বাঘা পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ 

  রাজশাহী ব্যুরো ০২ জুন ২০২০, ২০:৫৫:৩৪ | অনলাইন সংস্করণ

রাজশাহীর বাঘা পৌরসভার মেয়র আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে ভুয়া প্রকল্প দাখিল করে বিল উত্তোলন, হাট-বাজার ও পৌর মার্কেট ইজারার অর্থ লোপাট, এডিপি প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ, বিমান ট্রাভেল এজেন্সিতে বাকি পরিশোধ না করা, ডেঙ্গু ও চলমান করোনা সংকটের নামে ভুয়া ভাউচার দাখিল এবং চলমান ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৬টি কাজে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

এ সব অভিযোগের কারণে পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশন ও জেলা প্রশাসকসহ বেশ কয়েকটি দফতরে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক ফোরামের নেতা সৈকত মাহামুদসহ স্থানীয় এক ঠিকাদার।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মেয়র আব্দুর রাজ্জাক পৌরসভার দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে পৌর প্রকৌশলীর মাধ্যমে অনিয়ম ও দুর্নীতি করে চলেছেন। তার বিরুদ্ধে মেসার্স রিপা এন্টারপ্রাইজের মালিক রবিউল ইসলাম ১ জুন বাঘা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। যার নম্বর ৮। সেখানে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে কদমতলা ডাব্লিউ বিএম রাস্তা উন্নয়ন কাজ না করে ৩ লাখ ৫১ হাজার টাকা এবং একটি বিপি কোটেশন কাজে ২ লাখ ২৮ হাজার টাকা রিপা এন্টারপ্রাইজের লাইসেন্সের নামে ভুয়া বিল উত্তোলনের কথা উল্লেখ করায় তাকে হুমকি দেয়ার অভিযোগে তিনি এই জিডি করেন।

এর আগে মেয়র আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশন ও জেলা প্রশাসকসহ বেশ কয়েকটি দফতরে অভিযোগ করেন সচেতন নাগরিক ফোরামের নেতা সৈকত মাহামুদ।

তিনি তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, ২০১৮-২০১৯ এবং ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে পৌরসভার চণ্ডিপুর গরুহাট মেয়র তার নিজস্ব ঠিকাদারকে ১ কোটি ৩১ লাখ টাকায় ইজারা দেন। এই ইজারা দেয়ার পর এখনও ৬০ লাখ টাকা অনাদায়ী রয়েছে এবং ইজারা বাবদ এখন পর্যন্ত আয়কর ভ্যাট ব্যাংকে জমা হয়নি। অনুরূপভাবে বাঘার হাট দুইবারে ৮০ লাখ টাকা ইজারা দেয়া হলেও অনাদায়ী রয়েছে ৩০ লাখ টাকা।

অন্যদিকে বাঘা বাজারে পৌরসভার অর্থায়নে পৌর মার্কেট নির্মাণের পর ২৩টি দোকান বাবদ ১ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেলেও ব্যাংকে জমা হয়েছে মাত্র ৬০ লাখ টাকা। বাকি ৪০ লাখ টাকা মেয়র আব্দুর রাজ্জাক তার নিজ প্রয়োজনে খরচ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে এডিপি প্রকল্পের আওতায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার ভুয়া বিল দাখিল করে সরকারি টাকা আত্মসাতসহ বাঘা শাহি দীঘি উন্নয়ন এবং বাঘা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গেট নির্মাণ কাজ অসম্পন্ন রেখে ঠিকাদারকে বিল প্রদানের অভিযোগ করেন সৈকত মাহামুদ। যার সত্যতা স্বীকার করেন বাঘা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনজারুল ইসলাম।

বাঘা অনলাইন ভিসা এজেন্সির পরিচালক রাসেল রহমান জানান, পৌর মেয়র আব্দুর রাজ্জাক বিভিন্ন সময় তার কাছ থেকে রাজশাহী হতে ঢাকাসহ ভারত যাওয়ার জন্য বিমানের টিকিট ক্রয় করেন। তিনি এ বাবদ মেয়রের কাছে ৮৬ হাজার টাকা পাবেন। অথচ তিনি সেই টাকা পরিশোধ করছেন না।

বাঘা পৌরসভার কার্যসহকারী জিন্নাত আলী বলেন, বর্তমানে শহর উন্নয়ন অবকাঠামো খাতে বাঘা পৌরসভার অধীন প্রায় ৭ কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। এ সব কাজের মধ্যে রয়েছে রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ।

তিনি বলেন, সম্প্রতি পাকুড়িয়া এলাকায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি রাস্তার কাজ দেখভাল করতে গিয়ে ব্যাপক অনিয়ম হওয়ায় তিনি সেই কাজ বন্ধ করে দেন। এর কিছুক্ষণ পর পৌরসভার প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম তাকে সেখান থেকে ফোন করে পৌরসভায় ডেকে নেন। এরপর ইচ্ছামতো অনিয়ম করে সেই কাজ সম্পন্ন করেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার।

বাঘা পৌরসভার প্যানেল মেয়র শাহিনুর রহমান পিন্টু অভিযোগ করেন, নির্বাচনী ইশতেহারে আব্দুর রাজ্জাক তার নিজের নামে একটি মোটরসাইকেল দেখাতে পারেননি। অথচ বর্তমানে তিনি ৩০ লাখ টাকা মূল্যের প্রাইভেট কারে ঘুরে বেড়ান। বলিহার গ্রামে একতলা বাড়িকে দ্বিতীয় তলায় রূপ দিয়েছেন। তিনি প্রতিমাসে একাধিকবার বিমানযোগে ঢাকায় যান এবং হোটেল ওয়েসটিনে রাত কাটান। যার একাধিক প্রমাণ তার কাছে রয়েছে ।

বাঘা পৌর যুবলীগের সভাপতি শাহিন আলম ঠিকাদার কামাল হোসেন ও হিমেল জানান, যে সব লাইসেন্স নবায়ন নেই এ রকম ৬টি লাইসেন্সে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ভুয়া কোটেশন প্রকল্প দেখানোসহ আংশিক কাজ করে অর্থ উত্তোলন করেছেন মেয়র আব্দুর রাজ্জাক। যা তদন্তে বেরিয়ে আসবে।

তারা বলেন, আব্দুর রাজ্জাক সম্প্রতি একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে রাতে ডিজে পার্টি করে তার হাত দিয়ে টাকা ছিটানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

এ সব অভিযোগ বিষয়ে পৌরসভার প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন। এ বিষয়ে মেয়রের সঙ্গে কথা বলবেন। তিনি সব প্রশ্নের উত্তর দিবেন। তবে চলমান দু’একটি কাজে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি ঠিকাদারকে বলে সেগুলো ঠিক করে দিয়েছেন বলে দাবি করেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে বাঘা পৌরসভার মেয়র আবদুর রাজ্জাক বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ আনা হচ্ছে তা সঠিক না। একটি মহল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। তারাই অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত না বলে দাবি করেন তিনি।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত