জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির পদত্যাগ দাবি
jugantor
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির পদত্যাগ দাবি

  বরিশাল ব্যুরো   

১৭ জুন ২০২০, ২০:১৪:৫০  |  অনলাইন সংস্করণ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. হারুন অর রশীদকে এমপিওভুক্তির বিরোধিতাকারী আখ্যা দিয়ে তার পদত্যাগের দাবিতে বরিশালে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার বেলা ১১টায় বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এমন দাবি জানান বাংলাদেশ বেসরকারি কলেজ অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক ফোরাম বরিশাল জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ।

একই সঙ্গে আগামী ৭ দিনের মধ্যে ভিসি পদত্যাগ না করলে সারা দেশে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে হুশিয়ারি দেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ বেসরকারি কলেজ, অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক ফোরাম বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি মো. ইউনুস শরীফ।

তিনি বলেন, অনার্স শিক্ষকরা দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে বেতন বঞ্চনার শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। যা শিক্ষা বিস্তারে সুষম নীতির ক্ষেত্রে চরম বৈষম্য এবং সংবিধানের পরিপন্থী। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে সরকারি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ বিধিমোতাবেক এনটিআরসিএর সনদপ্রাপ্ত হয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও মাউশির ডিজির প্রতিনিধিদের তত্ত্বাবধানে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েও তাদেরকে এমপিওভুক্ত করা হচ্ছে না।

দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম ও হাইকোর্টের নির্দেশনা, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সুপারিশ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একাধিক সুপারিশের প্রেক্ষিতে ২০১৮-এর সংশোধনী জনবল কাঠামো সংশোধন কমিটির প্রথম মিটিংয়ে সব সদস্য বেসরকারি অনার্স-মাস্টার্স স্তরের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনীহার কারণে বিষয়টি উপেক্ষিত হচ্ছে।

১৯৯৫, ২০১০, ২০১৩ এবং ২০১৮তে জনবল কাঠামো সংশোধন করা হলেও এ সব শিক্ষকদের দাবি উপেক্ষা করা হয়েছে। তার পরও দীর্ঘ ২৮ বছর হল শিক্ষকরা প্রতিষ্ঠান থেকে নামমাত্র বেতনে কিংবা বেতনহীন অবস্থায় লাখ লাখ শিক্ষার্থীকে শিক্ষা সেবা দিয়ে আসছেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ নীতিমালা ও সরকারি নীতিমালা মোতাবেক নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের শতভাগ বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা প্রদানের নির্দেশনা থাকলেও সারা দেশে বেসরকারি কলেজের ৯০ ভাগ কলেজ কর্তৃপক্ষ তা আমলে নিতে চায় না।

শিক্ষকদের বেতনের নাম করে গরীব ছাত্র-ছাত্রীদের নিকট হতে মাসে ৫০০ থেকে ১৫০০ টাকা করে বেতন নেয়া হলেও শিক্ষকদের বেতন বাবদ ৩ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে দিয়ে থাকে যা একজন শিক্ষকের বর্তমান বাজার দরে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করা অসম্ভব। শুধু তাই নয়, অধিকাংশ কলেজেই মাসের পর মাস সামান্য টাকাটাও ফান্ডে না থাকার অজুহাতে বন্ধ রাখা হয়।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, শুরুতে কলেজের সংখ্যা গুটিকয়েক হলেও ২০১৮ সাল পর্যন্ত তা ৫০০ ছাড়িয়ে যায় এবং সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৮ হাজার ৫০০। এর মধ্যে ২৬৮ কলেজ সরকার জাতীয়করণ করার পর তাদের চাকরি সরকারি হলেও একই প্রক্রিয়ায় নিয়োগপ্রাপ্ত বাকি ৩১৫টি কলেজের ৫ হাজার ৫০০ শিক্ষকের জন্য মাত্র ১৪৬ কোটি ৫০ লাখ টাকার এমপিও বরাদ্দ না দিয়ে বঞ্চিত করা হচ্ছে। যা চূড়ান্তভাবে অমানবিক বলে মনে করেন তারা।

গত ১৭ মার্চ থেকে বৈশ্বিক মহামারী করোনার কারণে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষকরা যে সামান্য বেতন-ভাতা পেতেন তাও বন্ধ থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। উপরন্তু এ সব শিক্ষকদের নিয়োগকারী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বেতন-ভাতার ব্যাপারে কোনো ভূমিকা পালন করছে না। ফলে পরিবারের ভরণ-পোষণ করতে না পারা শিক্ষকদের আত্মহত্যা করা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই।

২০১৫ সালে মাউশি থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির কাছে অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির ব্যাপারে মতামত চাওয়া হলেও বিগত ৫ বছরেও তিনি কোনো মতামত বা সুপারিশ করেননি। অন্যদিকে বারবার জনবলে অন্তর্ভুক্তি এবং এমপিওর বিরোধিতা করেছেন। নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হয়ে শিক্ষকদের বেতন-ভাতার ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।

ক্রাশ প্রোগ্রামের নামে শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করছেন। ভর্তি পরীক্ষা না নিয়ে লাখ লাখ শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষার ফি আত্মসাৎ করা, পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের প্রাপ্য অর্থবছরের পর বছর শিক্ষকদের না দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলে রেখে মুনাফা অর্জন করছে বলে অভিযোগ তোলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় তহবিল থেকে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা এবং প্রণোদনার প্রতিশ্রুতি দিয়েও ভঙ্গ করা হচ্ছে। যে কারণে আজ আমরা ভিসির পদত্যাগ দাবি করছি। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অনতিবিলম্বে জনবল কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করে এমপিও প্রদানের দাবি জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বেসরকারি কলেজ অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. মোকলেসুর রহমান, কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি আমিরুল ইসলাম জসীম, জেলা কমিটির কোষাধ্যক্ষ পরিতোষ চন্দ্র হালদার।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির পদত্যাগ দাবি

 বরিশাল ব্যুরো  
১৭ জুন ২০২০, ০৮:১৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. হারুন অর রশীদকে এমপিওভুক্তির বিরোধিতাকারী আখ্যা দিয়ে তার পদত্যাগের দাবিতে বরিশালে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার বেলা ১১টায় বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এমন দাবি জানান বাংলাদেশ বেসরকারি কলেজ অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক ফোরাম বরিশাল জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ।

একই সঙ্গে আগামী ৭ দিনের মধ্যে ভিসি পদত্যাগ না করলে সারা দেশে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে হুশিয়ারি দেন তারা। 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ বেসরকারি কলেজ, অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক ফোরাম বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি মো. ইউনুস শরীফ।

তিনি বলেন, অনার্স শিক্ষকরা দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে বেতন বঞ্চনার শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। যা শিক্ষা বিস্তারে সুষম নীতির ক্ষেত্রে চরম বৈষম্য এবং সংবিধানের পরিপন্থী। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে সরকারি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ বিধিমোতাবেক এনটিআরসিএর সনদপ্রাপ্ত হয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও মাউশির ডিজির প্রতিনিধিদের তত্ত্বাবধানে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েও তাদেরকে এমপিওভুক্ত করা হচ্ছে না।

দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম ও হাইকোর্টের নির্দেশনা, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সুপারিশ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একাধিক সুপারিশের প্রেক্ষিতে ২০১৮-এর সংশোধনী জনবল কাঠামো সংশোধন কমিটির প্রথম মিটিংয়ে সব সদস্য বেসরকারি অনার্স-মাস্টার্স স্তরের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনীহার কারণে বিষয়টি উপেক্ষিত হচ্ছে। 

১৯৯৫, ২০১০, ২০১৩ এবং ২০১৮তে জনবল কাঠামো সংশোধন করা হলেও এ সব শিক্ষকদের দাবি উপেক্ষা করা হয়েছে। তার পরও দীর্ঘ ২৮ বছর হল শিক্ষকরা প্রতিষ্ঠান থেকে নামমাত্র বেতনে কিংবা বেতনহীন অবস্থায় লাখ লাখ শিক্ষার্থীকে শিক্ষা সেবা দিয়ে আসছেন। 

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ নীতিমালা ও সরকারি নীতিমালা মোতাবেক নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের শতভাগ বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা প্রদানের নির্দেশনা থাকলেও সারা দেশে বেসরকারি কলেজের ৯০ ভাগ কলেজ কর্তৃপক্ষ তা আমলে নিতে চায় না। 

শিক্ষকদের বেতনের নাম করে গরীব ছাত্র-ছাত্রীদের নিকট হতে মাসে ৫০০ থেকে ১৫০০ টাকা করে বেতন নেয়া হলেও শিক্ষকদের বেতন বাবদ ৩ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে দিয়ে থাকে যা একজন শিক্ষকের বর্তমান বাজার দরে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করা অসম্ভব। শুধু তাই নয়, অধিকাংশ কলেজেই মাসের পর মাস সামান্য টাকাটাও ফান্ডে না থাকার অজুহাতে বন্ধ রাখা হয়।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, শুরুতে কলেজের সংখ্যা গুটিকয়েক হলেও ২০১৮ সাল পর্যন্ত তা ৫০০ ছাড়িয়ে যায় এবং সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৮ হাজার ৫০০। এর মধ্যে ২৬৮ কলেজ সরকার জাতীয়করণ করার পর তাদের চাকরি সরকারি হলেও একই প্রক্রিয়ায় নিয়োগপ্রাপ্ত বাকি ৩১৫টি কলেজের ৫ হাজার ৫০০ শিক্ষকের জন্য মাত্র ১৪৬ কোটি ৫০ লাখ টাকার এমপিও বরাদ্দ না দিয়ে বঞ্চিত করা হচ্ছে। যা চূড়ান্তভাবে অমানবিক বলে মনে করেন তারা।

গত ১৭ মার্চ থেকে বৈশ্বিক মহামারী করোনার কারণে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষকরা যে সামান্য বেতন-ভাতা পেতেন তাও বন্ধ থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। উপরন্তু এ সব শিক্ষকদের নিয়োগকারী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বেতন-ভাতার ব্যাপারে কোনো ভূমিকা পালন করছে না। ফলে পরিবারের ভরণ-পোষণ করতে না পারা শিক্ষকদের আত্মহত্যা করা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই।

২০১৫ সালে মাউশি থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির কাছে অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির ব্যাপারে মতামত চাওয়া হলেও বিগত ৫ বছরেও তিনি কোনো মতামত বা সুপারিশ করেননি। অন্যদিকে বারবার জনবলে অন্তর্ভুক্তি এবং এমপিওর বিরোধিতা করেছেন। নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হয়ে শিক্ষকদের বেতন-ভাতার ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। 

ক্রাশ প্রোগ্রামের নামে শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করছেন। ভর্তি পরীক্ষা না নিয়ে লাখ লাখ শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষার ফি আত্মসাৎ করা, পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের প্রাপ্য অর্থবছরের পর বছর শিক্ষকদের না দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলে রেখে মুনাফা অর্জন করছে বলে অভিযোগ তোলেন। 

বিশ্ববিদ্যালয় তহবিল থেকে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা এবং প্রণোদনার প্রতিশ্রুতি দিয়েও ভঙ্গ করা হচ্ছে। যে কারণে আজ আমরা ভিসির পদত্যাগ দাবি করছি। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অনতিবিলম্বে জনবল কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করে এমপিও প্রদানের দাবি জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বেসরকারি কলেজ অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. মোকলেসুর রহমান, কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি আমিরুল ইসলাম জসীম, জেলা কমিটির কোষাধ্যক্ষ পরিতোষ চন্দ্র হালদার।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন