সিদ্ধিরগঞ্জে ৩ পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা, শ্রমিকদের বিক্ষোভ

  হোসেন চিশতী সিপলু, সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) থেকে ০২ জুন ২০২০, ২২:৫৪:২০ | অনলাইন সংস্করণ

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে শ্রমিক ছাটাইয়ের প্রতিবাদে ও বোনাসের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে একই মালিকানাধীন ৩টি পোশাক কারখানার কয়েক’শ শ্রমিক।

মঙ্গলবার সকালে সিদ্ধিরগঞ্জ পুলস্থ একে ফ্যাশন, আহসান গ্রুপ এবং অ্যাপারেলস লিমিটেডের শ্রমিকরা এ বিক্ষোভ করে।

গার্মেন্ট ৩টির মালিক ইঞ্জিনিয়ার কামরুল আহসান। শ্রমিকদের বিক্ষোভ চলার সময় দুপুরে ৩টি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে মালিক পক্ষ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সকাল থেকেই ঘটনাস্থলে পুলিশ অবস্থান নেয়।

জানাগেছে, লকডাউনের সময় গার্মেন্ট লেঅফ ছিল। পরবর্তীতে গার্মেন্টের নতুন কোন কার্য্যাদেশ না থাকায় সীমিত আকারে চালু করা হয়। লকডাউনের সময় এবং কারখানা চালু করার পরও যে সব শ্রমিক কর্মচারী কাজে যোগদান করেনি তাদের বেসিক ৬০ শতাংশ হারে বেতন মালিক পক্ষ দিয়ে আসছে।

গার্মেন্ট পুরোপুরি চালু না হওয়ায় ৩০০ শ্রমিক-কর্মচারী কাজে যোগদান করতে পারেনি। তবে গার্মেন্টের ইউনিট পুরোপুরি চালু হলে পর্যায়ক্রমে সব শ্রমিককে কাজে পূর্নবহালের ঘোষণা দিয়েছে মালিক পক্ষ।

কিন্তু শ্রমিক ছাটাইয়ের খবরে সাধারণ শ্রমিক কর্মচারীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবার সকালে ৩ টি গার্মেন্টর ২ হাজার ২০০ শ্রমিকদের মধ্যে ১ হাজার
৯০০ শ্রমিক কাজে যোগদান করে।

গার্মেন্টের পরিচালক রুবাইয়াত হোসাইন জানান, ৩টি গার্মেন্টেই মার্চের পুরো বেতন দেয়া হয়েছে এপ্রিলের ৭ তারিখে। এপ্রিল মাসের ৮ তারিখে এপ্রিল মাসের লে-অফ বেসিক বেতন দিয়ে মে মাসের ১ তারিখ পর্যন্ত গার্মেন্ট ৩টি বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

গার্মেন্টের কাজের অর্ডার না থাকায় সব গার্মেন্ট না খুলে আংশিক খোলা হয় মে মাসের ২ তারিখে। এতে কিছু শ্রমিক কাজে যোগদান করে। তবে মোবাইলের বিকাশের মাধ্যমে মে মাসের বেতনসহ সরকার ঘোষিত সব পাওনাদি পরিশোধ করা হয়।

নতুন কাজের অর্ডার না থাকার পরেও হঠাৎ করে আজ গার্মেন্টের শ্রমিকরা গার্মেন্টের সামনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে থাকে। শ্রমিকদের গার্মেন্টে প্রবেশ করতে না দেয়ায় তারা বিক্ষোভ শুরু করে।

অন্যদিকে বিক্ষুব্দ শ্রমিকরা জানায়, করোনাভাইরাসের কারণে সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের সম্পূর্ণ বোনাস পরিশোধ করা হয়নি। তার উপর কিছু শ্রমিককে কাজে প্রবেশ করতে দিলেও সকাল থেকে অনেক শ্রমিককেই কারখানায় প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।

তারা আরও বলেন, এমতাবস্থায় আমরা চাকরি হারানোর ভয়ে আছি। আমরা আমাদের কর্মস্থলে ফিরতে চাই।

ইন্ডাষ্ট্রিয়াল পুলিশ-৪ এর সহকারী পুলিশ সুপার আইনুল হক জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে মালিকপক্ষ কারখানা অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। পরবর্তীতে তারা পরিস্থিতি বুঝে কারখানা খোলার সিদ্ধান্ত নেবে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত