লেখাপড়া করে সাফল্যলাভ করা শিল্পী বলে, ‘এসএসসি টেস্ট পেপার কেনার সামর্থ্য না থাকায় সহপাঠীদের কাছ থেকে বই ধার করে এনে দুই-একদিন পড়ে ফেরত দিয়েছি। একইভাবে স্যারদের কাছ থেকে সৌজন্য সংখ্যা এনে পড়ে আবার ফেরত দিতে হয়েছে।’

শিল্পী জানায়, তার বাবার সামান্য আয়ে সংসার চলত না ঠিকমতো। বড় ভাই রুবেল আহমেদ কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজে স্নাতক শ্রেণিতে পড়েন। দুই ভাই-বোনের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে হিমশিম খাওয়া বাবা খরচ মেটাতে না পারায় ঠিকমতো প্রাইভেট টিউশনি পড়তে পারিনি। স্কুলের শিক্ষকের সহযোগিতা, বাবা-মা আর বড়-ভাইয়ের অনুপ্রেরণার ফলে তার স্বপ্ন পূরণের প্রথম ধাপ পেরুনো সম্ভব হয়েছে।

শিল্পীর ইচ্ছা চিকিৎসক হওয়া। যদিও সে জানে তার স্বপ্ন পূরণের পথে পথে রয়েছে অনেক বাঁধা। তবুও হাল ছাড়তে রাজী নয় সে। নিজের কঠোর পরিশ্রম আর চেষ্টার সঙ্গে কারো সহায়তা পেলে হতে পারে তার ইচ্ছাপূরণ।

কাঁঠালবাড়ী বহুমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুল আহসান বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই শিল্পী খুব মেধাবী। অনেক কষ্টে সে লেখাপড়া করত। তবে কখনও হতাশ হতে দেখিনি। তার এই ফলাফলে আমরা সত্যি গর্বিত।’

ধার করা বই পড়ে জিপিএ-৫ পেল শিল্পী আক্তার

 কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি 
০২ জুন ২০২০, ০৮:৪৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

সহায়ক বই আর টেস্ট পেপার কেনার সামর্থ্য ছিল না। তাই সহপাঠী আর শিক্ষকদের কাছ থেকে বই ধার নিয়ে পড়ে আবার ফেরত দিত। অর্থাভাবে প্রাইভেট টিউশনির টাকা জোগাতে পারত না।

এভাবে শতেক বাঁধা পেরিয়ে সাফল্য ছিনিয়ে এনেছে কুড়িগ্রাম সদরের শিল্পী আক্তার। তার ইচ্ছা ভবিষ্যতে চিকিৎসক হওয়ার। কিন্তু সামনে বিস্তর পথ কীভাবে পাড়ি দেবে তা জানে না অটোরিকশাচালকের মেয়ে শিল্পী।

শিল্পী আক্তার এ বছর কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী বহুমুখী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে একমাত্র জিপিএ-৫ পাওয়া সৌভাগ্যবান। আশপাশের স্কুলগুলোর মধ্যে তার সাফল্যই সেরা।

শিল্পীর বাড়ি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের শিবরাম ফকিরপাড়া গ্রামে। বাবা শফিকুল ইসলাম পেশায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক। দিনভর অটোচালিয়ে খরচ মেটানোর পর ২৫০-৩০০ টাকা আয় হয়। তাই দিয়ে কোনোমতে সংসারের হাল ধরে আছেন। বাড়ি-ভিটার ৭ শতক জমি ছাড়া কিছুই নেই চার সদস্যের এই পরিবারটির।

অনেক কষ্টে লেখাপড়া করে সাফল্যলাভ করা শিল্পী বলে, ‘এসএসসি টেস্ট পেপার কেনার সামর্থ্য না থাকায় সহপাঠীদের কাছ থেকে বই ধার করে এনে দুই-একদিন পড়ে ফেরত দিয়েছি। একইভাবে স্যারদের কাছ থেকে সৌজন্য সংখ্যা এনে পড়ে আবার ফেরত দিতে হয়েছে।’

শিল্পী জানায়, তার বাবার সামান্য আয়ে সংসার চলত না ঠিকমতো। বড় ভাই রুবেল আহমেদ কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজে স্নাতক শ্রেণিতে পড়েন। দুই ভাই-বোনের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে হিমশিম খাওয়া বাবা খরচ মেটাতে না পারায় ঠিকমতো প্রাইভেট টিউশনি পড়তে পারিনি। স্কুলের শিক্ষকের সহযোগিতা, বাবা-মা আর বড়-ভাইয়ের অনুপ্রেরণার ফলে তার স্বপ্ন পূরণের প্রথম ধাপ পেরুনো সম্ভব হয়েছে।

শিল্পীর ইচ্ছা চিকিৎসক হওয়া। যদিও সে জানে তার স্বপ্ন পূরণের পথে পথে রয়েছে অনেক বাঁধা। তবুও হাল ছাড়তে রাজী নয় সে। নিজের কঠোর পরিশ্রম আর চেষ্টার সঙ্গে কারো সহায়তা পেলে হতে পারে তার ইচ্ছাপূরণ।

কাঁঠালবাড়ী বহুমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুল আহসান বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই শিল্পী খুব মেধাবী। অনেক কষ্টে সে লেখাপড়া করত। তবে কখনও হতাশ হতে দেখিনি। তার এই ফলাফলে আমরা সত্যি গর্বিত।’

 

ঘটনাপ্রবাহ : এসএসসি পরীক্ষা-২০২০

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন