ভাত না খেয়ে ২০ বছর পার করলেন কাওছার
jugantor
ভাত না খেয়ে ২০ বছর পার করলেন কাওছার

  ফজলুল হক জোয়ারদার আলমগীর, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ)  

২২ জুন ২০২০, ২০:০৫:০৫  |  অনলাইন সংস্করণ

কাওছার আহম্মেদ

ভাত বাঙালির প্রধান খাদ্য। লোকজন যেখানে ভাত খেয়ে বেঁচে থাকে, সেখানে জন্মের পর থেকে ২০ বছর পার হলেও এ পর্যন্ত ভাত না খেয়েই দিব্যি জীবনযাপন করছেন কাওছার আহম্মেদ নামে এক যুবক।

কাওছার আহম্মেদের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নের দক্ষিণ পূর্বচর পাড়াতলা গ্রামে। বাবা আফাজ উদ্দিন এবং মা মোমেনা খাতুন। চার ভাই ও তিন বোনের মাঝে কাওছার সবার ছোট। কাওছার বর্তমানে নরসিংদী সরকারি কলেজে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে অনার্স প্রথম বর্ষে অধ্যয়ন করছে।

আর সবার মতো সুস্থ এবং স্বাভাবিকভাবেই তার জন্ম। জন্মের পর তার কোনো সমস্যাই ছিল না। সমস্যা শুরু ছয় মাস বয়সে প্রথম 'মুখে ভাত' দেয়ার সময়। শিশু কাওছারের মুখে প্রথমবার ভাত দিতেই কান্নাকাটি শুরু করে দেয় এবং বমি করে ফেলে।

পরিবারের লোকজন ভাবে, আরেকটু বড় হোক তখন ভাত খাওয়ানো যাবে। দুই বছর পর্যন্ত শুধু মায়ের বুকের দুধ খেয়েই বড় হয় সে। এরপর তাকে আবার ভাত খাওয়ানোর চেষ্টা শুরু করে পরিবারের লোকজন। কিন্তু তখনো সে ভাত খেতে চায় না। জোর করে ভাত খাওয়াতে গেলেই বমি করে দেয়। এরপর থেকে পরিবারের কেউ আর তাকে জোর করে ভাত খাওয়ানোর তেমন একটা চেষ্টা করেনি।

ভাতের বিকল্পে তাকে সুজি খাওয়ানো শুরু করা হয়। ৫-৬ বছর পর্যন্ত শুধু সুজি খেয়েই পার করে সে। এদিকে বয়স যত বাড়ছে, খাবারের চাহিদাও বাড়ছিল তার। সেজন্য তখন থেকে সুজির বদলে তাকে রুটি, দুধ, কলা, চিড়া, সেমাই খেতে থাকে।

কাওছার আহম্মেদের মা মোমেনা খাতুন যুগান্তরকে জানান, তার জন্মের ৬ মাস পর চাল দিয়ে রান্না করে নরম খাবার খাওয়ানোর চেষ্টা করে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। ভাত খেতে না চাইলে তাকে মারধোর করে ও কোনো লাভ হয়নি। বর্তমানে তার বয়স ২০ বছর পার হলেও এত বছর বয়সে সে একবারও ভাত খায়নি। রুটি, বিস্কুট, ফলসহ অন্যান্য খাবার খায়। অবশেষে তাকে তার মতো করেই খেতে দেয়া হয়। তার যা ভালো লাগে, তা সে খায়।

কাওছার আহম্মেদ বলেন, ভাত দেখলেই আমার খারাপ লাগে। রুটি আমার প্রধান খাবার। এতেই আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। আমি নিয়মিত ব্যায়াম করি। আমার স্বাস্থ্য ভাল, শরীরে কোনো সমস্যা নেই।

নারায়ণগঞ্জের সাবেক সিভিল সার্জন ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আতিকুল সারোয়ার যুগান্তরকে জানান, ভাত খেতে না পারাটা কোনো রোগ নয়। ভাতের পরিবর্তে সে রুটি ও অন্যান্য খাবার খাচ্ছে। তাকে তার মতো করেই খেতে দেয়া উচিত। তার যা ভালো লাগে, সে তাই খাবে। পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষই ভাত খায় না। তাতে তাদের তো কোনো অসুবিধা হয় না।

ভাত না খেয়ে ২০ বছর পার করলেন কাওছার

 ফজলুল হক জোয়ারদার আলমগীর, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) 
২২ জুন ২০২০, ০৮:০৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
কাওছার আহম্মেদ
কাওছার আহম্মেদ

ভাত বাঙালির প্রধান খাদ্য। লোকজন যেখানে ভাত খেয়ে বেঁচে থাকে, সেখানে জন্মের পর থেকে ২০ বছর পার হলেও এ পর্যন্ত ভাত না খেয়েই দিব্যি জীবনযাপন করছেন কাওছার আহম্মেদ নামে এক যুবক।

কাওছার আহম্মেদের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নের দক্ষিণ পূর্বচর পাড়াতলা গ্রামে। বাবা আফাজ উদ্দিন এবং মা মোমেনা খাতুন। চার ভাই ও তিন বোনের মাঝে কাওছার সবার ছোট। কাওছার বর্তমানে নরসিংদী সরকারি কলেজে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে অনার্স প্রথম বর্ষে অধ্যয়ন করছে।

আর সবার মতো সুস্থ এবং স্বাভাবিকভাবেই তার জন্ম। জন্মের পর তার কোনো সমস্যাই ছিল না। সমস্যা শুরু ছয় মাস বয়সে প্রথম 'মুখে ভাত' দেয়ার সময়। শিশু কাওছারের মুখে প্রথমবার ভাত দিতেই কান্নাকাটি শুরু করে দেয় এবং বমি করে ফেলে।

পরিবারের লোকজন ভাবে, আরেকটু বড় হোক তখন ভাত খাওয়ানো যাবে। দুই বছর পর্যন্ত শুধু মায়ের বুকের দুধ খেয়েই বড় হয় সে। এরপর তাকে আবার ভাত খাওয়ানোর চেষ্টা শুরু করে পরিবারের লোকজন। কিন্তু তখনো সে ভাত খেতে চায় না। জোর করে ভাত খাওয়াতে গেলেই বমি করে দেয়। এরপর থেকে পরিবারের কেউ আর তাকে জোর করে ভাত খাওয়ানোর তেমন একটা চেষ্টা করেনি।

ভাতের বিকল্পে তাকে সুজি খাওয়ানো শুরু করা হয়। ৫-৬ বছর পর্যন্ত শুধু সুজি খেয়েই পার করে সে। এদিকে বয়স যত বাড়ছে, খাবারের চাহিদাও বাড়ছিল তার। সেজন্য তখন থেকে সুজির বদলে তাকে রুটি, দুধ, কলা, চিড়া, সেমাই খেতে থাকে।

কাওছার আহম্মেদের মা মোমেনা খাতুন যুগান্তরকে জানান, তার জন্মের ৬ মাস পর চাল দিয়ে রান্না করে নরম খাবার খাওয়ানোর চেষ্টা করে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। ভাত খেতে না চাইলে তাকে মারধোর করে ও কোনো লাভ হয়নি। বর্তমানে তার বয়স ২০ বছর পার হলেও এত বছর বয়সে সে একবারও ভাত খায়নি। রুটি, বিস্কুট, ফলসহ অন্যান্য খাবার খায়। অবশেষে তাকে তার মতো করেই খেতে দেয়া হয়। তার যা ভালো লাগে, তা সে খায়।

কাওছার আহম্মেদ বলেন, ভাত দেখলেই আমার খারাপ লাগে। রুটি আমার প্রধান খাবার। এতেই আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। আমি নিয়মিত ব্যায়াম করি। আমার স্বাস্থ্য ভাল, শরীরে কোনো সমস্যা নেই।

নারায়ণগঞ্জের সাবেক সিভিল সার্জন ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আতিকুল সারোয়ার যুগান্তরকে জানান, ভাত খেতে না পারাটা কোনো রোগ নয়। ভাতের পরিবর্তে সে রুটি ও অন্যান্য খাবার খাচ্ছে। তাকে তার মতো করেই খেতে দেয়া উচিত। তার যা ভালো লাগে, সে তাই খাবে। পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষই ভাত খায় না। তাতে তাদের তো কোনো অসুবিধা হয় না।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন