লিবিয়ায় খুন: লাল চাঁদের লাশ দেখতে পারল না বাবা-মা

  মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি ০৪ জুন ২০২০, ২২:৪১:১৪ | অনলাইন সংস্করণ

লিবিয়ায় গুলিতে নিহত ২৬ বাংলাদেশির একজন মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার লাল চাঁদ (২৫)। সন্তানকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের কাছে শেষ আকুতি জানিয়েছিলেন বাবা-মা। তাদের সে আকুতি আর পূরণ হল না।

লাল চাঁদের দাফনের খবর শুনলেও সন্তানকে একনজর দেখার ইচ্ছায় এখনও অস্থির হয়ে পড়ছেন মা মর্জিনা খাতুন।

মা মর্জিনা খাতুন বলেন, ‘আমার মনি আজ কয়ডা মাস গেছে। আমার মনির মুখখান আমি এখনও দেখতি পারলাম না। আমার মনিরে আনে দেন।’

লাল চাঁদের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকে তার পরিবারের কান্না থামছে না। তাদের স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। পাড়া-প্রতিবেশীরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন।

জানা গেছে, লাল চাঁদের বাবা দীর্ঘদিন থেকে হার্টের রোগে ভুগছেন। কাজ করতে পারেন না। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছেলে লাল চাঁদ। অভাব অনটনে কোনোরকম চলে তাদের সংসার। দরিদ্রতা থেকে পরিত্রাণের জন্য ধার-দেনা এবং এনজিওর ঋণের টাকায় লাল চাঁদকে লিবিয়ায় পাঠায় বাবা ইউসুফ আলী। কিন্তু স্বপ্ন পূরণ তো দূরের কথা; সন্তান এবং সম্পত্তি হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন বাবা-মা।

নিহত লাল চাঁদের পিতা ইউসুফ আলী জানান, ছেলের টাইলস মিস্ত্রির কাজের মাধ্যমে কামাল সাহেব নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় হয়। সে আমার ছেলেকে লিবিয়ায় পাঠায়ে টাইলস মিস্ত্রির কাজ দেবে বলে। চার বছর আগে আমার কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা নেয়। নেবে নেবে বলে কিন্তু নেয় না।

তিনি জানান, গত বছর ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আরও দেড় লাখ টাকা নিয়ে তাকে নিয়ে যায়। পরে শুনি তাকে আটকে রাখা হয়েছে। কাজ দেয়নি। ঈদুল ফিতরের দুইদিন আগে আমার কাছে ফোন আসে আরও ১০ লাখ টাকা না দিলে তাকে ছাড়া হবে না। তাকে মারপিট করতে থাকে। পরে খবর আসে লাল চাঁদকে গুলি করে মেরে ফেলা হয়েছে।

নিহতের পিতা বলেন, শুনছি হাজী কামাল গ্রেফতার হয়েছে। আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। তার ফাঁসি চাই।

একই গ্রামের আরেক যুবক তরীকুল ইসলাম (২০) গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত অবস্থায় লিবিয়ার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার বাবা-মা আহত সন্তানকে দেশে ফেরত পাঠানোর আকুতি জানিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানূর রহমান আহত ও নিহতের বাড়িতে গিয়ে খোঁজ-খবর নিয়েছেন।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত