সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য দুর্গম চরাঞ্চল আড়াইহাজারের কালাপাহাড়িয়া

  রাজু আহমেদ, নারায়ণগঞ্জ ২৪ জুন ২০২০, ১৬:০৩:৫৪ | অনলাইন সংস্করণ

আইনের শাসন কিংবা মানুষের জীবন, সবই যেন তুচ্ছ মেঘনা নদী পরিবেষ্টিত আড়াইহাজার উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল কালাপাহাড়িয়ায়।

আধিপত্য বিস্তার, মেঘনার অবৈধ বালু উত্তোলন, বালু বাহি বাল্কহেডে চাঁদাবাজি, চরদখল, মাছের ঘের দখলে রাখতে এই এলাকায় গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী বাহিনী।

এক সময় ট্রাক্টর চালিয়ে কিংবা মোবাইলের সিম কার্ড বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করা অনেক সন্ত্রাসীরই এই চরাঞ্চলে এখন রয়েছে আলিশান ডুপ্লেক্স বাড়ি। গত এক দশকে কালাপাহাড়িয়ায় পুলিশ কন্সটেবলসহ খুনের শিকার হয়েছেন এক ডজন মানুষ।

রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এসব সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে পুরো এলাকা দাপিয়ে বেড়ালেও এলাকার সাধারণ মানুষ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায়না।

এমনকি গণমাধ্যম কর্মীরাও এই এলাকায় সংবাদ সংগ্রহে গেলে নিজের পরিচয় গোপন করেই কাজ করছেন। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সর্বশেষ গত ২৭ মে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাবেক ইউপি মেম্বার আব্দুল হকের বিরোধে প্রাণ হারায় অষ্টম শ্রেনীর ছাত্র আইয়ুব আলী।

সরজমিন ঘুরে ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চারদিকে মেঘনানদী পরিবেষ্টিত কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের উত্তরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর, দক্ষিণে কুমিল্লার মেঘনা থানা, পূর্বে কুমিল্লার হোমনা এবং পশ্চিমে আড়াইহাজার ও সোনারগাঁ থানা।

চারদিকে নদী পরিবেষ্টিত হওয়ার কারণে সন্ত্রাসীরা অপকর্ম করে দ্রুত এসব এলাকায় পালিয়ে যায়। এলাকাটি দুর্গম হওয়ার কারণে আড়াইহাজার সদর থেকে পুলিশ এলাকায় ট্রলারে বা নৌকায় পৌঁছতে সময় লাগে প্রায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা।


ফলে পুলিশ পৌঁছার আগেই সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায় পাশের জেলায়। যে কারণে তারা বেশিরভাগ সময় থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে।


তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছ, আড়াইহাজারে কদমীরচরে আছে জয়নাল বাহিনী, আব্দুস সাত্তার বাহিনী, ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম বাহিনী এবং সাবেক ইউপি মেম্বার আব্দুল হক বাহিনী।


এসব বাহিনীর সদস্যদের হাতে আছে দেশি ও বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গত এক দশকে এসব সন্ত্রাসীরা নদীতে বালু উত্তোলন, চরদখল, মাছের ঘের দখল, বালুবাহী বাল্কহেডে চাদাঁবাজি করে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।


স্থানীয়রা জানান, আব্দুস সাত্তার আট দশ বছর আগে এলাকায় ফেরি করে মোবাইল সিমকার্ড বিক্রি করতো। আর জয়নাল আবেদীন অন্যের জমিতে ট্রাক্টর চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো।


কিন্তু নদীর বালু অবৈধভাবে উত্তোলন, বাল্কহেডে চাঁদাবাজি করে খুব অল্প সময়ে তারা বিপুল বিত্তবৈভবের মালিক বনে গেছেন।

স্থানীয়রা জানান, গত এক দশকে শুধু কালাপাহাড়িয়ার কদমীর চরেই খুন হয়েছেন, আব্দুস সালাম, লাল মিয়া, আমান, আব্দুর রব, বেতের, মোতা, আব্দুল, হাসুন, আব্দুস সালাম, মধ্যারচরের রোজিনা, সুজন এবং অষ্টম শ্রেনীর ছাত্র আইযুব আলী।

গ্রামবাসীর দাবী, এসব বাহিনীর অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করলেই এলাকায় শান্তি ফিরে আসবে।

এ ব্যাপারে জয়নাল আবেদীন, আব্দুস সাত্তার, ছাত্রলীগনেতা সাদ্দাম হোসেনের বক্তব্য জানার জন্য তাদরে ব্যহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেও যোগাযোগ করা যায়নি।


এদিকে ওই এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম স্বপনরে বিরুদ্ধেও রয়েেছ আধপিত্য বিস্তার ও গ্রুপিংয়ের অভেিযাগ। ২০১৭সালে পুলিম কন্সটেবল রুবলে হত্যা মামলায় তিনি ছিলেন অন্যতম আসামি।

তবে চেয়ারম্যান স্বপন দাবি করনে, আমি ছাত্রলীগ করে তৃনমূল পর্যায় থেকে এখানে এসেছি, কিন্তু নব্য আওয়ামী লীগাররা এই এলাকাটি অশান্ত করার চেষ্টা করছে।

পুলিশ সদস্য রুবলে হত্যা মামলায় তদন্ত করে পুলিশ আমার সম্পৃক্ততা পায়নি বলেই অভিযোগপত্রে আমার নাম নেই। মূলত এলাকায় শান্তি চাই বলেই আমার বিরুদ্ধে একাধিক সন্ত্রাসী বাহিনী সক্রিয় রয়েছে।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. জায়েদুল আলম বলেন, সম্প্রতি কালাপাহাড়িয়া কদমিরচর, রাধানগর, মধ্যারচরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশের নেতৃত্বে কম্বিং অপারেশন চালিয়ে বিপুল পরিমান দেশিয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

তিনি বলেন, আমাদের তদন্তে এই পর্যন্ত কালাপাহাড়িয়াকে অশান্ত করে রাখার পেছনে চার থেকে পাচঁটি বাহিনীকে চিহৃত করা হয়েছে। এসব বাহিনীর সাঙ্গ-পাঙ্গদের নামও আমাদের কাছে এসেছে। কোন অপরাধীকে ছাড় দেয়া হবে না বলে জানান তিনি।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত