মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে পূর্ব তালুক শাহাবাজ গ্রাম
jugantor
মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে পূর্ব তালুক শাহাবাজ গ্রাম

  মাহবুব রহমান, রংপুর ব্যুরো  

১৬ জুন ২০২০, ১৯:৪৭:০১  |  অনলাইন সংস্করণ

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনে পূর্ব তালুক শাহাবাজ গ্রাম দেশের মানচিত্র থেকে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে এলাকার শতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন। ফলে সহায়-সম্বল হারিয়ে এলাকার এ সব পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।

নদী ভাঙনের মুখে পড়ে শেষ আশ্রয়টুকু হারিয়ে এলাকাবাসীর দাবি ত্রাণ নয় তাদের নদী ভাঙন থেকে রক্ষা করা হোক। এ জন্য তারা পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার আবেদন জানালেও কোনো কাজ হয়নি। এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

এই ভাঙন রোধ করতে না পারলে শেষ পর্যন্ত তিস্তা নদীর অব্যাহত ভাঙনের ফলে পূর্ব তালুক শাহাবাজ গ্রাম দেশের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার আশংকা করছেন গ্রামবাসী।

উপজেলার পূর্ব তালুক শাহাবাজের ক্ষিরোদ চন্দ্রসহ আরও কয়েকজন গ্রামবাসী জানান, ‘কি করমো বাহে হামার এলাকার সবার বাড়িঘর আবাদি জমি সইগ তিস্তা নদী গিলি খাইল। তাও কায়েও দেখে না কি করি মানুষগুলা বাঁচি আছে। জীবন আর চলে না। কাম নাই প্যাটত ভাত নাই। শেষ পর্যন্ত মাথাগুজি থাকার সম্বলটাও নদীত চলি যাওছে।’

একই গ্রামের অধিবাসী কাউনিয়া ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক মো. জয়নুল আবেদিন বলেন, তিস্তা নদী ভাঙন রোধে সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কর্তাদের নিকট একটি ক্রস বাঁধের আবেদন করে অনেকবার স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে গ্রামবাসীর পক্ষে। কিন্তু আজ পর্যন্ত এর কোনো ফল পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপার কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. উলফুত আরা বলেন, তিস্তা নদী ভাঙনকবলিত মানুষের তালিকা তৈরি করে পাঠানো হয়েছে। মূলত উপজেলা প্রশাসনের নদী ভাঙন রোধে কাজ করার কোনো এখতিয়ার নেই। পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীর সব ধরনের কাজ করে থাকে। তাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের রংপুর নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বলেন, নদীতে পানির নাব্য সঠিক না থাকায় তিস্তা এখন পাগলা নদীতে রূপ নিয়েছে। কখন কোথায় করালগ্রাসী রূপ নিয়ে ভেঙে চলছে তা নির্ণয় করা অসম্ভব। তবে তিস্তা সড়ক সেতু থেকে ভাটিতে চার কিলোমিটার এলাকায় নদী ভাঙন রোধে গাইড বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, চীন ও বাংলাদেশের মাঝে তিস্তা নদী পাড়ের গাইড বাঁধসহ বিভিন্ন প্রকল্প চুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এই চুক্তি বাস্তবায়ন হলে তিস্তা পাড়ের মানুষের নদী নিয়ে আর কোনো চিন্তা করতে হবে না।

মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে পূর্ব তালুক শাহাবাজ গ্রাম

 মাহবুব রহমান, রংপুর ব্যুরো 
১৬ জুন ২০২০, ০৭:৪৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনে পূর্ব তালুক শাহাবাজ গ্রাম দেশের মানচিত্র থেকে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে এলাকার শতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন। ফলে সহায়-সম্বল হারিয়ে এলাকার এ সব পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। 

নদী ভাঙনের মুখে পড়ে শেষ আশ্রয়টুকু হারিয়ে এলাকাবাসীর দাবি ত্রাণ নয় তাদের নদী ভাঙন থেকে রক্ষা করা হোক। এ জন্য তারা পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার আবেদন জানালেও কোনো কাজ হয়নি। এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। 

এই ভাঙন রোধ করতে না পারলে শেষ পর্যন্ত তিস্তা নদীর অব্যাহত ভাঙনের ফলে পূর্ব তালুক শাহাবাজ গ্রাম দেশের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার আশংকা করছেন গ্রামবাসী।

উপজেলার পূর্ব তালুক শাহাবাজের ক্ষিরোদ চন্দ্রসহ আরও কয়েকজন গ্রামবাসী জানান, ‘কি করমো বাহে হামার এলাকার সবার বাড়িঘর আবাদি জমি সইগ তিস্তা নদী গিলি খাইল। তাও কায়েও দেখে না কি করি মানুষগুলা বাঁচি আছে। জীবন আর চলে না। কাম নাই প্যাটত ভাত নাই। শেষ পর্যন্ত মাথাগুজি থাকার সম্বলটাও নদীত চলি যাওছে।’

একই গ্রামের অধিবাসী কাউনিয়া ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক মো. জয়নুল আবেদিন বলেন, তিস্তা নদী ভাঙন রোধে সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কর্তাদের নিকট একটি ক্রস বাঁধের আবেদন করে অনেকবার স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে গ্রামবাসীর পক্ষে। কিন্তু আজ পর্যন্ত এর কোনো ফল পাওয়া যায়নি। 

এ ব্যাপার কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. উলফুত আরা বলেন, তিস্তা নদী ভাঙনকবলিত মানুষের তালিকা তৈরি করে পাঠানো হয়েছে। মূলত উপজেলা প্রশাসনের নদী ভাঙন রোধে কাজ করার কোনো এখতিয়ার নেই। পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীর সব ধরনের কাজ করে থাকে। তাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের রংপুর নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বলেন, নদীতে পানির নাব্য সঠিক না থাকায় তিস্তা এখন পাগলা নদীতে রূপ নিয়েছে। কখন কোথায় করালগ্রাসী রূপ নিয়ে ভেঙে চলছে তা নির্ণয় করা অসম্ভব। তবে তিস্তা সড়ক সেতু থেকে ভাটিতে চার কিলোমিটার এলাকায় নদী ভাঙন রোধে গাইড বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। 

তিনি আরও জানান, চীন ও বাংলাদেশের মাঝে তিস্তা নদী পাড়ের গাইড বাঁধসহ বিভিন্ন প্রকল্প চুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এই চুক্তি বাস্তবায়ন হলে তিস্তা পাড়ের মানুষের নদী নিয়ে আর কোনো চিন্তা করতে হবে না।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন