চকরিয়ায় পাওনা টাকা চাওয়ায় বৃদ্ধকে এ কেমন নির্যাতন!

  চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি ০২ জুন ২০২০, ২২:১৫:৪১ | অনলাইন সংস্করণ

কক্সবাজারের চকরিয়ার ঢেমুশিয়া ইউনিয়নে চিংড়ি প্রকল্পের বর্গা বাবদ পাওনা টাকা চাওয়ায় নুরুল আলম (৭৫) নামের এক বৃদ্ধকে উলঙ্গ করে নির্যাতন করেছে এক ইউপি সদস্যের লোকজন।

তারা প্রকাশ্যে গ্রামবাসীর সামনে ওই বৃদ্ধকে মারধর ও পরিধানের কাপড় ছিঁড়ে খুলে নিয়েছে। ওই বৃদ্ধকে উলঙ্গ করে নির্যাতনের একটি ভিডিও মঙ্গলবার বিকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

ভিড়িও ভাইরাল হওয়ার পর চকরিয়া থানার পুলিশ দুর্বৃত্তদের গ্রেফতারে অভিযানে নেমেছে।

নুরুল আলম চকরিয়া উপজেলার ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের ছকুড়িটিক্কা গ্রামের মৃত আলী মিয়ার পুত্র।

নির্যাতিত নুরুল আলমের ছেলে আশরাফ হোছাইন জানান, তার বাবা নুরুল আলমসহ একই এলাকার আরও দুই ব্যক্তি ওই এলাকার ইউপি সদস্যা আরজ খাতুনকে ৬ বছরের জন্য একটি চিংড়ি প্রকল্প বর্গা দিয়েছিলেন। কিন্তু আরজ খাতুন প্রতারণা করে নুরুল আলমকে চিংড়ি প্রকল্পের বর্গা বাবদ টাকা পরিশোধ করেননি।

তিনি জানান, ইউপি সদস্য আরজ খাতুনের কাছ থেকে চিংড়ি প্রকল্পের বর্গা বাবদ ১ লাখ ৮২ হাজার টাকা পাওনা থেকে যায়। ওই পাওনা টাকা আজ দিবে কাল দিবে বলে না দিয়ে প্রতারণা করে আসছে। এ নিয়ে অনেক সালিশ-বিচারও হয়েছে। ওই টাকা না দিয়ে ইউপি সদস্যা আরজ খাতুন উল্টো আরও কয়েক বছরের জন্য বর্গা নিয়ে নেয়ার জন্য তার বাবাকে চাপ প্রয়োগ করে আসছেন।

কিন্তু নুরুল আলম আগের টাকা না দিলে নতুন করে বর্গা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ২৪ মে বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ইউপি সদস্যা আরজ খাতুনের লেলিয়ে দেয়া একাধিক মামলার আসামি আনছুর আলম, মিজান, রুবেল, রিয়াজ ও জয়নালসহ আরও বেশ কয়েকজন ঢেমুশিয়া তেচ্ছিরপুল রাস্তার মাথা নামক এলাকায় নুরুল আলমকে ধরে পরিধানের কাপড় খুলে ছিঁড়ে ফেলে গ্রামবাসীর সামনে নির্যাতন করে।

এ ঘটনার একটি ভিড়িও মঙ্গলবার বিকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশ ঊর্ধ্বতন মহল সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশ দেন।

এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার ওসি হাবিবুর রহমান বলেন, ঘটনাটি ঘটার পর আমাদের কেউ জানাননি। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্যাতনের একটি ভিড়িও ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশ সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছেন। নির্যাতিত বৃদ্ধ নুরুল আলমের ছেলেকে থানায় আসতে বলা হয়েছে। তিনি আসলে তার অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হবে।

এ ব্যাপারে আরজ খাতুনকে বারবার ফোন করা হলেও তিনি মোবাইল রিসিভ করেননি।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত