অনুদানের কাগজপত্র ঠিক করার নামে চা শ্রমিকদের অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

  কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি ২১ জুন ২০২০, ১৭:৫৩:৫৩ | অনলাইন সংস্করণ

বিজয়া চা-বাগান থেকে তোলা রোববারের ছবি। যুগান্তন

কুলাউড়া উপজেলায় চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের কাগজপত্র ঠিক করে দেয়ার কথা বলে অসহায় শ্রমিকদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় শ্রমিকদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সরকার প্রতিবছর চা-শ্রমিকদের মাঝে জনপ্রতি ৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় কুলাউড়া উপজেলার ১৯ টি চা বাগানে বরাদ্ধ হওয়া অনুদান বিতরণের জন্য উপকারভোগীদের প্রাথমিক তালিকা করা হয়।

আর এ তালিকা করতে গিয়ে অনেক বাগানে পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি-সম্পাদক শ্রমিকদের কাছ থেকে বিভিন্ন কাগজপত্র ঠিক করার কথা বলে ১০০-২০০ টাকা করে আদায় করেছেন।

বিষয়টি নিয়ে বিজয়া চা-বাগানের বাসিন্দা বিদ্যাধর পাশী কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা সমাজসেবা অফিসারের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ থেকে জানা যায়, জয়চন্ডী ইউনিয়নের বিজয়া চা-বাগান শ্রমিক পঞ্চায়েতের সভাপতি কিরোন শুক্ল বৈদ্য অনুদান পেতে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ঠিকঠাক করার কথা বলে তার মনোনীত বকুল লায়েক, হরিবগত সূর্য বংশিকে দিয়ে উপকারভোগী শ্রমিকদের কাছ থেকে জনপ্রতি ১০০-১৫০ টাকা করে উত্তোলন করেন।

বিষয়টি নিয়ে বাগানের বাসিন্দা বিদ্যাধর পাশী প্রতিবাদ করলে তাকে মারধরের হুমকি দেন শ্রমিক পঞ্চায়েতের সভাপতি কিরোন শুক্ল বৈদ্য।

এদিকে একই ইউনিয়নের দিলদারপুর, ক্লিভডন ও মেরিনা চা-বাগানের শ্রমিকদের কাছ থেকে একইভাবে কাগজপত্র ঠিকঠাক করার কথা বলে টাকা উত্তোলন করেছেন ওই বাগানের শ্রমিক পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি সম্পাদকরা।

দিলদারপুর বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সাবেক সভাপতি বিকাশ তাষা বলেন, বাগানে যে কোনো অনুদান আসলেই বর্তমান কমিটির সভাপতি-সম্পাদক বিভিন্ন কাগজপত্র ঠিক করার কথা বলে অসহায় শ্রমিকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করেন। বিষয়টি নিয়ে তারা উপজেলায় লিখিত অভিযোগ দেবেন।

বিজয়া বাগানের শ্রমিক তারাবতি পাশি, আনন্দ রাজপুত, সপ্তমি বাকতি, স্বপন পাশীসহ বেশ কয়েকজন শ্রমিক জানান, যে কোনো অনুদান আসলেই শ্রমিক প্রেসিডেন্ট লোক পাঠিয়ে উপকারভোগীদের কাছ থেকে বিভিন্ন কাজের কথা বলে টাকা আদায় করেন। অথচ আমরা নিজের খরচে ছবি ও আইডি কার্ডের ফটোকপি করে দেই। এরপরও টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তালিকা থেকে নাম কেটে দেয়ার হুমকি দেয় তারা।

এছাড়াও তাদের (সভাপতি-সম্পাদক) পছন্দের লোকজনের নাম বার বার তালিকায় দেন। যার ফলে প্রকৃত অসহায় শ্রমিকরা অনুদান থেকে বঞ্চিত হন বলে জানান শ্রমিকরা।

বিজয়া বাগানের শ্রমিক পঞ্চায়েত সভাপতি কিরোন শুক্ল বৈদ্য, দিলদারপুর বাগানের শ্রমিক পঞ্চায়েত সভাপতি বাদল দেব এবং ক্লিভডন বাগানের শ্রমিক পঞ্চায়েত সভাপতি মোহন লাল জানান, ছবি প্রিন্ট, ফটোকপি করা এবং মাস্টাররুল রেডি করার জন্য শ্রমিকদের কাছ থেকে সামান্য টাকা নিয়েছি। এটা তো আমরা খাইনি, তাদের কাগজপত্র ঠিক করতে খরচ করছি।

এ ব্যাপারে জয়চন্ডী ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড সদস্য আজমল আলী জানান, বিজয়া বাগানে শ্রমিকদের কাছ থেকে টাকা নেয়ার খবর পেয়ে আমি নিজে গিয়ে সভাপতিকে নিষেধ করেছি এবং বলেছি প্রয়োজনে তাদের খরচের টাকা আমি দেব। এরপরও সভাপতি আমার কথা না শুনে শ্রমিকদের কাছ থেকে টাকা উত্তোলন করেছেন।

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার এটিএম ফরহাদ চৌধুরী জানান, প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে এই অনুদান সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে। এখানে কোনো প্রকার টাকা-পয়সার প্রয়োজন হয়না, অফিসিয়াল কোনো খরচও এতে নেই। তাই এটা নিয়ে কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া গেলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত