নারায়ণগঞ্জে মানবিক এক পুলিশ কর্মকর্তার করোনাযুদ্ধ 
jugantor
নারায়ণগঞ্জে মানবিক এক পুলিশ কর্মকর্তার করোনাযুদ্ধ 

  হোসেন চিশতী সিপলু, সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) থেকে  

২৩ জুন ২০২০, ১৫:৪৮:১৪  |  অনলাইন সংস্করণ

করোনার থাবায় থমকে আছে পৃথিবী। পাল্টে গেছে চেনা পরিবেশ। মৃত্যু ভয়ে আপন মানুষগুলোও যেন পর হয়ে গেছে।


এর মধ্যে ব্যাতিক্রমও রয়েছে। মৃত্যুভয়কে পরোয়া না করে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন অনেকে। তাদের একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পুলিশ অফিসারের সন্তান নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি কামরুল ফারুক।


সিদ্ধিরগঞ্জে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে প্রতিনিয়ত মৃত্যুর ভয়কে উপেক্ষা করে সম্মুখযুদ্ধ করে যাচ্ছেন এ পুলিশ অফিসার।


করোনা বিস্তার রোধে কাজ করতে গিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ১৬ জন পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়। তাদের করোয়ারেন্টিনে রেখে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে তুলতে তার অবদান ভূলবেন না ওই পুলিশ সদস্যরা।


করোনার সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একটিবারের জন্যও দেখা করতে যাননি।


এমনকি ঈদের দিনেও না। ঢাকার মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজে ৫ম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে রাইয়ান ফারুক লামীমের আবদার ছিলো একবারের জন্য হলেও বাবার
সঙ্গে সাক্ষাতের। ছেলের বায়নাটি রাখতে তিনি রাখতে পারেনি।

থানার পুলিশ সদস্যারা যাতে স্বাচ্ছন্দে কাজ করতে পারে এজন্য সব সদস্যদের মধ্যে একধিকবার সুরক্ষাসামগ্রী মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সাবান, গ্লাবস ও পিপিই বিতরণ করেছেন।

থানায় পুলিশ ছাড়াও অনেক মানুষের আনাগোনা থাকায় থানা ভবনের সামনে স্থাপন করেছেন হাত ধোয়ার বেসিন। করোনা বিস্তার রোধে কাজ করতে গিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ১৬ জন পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়। তারা সুস্থ হওয়ার পর কাজের উৎসাহ যোগাতে তাদেরকে ২৩ মে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে বরণ করা হয়।

তিনি সিদ্ধিরগঞ্জের অসহায় মানুষদের জন্যও কাজ করে যাচ্ছেন। সরকারের তরফ থেকে যেসব খাদ্যসামগ্রী এসেছে তার সঠিক বণ্টন করেছেন, বিতরণ করেছেন প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের মাঝে।

খাবার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের মাঝেও। এছাড়াও প্রতিবন্ধী, পরিবহন শ্রমিক, স্কুল শিক্ষক ও মসজিদের ইমাম-মোয়াজিমরা পেয়েছেন ওসি কামরুলের খাদ্য সহযোগিতা।

যারা চক্ষুলজ্জায় ত্রাণ নিতে আসতে পারেন না, তাদেরকে গোপনে বাসায় ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। সত্যিকারের সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের খাদ্যসামগ্রী দেয়ার জন্য কৌশল অবলম্বন করে রাতের আঁধারেও এলাকা চষে বেড়িয়েছেন তার সদস্যরা।

করোনাকালে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মমাফিক কার্যক্রমও চালিয়ে যাচ্ছিছেন। পাশপাশি লকডাউন ঘোষণা হওয়ার পর সিদ্ধিরগঞ্জবাসীকে ঘরে রাখতে সম্ভব্য সব ধরণের পদক্ষেপও গ্রহণ করেন তিনি।

এসব কারণে এ পুলিশ অফিসার স্থানীয়দের কাছে ব্যাপক প্রশংসাও কুঁড়িয়েছেন। লকডাউনের কারণে খাদ্য সংকটে ভুগে নিম্ন আয়ের মানুষ।

এই পরিস্থিতিতে তাদের জন্য ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন তিনি। ১২ এপ্রিল ১২০ জন দরিদ্রের মাঝে খাদ্য বিতরণের মাধ্যমে শুরু করেন তার ত্রাণ বিতরণের কার্যক্রম।

১৬ এপ্রিল শতাধিক রিকশা চালকের মধ্যে, ১৯ এপ্রিল তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের মাঝে ও ২১ এপ্রিল হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে বিতরণ করেন ত্রাণ সামগ্রী।

৩০ ও ৩১ এপ্রিল আড়াই শতাধিক পরিবহন শ্রমিক ও অসহায়দের মধ্যে তিনি ত্রাণ বিতরণ করেন। ২৪ মে নারী ও পুরুষ প্রতিবন্ধদের মধ্যে ত্রাণ বিরতণ করেন।

এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ্যে বা গোপনে তিনি ১০৭২টি অসহায় পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী দিয়ে সহায়তা করেন।

মোবাইলের ম্যাসেজ ও ফোন পেয়ে প্রায় শতাধিক অসহায় ব্যক্তির কাছেও ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছিলেন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পুলিশ অফিসারের এ সন্তান।


ওসি কামরুল ফারুক বলেন, করোনার মহামারী থেকে সিদ্ধিরগঞ্জবাসীকে রক্ষা করতে প্রধানমন্ত্রী, আইজিপি ও ডিআইজির নির্দেশক্রমে এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী সাধ্যানুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিবহন শ্রমিক জানায়, লকডাউন চলাকালে পরিবহন না চলায় আমাদের আয় বন্ধ হয়ে যায়। এজন্য আমরা তখন সাইনবোর্ড এলাকায় মহাসড়কে ব্যারিকেড দিয়ে ত্রাণের দাবিতে আন্দোলন করছিলাম।

তখন ওসি কামরুল ফারুক আমাদেরকে ত্রাণের আশ্বাস দিলে আমরা সিদ্ধিরগঞ্জ থানা গিয়ে ত্রাণ নিয়েছিলোম।এতে আমরা অনেক উপকৃত হয়েছি।


নারায়ণগঞ্জে মানবিক এক পুলিশ কর্মকর্তার করোনাযুদ্ধ 

 হোসেন চিশতী সিপলু, সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) থেকে 
২৩ জুন ২০২০, ০৩:৪৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

করোনার থাবায় থমকে আছে পৃথিবী। পাল্টে গেছে চেনা পরিবেশ। মৃত্যু ভয়ে আপন মানুষগুলোও যেন পর হয়ে গেছে। 


এর মধ্যে ব্যাতিক্রমও রয়েছে। মৃত্যুভয়কে পরোয়া না  করে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন অনেকে। তাদের একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পুলিশ অফিসারের সন্তান নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি কামরুল ফারুক। 


সিদ্ধিরগঞ্জে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে প্রতিনিয়ত মৃত্যুর ভয়কে উপেক্ষা করে সম্মুখযুদ্ধ করে যাচ্ছেন এ পুলিশ অফিসার।  


করোনা বিস্তার রোধে কাজ করতে গিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ১৬ জন পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়। তাদের করোয়ারেন্টিনে রেখে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে তুলতে তার অবদান ভূলবেন না ওই পুলিশ সদস্যরা।


করোনার সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একটিবারের জন্যও দেখা করতে যাননি। 


এমনকি ঈদের দিনেও না। ঢাকার মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজে ৫ম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে রাইয়ান ফারুক লামীমের আবদার ছিলো একবারের জন্য হলেও বাবার 
সঙ্গে সাক্ষাতের। ছেলের বায়নাটি রাখতে তিনি রাখতে পারেনি। 

থানার পুলিশ সদস্যারা যাতে স্বাচ্ছন্দে কাজ করতে পারে এজন্য সব সদস্যদের মধ্যে একধিকবার সুরক্ষাসামগ্রী মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সাবান, গ্লাবস ও পিপিই বিতরণ করেছেন। 

থানায় পুলিশ ছাড়াও অনেক মানুষের আনাগোনা থাকায় থানা ভবনের সামনে স্থাপন করেছেন হাত ধোয়ার বেসিন। করোনা বিস্তার রোধে কাজ করতে গিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ১৬ জন পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়। তারা সুস্থ হওয়ার পর কাজের উৎসাহ যোগাতে তাদেরকে ২৩ মে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে বরণ করা হয়। 

তিনি সিদ্ধিরগঞ্জের অসহায় মানুষদের জন্যও কাজ করে যাচ্ছেন। সরকারের তরফ থেকে যেসব খাদ্যসামগ্রী এসেছে তার সঠিক বণ্টন করেছেন, বিতরণ করেছেন প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের মাঝে। 

খাবার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের মাঝেও। এছাড়াও প্রতিবন্ধী, পরিবহন শ্রমিক, স্কুল শিক্ষক ও মসজিদের ইমাম-মোয়াজিমরা পেয়েছেন ওসি কামরুলের খাদ্য সহযোগিতা। 

যারা চক্ষুলজ্জায় ত্রাণ নিতে আসতে পারেন না, তাদেরকে গোপনে বাসায় ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। সত্যিকারের সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের খাদ্যসামগ্রী দেয়ার জন্য কৌশল অবলম্বন করে রাতের আঁধারেও এলাকা চষে বেড়িয়েছেন তার সদস্যরা। 

করোনাকালে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মমাফিক কার্যক্রমও চালিয়ে যাচ্ছিছেন। পাশপাশি লকডাউন ঘোষণা হওয়ার পর সিদ্ধিরগঞ্জবাসীকে ঘরে রাখতে সম্ভব্য সব ধরণের পদক্ষেপও গ্রহণ করেন তিনি। 

এসব কারণে এ পুলিশ অফিসার স্থানীয়দের কাছে ব্যাপক প্রশংসাও কুঁড়িয়েছেন। লকডাউনের কারণে খাদ্য সংকটে ভুগে নিম্ন আয়ের মানুষ। 

এই পরিস্থিতিতে তাদের জন্য ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন তিনি। ১২ এপ্রিল ১২০ জন দরিদ্রের মাঝে খাদ্য বিতরণের মাধ্যমে শুরু করেন তার ত্রাণ বিতরণের কার্যক্রম। 

১৬ এপ্রিল শতাধিক রিকশা চালকের মধ্যে, ১৯ এপ্রিল তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের মাঝে ও ২১ এপ্রিল হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে বিতরণ করেন ত্রাণ সামগ্রী। 

৩০ ও ৩১ এপ্রিল আড়াই শতাধিক পরিবহন শ্রমিক ও অসহায়দের মধ্যে তিনি ত্রাণ বিতরণ করেন। ২৪ মে নারী ও পুরুষ প্রতিবন্ধদের মধ্যে ত্রাণ বিরতণ করেন। 

এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ্যে বা গোপনে তিনি ১০৭২টি অসহায় পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী দিয়ে সহায়তা করেন। 

মোবাইলের  ম্যাসেজ ও ফোন পেয়ে প্রায় শতাধিক অসহায় ব্যক্তির কাছেও ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছিলেন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পুলিশ অফিসারের এ সন্তান। 


ওসি কামরুল ফারুক বলেন, করোনার মহামারী থেকে সিদ্ধিরগঞ্জবাসীকে রক্ষা করতে প্রধানমন্ত্রী, আইজিপি ও ডিআইজির নির্দেশক্রমে এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী সাধ্যানুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি। 


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিবহন শ্রমিক জানায়, লকডাউন চলাকালে পরিবহন না চলায় আমাদের আয় বন্ধ হয়ে যায়। এজন্য আমরা তখন সাইনবোর্ড এলাকায় মহাসড়কে ব্যারিকেড দিয়ে ত্রাণের দাবিতে আন্দোলন করছিলাম। 

তখন ওসি কামরুল ফারুক আমাদেরকে ত্রাণের আশ্বাস দিলে আমরা সিদ্ধিরগঞ্জ থানা গিয়ে ত্রাণ নিয়েছিলোম।এতে আমরা অনেক উপকৃত হয়েছি।


 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন