লাশ রেখে পালাল স্বামী, বাবার ভিটাতেও ঠাঁই না মেলায় দায়িত্ব নিল পুলিশ
jugantor
লাশ রেখে পালাল স্বামী, বাবার ভিটাতেও ঠাঁই না মেলায় দায়িত্ব নিল পুলিশ

  জলঢাকা (নীলফামারী) প্রতিনিধি  

১০ জুন ২০২০, ১৯:৫৪:৫৮  |  অনলাইন সংস্করণ

নীলফামারীর জলঢাকায় লাশ রেখে পালিয়ে গেল স্বামী। পিতার বাড়িসহ স্বামীর বাড়িতেও জুটলনা দাফন। অবশেষে দায়িত্ব নিল স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।

মঙ্গলবার করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয় পৌরসভার বগুলাগাড়ীর শরিফুল ইসলামের সহধর্মিণী মনোয়ার বেগম (২৫)। মানুষের নিষ্ঠুরতার কাছে যেন অসহায় ছিল মনোয়ারা বেগমের দাফনের কাজ। সারা দিন মাইক্রোবাসে লাশ নিয়ে ঘুরেও দাফনের জায়গা হয়নি বাবার বাড়িসহ শ্বশুরবাড়ি এলাকায়।

পরিশেষে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় শেষে সমাহিত করা হয় সরকারি কবরস্থান ডাকবাংলো এলাকায়। মনোয়ারা বেগম যিনি তার নিকটজনদের একটু স্বচ্ছলতার জন্য নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিলিয়ে দিয়ে স্বামীর সঙ্গে ঢাকায় গার্মেন্টসে কাজ করতেন। সেই স্বামী ও পিতার পরিবার শুধু করোনা সন্দেহে তার লাশ দাফনে অস্বীকৃতি জানায়, ফেলে রেখে যায় তার লাশ।

সংবাদ পেয়ে পুলিশ সুপার, নীলফামারী মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান বিপিএম পিপিএম-এর নির্দেশে তার দাফনের দায়িত্ব নেয় জলঢাকা পুলিশ প্রশাসন।

ঢাকায় অবস্থানকালে সর্দি-কাশি ও জ্বর উপসর্গ নিয়ে গত ৫ জুন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য স্বামীসহ ভর্তি হন মনোয়ারা বেগম। করোনাভাইরাস সংক্রমণ সন্দেহে নমুনা প্রদান করেন চিকিৎসকের কাছে (রিপোর্ট অপেক্ষমান)।

চিকিৎসাধীন সোমবার গভীর রাতে মনোয়ারা বেগম রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। পরে স্বামীর বাড়ি ও পিতার বাড়ির লোকজন মৃতদেহ গ্রহণ করবে না বলে জলঢাকা পৌরসভার প্যানেল মেয়র রুহুল আমিনকে জানায়।

এ সময় ওসি মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন প্যানেল মেয়র রুহুল আমিন। ওসি মোস্তাফিজুর রহমানের আশ্বাসে জলঢাকা থানা পুলিশ দাফনের ব্যবস্থা করবে বললে প্যানেল মেয়র যোগাযোগ করেন রংপুর হাসপাতালে এবং মাইক্রোযোগে শরিফুল ইসলাম তার স্ত্রীর লাশ নিয়ে জলঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়।

লাশ জলঢাকায় পৌঁছলে স্বামী শরিফুল ইসলাম মাইক্রো থেকে নেমে স্ত্রীর লাশ ফেলে উধাও হয়ে যায়। পরবর্তীকালে মনোয়ারার স্বামীর বাড়িসহ পিতার বাড়ির লোকজনসহ এলাকাবাসী লাশ দাফন করতে অস্বীকৃতি জানান।

জলঢাকা থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমানের নির্দেশে করোনাভাইরাস ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য এসআই ওসমান গনি ও এএসআই ফুলমামুদসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও মেডিকেল টিমের উপস্থিতিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জলঢাকা সরকারি ডাকবাংলো কবরস্থানে মনোয়ারা বেগমের দাফন সম্পন্ন হয়।

এ বিষয়ে প্যানেল মেয়র রুহুল আমিন বলেন, মানুষ কত অমানবিক হতে পারে তা আমি মনোয়ারা বেগমের মৃত্যু না হলে বুঝতে পারতাম না।

জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, পরিবারের কেউ যখন লাশ গ্রহণ করতে চায়নি তখন আমি মানবিক বিষয় বিবেচনা করে প্যানেল মেয়রকে বলেছি আপনি লাশ নিয়ে আসেন দাফন জলঢাকার মাটিতেই হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে অবশেষে নিজ এলাকাতেই মনোয়ারা বেগমের লাশ দাফনের কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছি এটাই আমাদের কাজের প্রাপ্তি।

লাশ রেখে পালাল স্বামী, বাবার ভিটাতেও ঠাঁই না মেলায় দায়িত্ব নিল পুলিশ

 জলঢাকা (নীলফামারী) প্রতিনিধি 
১০ জুন ২০২০, ০৭:৫৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

নীলফামারীর জলঢাকায় লাশ রেখে পালিয়ে গেল স্বামী। পিতার বাড়িসহ স্বামীর বাড়িতেও জুটলনা দাফন। অবশেষে দায়িত্ব নিল স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।

মঙ্গলবার করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয় পৌরসভার বগুলাগাড়ীর শরিফুল ইসলামের সহধর্মিণী মনোয়ার বেগম (২৫)। মানুষের নিষ্ঠুরতার কাছে যেন অসহায় ছিল মনোয়ারা বেগমের দাফনের কাজ। সারা দিন মাইক্রোবাসে লাশ নিয়ে ঘুরেও দাফনের জায়গা হয়নি বাবার বাড়িসহ শ্বশুরবাড়ি এলাকায়।

পরিশেষে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় শেষে সমাহিত করা হয় সরকারি কবরস্থান ডাকবাংলো এলাকায়। মনোয়ারা বেগম যিনি তার নিকটজনদের একটু স্বচ্ছলতার জন্য নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিলিয়ে দিয়ে স্বামীর সঙ্গে ঢাকায় গার্মেন্টসে কাজ করতেন। সেই স্বামী ও পিতার পরিবার শুধু করোনা সন্দেহে তার লাশ দাফনে অস্বীকৃতি জানায়, ফেলে রেখে যায় তার লাশ।

সংবাদ পেয়ে পুলিশ সুপার, নীলফামারী মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান বিপিএম পিপিএম-এর নির্দেশে তার দাফনের দায়িত্ব নেয় জলঢাকা পুলিশ প্রশাসন।

ঢাকায় অবস্থানকালে সর্দি-কাশি ও জ্বর উপসর্গ নিয়ে গত ৫ জুন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য স্বামীসহ ভর্তি হন মনোয়ারা বেগম। করোনাভাইরাস সংক্রমণ সন্দেহে নমুনা প্রদান করেন চিকিৎসকের কাছে (রিপোর্ট অপেক্ষমান)।

চিকিৎসাধীন সোমবার গভীর রাতে মনোয়ারা বেগম রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। পরে স্বামীর বাড়ি ও পিতার বাড়ির লোকজন মৃতদেহ গ্রহণ করবে না বলে জলঢাকা পৌরসভার প্যানেল মেয়র রুহুল আমিনকে জানায়।

এ সময় ওসি মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন প্যানেল মেয়র রুহুল আমিন। ওসি মোস্তাফিজুর রহমানের আশ্বাসে জলঢাকা থানা পুলিশ দাফনের ব্যবস্থা করবে বললে প্যানেল মেয়র যোগাযোগ করেন রংপুর হাসপাতালে এবং মাইক্রোযোগে শরিফুল ইসলাম তার স্ত্রীর লাশ নিয়ে জলঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়।

লাশ জলঢাকায় পৌঁছলে স্বামী শরিফুল ইসলাম মাইক্রো থেকে নেমে স্ত্রীর লাশ ফেলে উধাও হয়ে যায়। পরবর্তীকালে মনোয়ারার স্বামীর বাড়িসহ পিতার বাড়ির লোকজনসহ এলাকাবাসী লাশ দাফন করতে অস্বীকৃতি জানান।

জলঢাকা থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমানের নির্দেশে করোনাভাইরাস ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য এসআই ওসমান গনি ও এএসআই ফুলমামুদসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও মেডিকেল টিমের উপস্থিতিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জলঢাকা সরকারি ডাকবাংলো কবরস্থানে মনোয়ারা বেগমের দাফন সম্পন্ন হয়।

এ বিষয়ে প্যানেল মেয়র রুহুল আমিন বলেন, মানুষ কত অমানবিক হতে পারে তা আমি মনোয়ারা বেগমের মৃত্যু না হলে বুঝতে পারতাম না।

জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, পরিবারের কেউ যখন লাশ গ্রহণ করতে চায়নি তখন আমি মানবিক বিষয় বিবেচনা করে প্যানেল মেয়রকে বলেছি আপনি লাশ নিয়ে আসেন দাফন জলঢাকার মাটিতেই হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে অবশেষে নিজ এলাকাতেই মনোয়ারা বেগমের লাশ দাফনের কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছি এটাই আমাদের কাজের প্রাপ্তি।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন