শ্রীমঙ্গলে মা-মেয়েকে নিজ ঘরে কুপিয়ে হত্যা
jugantor
শ্রীমঙ্গলে মা-মেয়েকে নিজ ঘরে কুপিয়ে হত্যা

  সৈয়দ সালাউদ্দিন, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি  

০৫ জুন ২০২০, ১৭:৩২:৩৭  |  অনলাইন সংস্করণ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে মা ও মেয়েকে নিজ ঘরে কুপিয়ে খুন করেছে দুর্বৃত্তরা। উপজেলার ৬নং আশিদ্রোন ইউনিয়নের পূর্ব জামসী গ্রামে বৃহষ্পতিবার রাতের কোন একসময়ে এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- মা জায়েদা বেগম (৫৫) ও মেয়ে ইয়াসমিন আক্তার (২৫)।

জানা যায়, শুক্রবার সকাল ৯টার পরও মা ও মেয়ে ঘুম থেকে না উঠলে পাশের টিনশেডের ঘরে থাকা নিহত জায়েদা বেগমের ছোট বোন মিনা বেগমের সন্দেহ হয়।

তিনি দরজায় অনেক ডাকাডাকির পর ভেতর থেকে কোন সাড়া শব্দ না আসায় ওই ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের সদস্য হবিবুর রহমানকে খবর দিলে তিনিও এসে ডাকাডাকি করেন।

পরবর্তীতে খবর পেয়ে ওই ইউনিয়ন চেয়ারম্যান রাজেন্দ্র প্রসাদ বর্ধন জহর দরজায় ধাক্কা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করলে প্রথমে মাকে মৃত অবস্থায় খাটের ওপর পড়ে থাকতে দেখেন।

পরে একই ঘরে কাপড় দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় মেয়ের লাশও পাওয়া যায়। নিহতদের শরীরের একাধিক স্থানে চারিকাঘাতেরর চিহ্ন রয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাদের মৃত্যু হয়েছে। এসময় টিনশেডের এ ঘরের পিছনের দিকে বেড়া ভাঙ্গা পাওয়া যায়।

এলাকাবাসীর ধারণা খুনিরা বেড়া ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে তাদের হত্যা করে পালিয়েছে। এদিকে গত কয়েকদিন ধরে উপজেলায় মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে।

ফলে বৃষ্টির শব্দে নিহতের চিৎকার কেউ শুনতে পায়নি। খবর পেয়ে মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ, সিনিয়র পুলিশ সহকারী পুলিশ সুপার আশরাফুজ্জামান, ওসি আব্দুছ ছালেক, ওসি (তদন্ত) সোহেল রানা ঘটনাস্থলে ছুটে যান।

এছাড়াও পিবিআই ও সিইডির সদস্যরা আলামত সংগ্রহ ও ঘটনার রহস্য উদঘাটনে ছায়া তদন্তে নেমে পড়েছে।

স্থানীয়রা জানায়,পরিবারটি এলাকায় খুবই নিরীহ। কারো সঙ্গে তাদের কোন বিরোধ নেই। নিহত ইয়াসমিন আক্তারের পাশ্ববর্তী সিন্দুরখান ইউনিয়নের বেলতলী গ্রামের আজগর আলীর সঙ্গে বিয়ে হয়।

তাদের চার ও আট বছর বয়সের দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে। কিন্তু গত দেড় বছর থেকে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ দেখা দিলে ছেলেরা বাবার সঙ্গে থাকে এবং নিহত ইয়াসমিন মায়ের বাড়িতে থাকতেন।

তাদের এ কলহ নিয়ে মৌলভীবাজার আদালতে মামলাও রয়েছে এবং ইউনিয়ন পরিষদে কয়েকবার সালিশও হয়েছে বলে জানা যায়।

ঘটনার পর থেকে নিহত মেয়ের স্বামী আজগর আলীর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তিনি পলাতক রয়েছেন বলে জানান শ্রীমঙ্গল থানার ওসি আব্দুছ ছালেক।

পুলিশ ও এলাকাবাসীর সন্দেহ পারিবারিক ওই কলহের জের ধরেই মেয়ের জামাই ওই হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে।

এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার মো.ফারুক আহমেদ পিপিএম (বার) যুগান্তরকে জানান, শ্রীমঙ্গলে মা-মেয়ে খুনের ঘটনায় জড়িতদের খুব শিগগিরই খোঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে। আপরাধীদের গ্রেফতার করতে পুলিশ মাঠে রয়েছে।

শ্রীমঙ্গলে মা-মেয়েকে নিজ ঘরে কুপিয়ে হত্যা

 সৈয়দ সালাউদ্দিন, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি 
০৫ জুন ২০২০, ০৫:৩২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে মা ও মেয়েকে নিজ ঘরে কুপিয়ে খুন করেছে দুর্বৃত্তরা। উপজেলার ৬নং আশিদ্রোন ইউনিয়নের পূর্ব জামসী গ্রামে বৃহষ্পতিবার রাতের কোন একসময়ে এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। 

নিহতরা হলেন- মা জায়েদা বেগম (৫৫) ও মেয়ে ইয়াসমিন আক্তার (২৫)। 

জানা যায়, শুক্রবার সকাল ৯টার পরও মা ও মেয়ে ঘুম থেকে না উঠলে পাশের  টিনশেডের ঘরে থাকা নিহত জায়েদা বেগমের ছোট বোন মিনা বেগমের সন্দেহ হয়। 

তিনি দরজায় অনেক ডাকাডাকির পর ভেতর থেকে কোন সাড়া শব্দ না আসায় ওই ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের সদস্য হবিবুর রহমানকে খবর দিলে তিনিও এসে ডাকাডাকি করেন। 

পরবর্তীতে খবর পেয়ে ওই ইউনিয়ন চেয়ারম্যান রাজেন্দ্র প্রসাদ বর্ধন জহর দরজায় ধাক্কা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করলে প্রথমে মাকে মৃত অবস্থায় খাটের ওপর পড়ে থাকতে দেখেন। 

পরে একই ঘরে কাপড় দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় মেয়ের লাশও পাওয়া যায়। নিহতদের শরীরের একাধিক স্থানে চারিকাঘাতেরর চিহ্ন রয়েছে। 

ধারণা করা হচ্ছে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাদের মৃত্যু হয়েছে। এসময় টিনশেডের এ ঘরের পিছনের দিকে বেড়া ভাঙ্গা পাওয়া যায়। 

এলাকাবাসীর ধারণা খুনিরা বেড়া ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে তাদের হত্যা করে পালিয়েছে। এদিকে গত কয়েকদিন ধরে উপজেলায় মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। 

ফলে বৃষ্টির শব্দে নিহতের চিৎকার কেউ শুনতে পায়নি। খবর পেয়ে মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ, সিনিয়র পুলিশ সহকারী পুলিশ সুপার আশরাফুজ্জামান, ওসি আব্দুছ ছালেক, ওসি (তদন্ত) সোহেল রানা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। 

এছাড়াও পিবিআই ও সিইডির সদস্যরা আলামত সংগ্রহ ও ঘটনার রহস্য উদঘাটনে ছায়া তদন্তে নেমে পড়েছে। 

স্থানীয়রা  জানায়,পরিবারটি এলাকায় খুবই নিরীহ। কারো সঙ্গে তাদের কোন বিরোধ নেই। নিহত ইয়াসমিন আক্তারের পাশ্ববর্তী সিন্দুরখান ইউনিয়নের বেলতলী গ্রামের আজগর আলীর সঙ্গে বিয়ে হয়। 

তাদের চার ও আট বছর বয়সের দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে। কিন্তু গত দেড় বছর থেকে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ দেখা দিলে ছেলেরা বাবার সঙ্গে থাকে এবং নিহত ইয়াসমিন মায়ের বাড়িতে থাকতেন। 

তাদের এ কলহ নিয়ে মৌলভীবাজার আদালতে মামলাও রয়েছে এবং ইউনিয়ন পরিষদে কয়েকবার সালিশও হয়েছে বলে জানা যায়। 

ঘটনার পর থেকে নিহত মেয়ের স্বামী আজগর আলীর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তিনি পলাতক রয়েছেন বলে জানান শ্রীমঙ্গল থানার ওসি আব্দুছ ছালেক। 

পুলিশ ও এলাকাবাসীর সন্দেহ পারিবারিক ওই কলহের জের ধরেই মেয়ের জামাই ওই হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে। 

এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার মো.ফারুক আহমেদ পিপিএম (বার) যুগান্তরকে জানান, শ্রীমঙ্গলে মা-মেয়ে খুনের ঘটনায় জড়িতদের খুব শিগগিরই খোঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে। আপরাধীদের গ্রেফতার করতে পুলিশ মাঠে রয়েছে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন