যশোরে মাদ্রাসার সভাপতিকে হত্যায় অংশ নেয় ৯ তরুণ

  যশোর ব্যুরো ২৪ জুন ২০২০, ২৩:৩৬:৫২ | অনলাইন সংস্করণ

যশোরের উপশহর আদর্শ বহুমুখী মাদ্রাসার সভাপতি এহসানুল হক ইমু (৩২) হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এই হত্যাকাণ্ডে আসামি আল শাহরিয়ারসহ ৯ জন অংশ নেয়। দুই পক্ষের মারামারি ঠেকানোয় ক্ষিপ্ত হয়ে ইমুকে হত্যা করা হয়।

বুধবার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহম্মদ আকরাম হোসেনের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন আল শাহরিয়ার। তাকে সকালে শহরের পুরনো কসবা ঘোষপাড়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি ওই এলাকার আবদুল হান্নানের ছেলে।

পিবিআই যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এমকেএইচ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, বুধবার সকালে পুরনো কসবা ঘোষপাড়া থেকে আল শাহরিয়ারকে আটক করা হয়। আটকের পর ইমু হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেয়। পরবর্তীকালে তাকে আদালতে সোপর্দ করলে সে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।

আসামি শাহরিয়ার জানিয়েছে, রোববার সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটের দিকে উপশহর শিশু হাসপাতালের বিপরীতে রয়েল টি স্টলের সামনে ইমু ও তার বন্ধু শোয়েব চা পান করছিলেন। একই দোকানে শাকিল, শাখাওয়াত ও তানভির চা পান করছিল। এ সময় চায়ের দোকানে শাহরিয়ারের সহযোগী বন্ধু দুর্জয় ও মাসুদ মোটরসাইকেলে সেখানে আসে। এলাকায় মাদক সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে শাকিল ও দুর্জয়ের মধ্যে পূর্বশত্রুতা ছিল। পূর্বশত্রুতার জের ধরে দুর্জয় শাকিলকে পেয়ে চায়ের দোকানে মারপিট শুরু করে। আর শাকিলের মোটরসাইকেলে চাবি কেড়ে নেয়।

নিহত ইমু উভয়ের মধ্যে মারামারি ও বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টাকালে একপর্যায়ে দুর্জয়কে একটি চড় মেরে তাৎক্ষণিক উভয়ের মধ্যে সমঝোতা করে দেন। দুর্জয়কে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার জন্য ইমুর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে শাকিল ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

রাত ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে দুর্জয় তার বড় ভাই বাবু ও সোহাগ প্রতিশোধ নিতে প্রস্তুতি নিয়ে একটি মোটরসাইকেলযোগে রয়েল টি স্টলে আসে। দুর্জয়ের অন্য সহযোগী মাসুদ (২৫), ইয়াসিন (২০), সুইট (২০), শাহিন (২০) ও আসিফ (২০) দুটি অটোরিকশাযোগে ঘটনাস্থলে আসে। দুর্জয় ও সোহাগ তাদের হাতে থাকা বার্মিজ ছুরি দিয়ে ইমুকে এলোপাথাড়ি কুপাতে থাকে।

গ্রেফতারকৃত আসামি আল শাহরিয়ার ও পলাতক আসামি শাহিন, বাবু, মাসুদ, ইয়াসিন, সুইট ও আসিফ একত্রে তাদের হাতে থাকা দা দিয়ে ইমুকে কুপিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে চলে যায়। অজ্ঞাতনামা রিকশাচালক নিহত এহসানুল হক ইমুকে তার গুরুতর জখম অবস্থায় চিকিৎসার জন্য যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত্র ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে ইমু মারা যান।

গত ২১ জুন সন্ধ্যায় উপশহর শিশু হাসপাতালের বিপরীতে রয়েল টি স্টলের সামনে খুন হন এহসানুল হক ইমু। পরের দিন নিহতের পিতা উপশহর বি ব্লক এলাকার ইকবাল হোসেন ইকু কোতোয়ালি থানায় ১০/১৫জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত