সৈকতে ভেসে এল মৃত তিমি

  টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি ২২ জুন ২০২০, ২৩:০৩:১০ | অনলাইন সংস্করণ

শেষ পর্যন্ত মৃত ভেসে আসল সেই তিমির বাচ্চাটি। গত শনিবার কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিম সৈকতে আটকে পড়েছিল তিমিটি। জীবিত বিশাল জলজ প্রাণীটি দেখার জন্য মুহূর্তেই ভিড় জমে যায় সৈকতে।

প্রাণীটি ছিল অসুস্থ, এর পেটের দিকে রক্তাক্ত দেখা যায়। স্থানীয়রা প্রথমে এটাকে সবাই ডলফিন বলে ধরে নেয়। আবার কেউ হাঙ্গর মনে করে। এসময় একদল উৎসুক লোক সেটিকে রশি বেঁধে কূলে তোলার চেষ্টা করে। কিন্তু বিশাল আকৃতির কারণে তা সম্ভব হয়নি।

একপর্যায়ে সেটি জোয়ারের সঙ্গে আবার নেমে যায় সাগরে। দুইদিন পর সোমবার সৈকত উপকূলে মৃত ভেসে আসে প্রাণীটি। সৈকতে ভেসে আসার পর এর আকার আকৃতি গঠন দেখে বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত হয়েছেন এটি আসলে তিমি।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র শাহপরীরদ্বীপের স্থানীয় বাসিন্দা সাদেকুল আমিন জানান, শনিবার জীবিত ভেসে আসলে সেটির লেজে রশি বেঁধে উদ্ধারের চেষ্টা করেছিল স্থানীয় জেলেরা। মৃত প্রাণীটির লেজেও একই রকম রশি বাঁধা দেখা গেছে এবং আকার আকৃতিও একই। এ থেকেই মোটামুটি নিশ্চিত হওয়া গেছে এটি সেই জলজ প্রাণী।

স্থানীয় পরিবেশকর্মী ও প্রাণীবিদরা জানিয়েছেন, তিমিটি ব্রাইডস হোয়েলের বাছুর। এটি গভীর সাগরের প্রাণী। তাদের ধারণা সাগরের জলরাশিতে ঘুরে বেড়ানোর সময় মা তিমির কাছ থেকে আলাদা হয়ে সৈকতের কাছে চলে আসে প্রাণীটি। এরপর আর গভীর সাগরে ফিরে যেতে পারেনি।

পরিবেশকর্মীদের মতে, পূর্ণবয়স্ক ব্রাইডস তিমি দৈর্ঘ্যে ৩০ থেকে ৪০ ফুট পর্যন্ত হয়। শাহপরীরদ্বীপ সৈকতে মৃত তিমিটি ১৮ ফুট দীর্ঘ বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

প্রাণিবিদদের মতে, করোনাভাইরাসের কারণে উপকূলে মানুষ ও নৌ-যানের চলাচল কমে যাওয়ায় এবং মাছ আহরণ নিষিদ্ধ থাকায় বঙ্গপোসাগরে ডলফিন ও তিমির বিচরণ বেড়েছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্র বিজ্ঞান ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক সাইদুর রহমান জানান, টেকনাফ সৈকতে মারা যাওয়া জলজ প্রাণীটি তিমি তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ছবি এবং ভিডিওতে এর বাহ্যিক গঠন দেখে সেটা নিশ্চিত হয়েছেন। তবে এটা কোন প্রজাতি সেটা নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি।

একই কথা বলেছেন বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্স ইন্সটিটিউট কক্সবাজার এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবু সাঈদ মোহাম্মদ হোসেন শরীফ। তিনি জানান, এটি একটি তিমি।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সাইফ জানান, উপকূলীয় বন বিভাগের সহায়তায় মাছের মৃতদেহটির বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত