৫৪০ বছরেও হয়নি ঐতিহাসিক খঞ্জনদীঘি মসজিদের রাস্তা!

  মো. জোবদুল হক, শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি ২৩ জুন ২০২০, ১৪:৫৫:১৬ | অনলাইন সংস্করণ

ছবি: যুগান্তর

ঐতিহাসিক খঞ্জনদীঘি মসজিদটি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সোনামসজিদ স্থলবন্দরের ৪নং গেট থেকে দক্ষিণ দিকে ৪০০ গজ ভেতরে অবস্থিত। কাস্টমস অফিস মোড় থেকে পূর্বদিকে আধামাইল পর বালিয়াদীঘি গ্রামের দিকে ৪০ গজ দূরত্বে এক গম্বুজবিশিষ্ট খঞ্জনদীঘি মসজিদ।

কিন্তু ওই মসজিদে মুসল্লি বা বহিরাগত দর্শনার্থীদের যাওয়া-আসার জন্য নেই কোনো রাস্তা। ৫৪০ বছরেও রাস্তার ব্যবস্থা হয়নি! তবে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ স্বাধীনতার পর ওই সব জঙ্গল পরিষ্কার করে ঐতিহাসিক খঞ্জনদীঘি মসজিদ ও দীঘিটি উন্মুক্ত করলেও সড়ক নির্মাণ হয়নি।

স্থানীয়রা জানান, ঐতিহাসিক সোনামসজিদ এলাকায় প্রায় ৫৪০ বছর আগে খঞ্জনদীঘি মসজিদ নির্মিত হয়।

বর্তমানে ওই মসজিদটি সংস্কার করে নামাজিদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এর আগে ওই মসজিদ এলাকার জঙ্গলে ভরপুর ছিল। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ স্বাধীনতার পর ওই সব জঙ্গল পরিষ্কার করে ঐতিহাসিক খঞ্জনদীঘি মসজিদ ও দীঘিটি উন্মুক্ত করে দেয়। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতি বছর বহিরাগত দর্শনার্থী ঐতিহাসিক খঞ্জনদীঘি মসজিদটি দেখতে আসেন।

এ ছাড়া নিয়মিত স্থানীয়রা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে থাকেন। কিন্তু ওই মসজিদে যাতায়াতের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে রাস্তা। সেখানে কোনো সরকারি রাস্তা নেই। ওই এলাকার জমির মালিকরা বেড়া দিয়ে নিজ জমি ঘিরে নেয়ায় বেশি সমস্যা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন থেকে সরকারের সর্বোচ্চ প্রশাসনের বহু কর্মকর্তারা এই ঐতিহাসিক খঞ্জনদীঘি মসজিদ পরিদর্শন করলেও মাত্র ৪০০ গজ রাস্তার কোনো ব্যবস্থা করেননি।

পানামা সোনামসজিদ পোর্ট লিংকের কর্মকর্তা ইঞ্জি. নজরুল, কামাল হোসেন ও বহিরাগত দর্শনার্থীদের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী জাকির হোসেন এবং সুমাইয়া সাবিল ঐতিহাসিক খঞ্জনদীঘি মসজিদটির যাতাযাতের জন্য জমি হুকুম করে রাস্তা তৈরি করার জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে শাহবাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. তোজাম্মেল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ইতিপূর্বে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. চৌধুরী রওশন ইসলামকে অবহিত করা হয়েছে।

এ সমস্যার ব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাকিব-আল-রাব্বি বলেন, আমি নতুন এই উপজেলায় যোগদান করেছি। এ রাস্তার সমস্যার ব্যাপারে সরেজমিন গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক এজেডএম নূরুল হকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে ঐতিহাসিক খঞ্জনদীঘি মসজিদের চলাচলের জন্য রাস্তার সমস্যা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, রাস্তা না থাকলে অবশ্যই এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল জানান, বিষয়টি আগে জানা ছিল না। তবে জরুরিভিত্তিতে ঐতিহাসিক খঞ্জনদীঘি মসজিদে যাতায়াতের জন্য রাস্তা তৈরির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

খঞ্জনদীঘি মসজিদটি অনুমানিক ১৪৮০ সালের দিকে কোনো এক রাজবিবি নির্মাণ করেন বলে ঐতিহাসিকরা ধারণা করেন। অনেকে মনে করেন, এটি সুলতান ইলিয়াস শাহের আমলের নির্মিত একটি মসজিদ। ২০০৪-২০০৫ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের উদ্যোগে মসজিদটি সংস্কার করা হয়।

ওই সংস্কারের পর এর অলঙ্করণ ও অঙ্গসজ্জা দারুণভাবে প্রস্ফূটিত হয়েছে। মসজিদটি পূর্ব-পশ্চিমে ৬২ ফুট এবং উত্তর-দক্ষিণে ৪২ ফুট। মসজিদে সর্বমোট সাতটি দরজা রয়েছে। পূর্বদিকে ৯.৬ ফুট মাপের একটি বারান্দা রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, কথিত রয়েছে– মসজিদটি দুর্ভেদ্য জঙ্গলে আবৃত ছিল এবং হিংস্র জীবজন্তু ছিল এখানে। বড় বড় অজগর সাপের নিবাস ছিল এ মসজিদে।

১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর জঙ্গল পরিষ্কার করলে মসজিদের অস্তিত্ব ধরা পড়ে। স্থানীয়দের কেউ কেউ একে ‘রাজবিবি মসজিদ’ হিসেবে বর্ণনা করেন। প্রকৃতপক্ষে এটি খঞ্জনদীঘি মসজিদ। এর পূর্বপ্রান্তে বিশাল আকারের একটি পুকুর রয়েছে, যা খঞ্জনদীঘি নামে পরিচিত।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত