অঙ্গীকার করলেও কেউ কথা রাখেননি!

  কামাল হোসাইন, নেত্রকোনা ২৫ জুন ২০২০, ১৪:৪৩:১৩ | অনলাইন সংস্করণ

ছবি: যুগান্তর

নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় একটি সেতুর কারণে ৫০ বছর ধরে ২৫ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। দীর্ঘ এই সময়ে জনপ্রতিনিধি আসছেন-গেছেন, ভোটের সময় সেতু করার অঙ্গীকারও করেছেন; কিন্তু কেউ কথা রাখেনি!

বারহাট্টার আসমাবাজার থেকে মনাশবাজার সড়কের গোড়ল গ্রাম এলাকায় কাওনা নদীর ওপর সেতু নেই গত ৫০ বছর ধরে। সেখানে ২৫ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা একটি বাঁশের সাঁকো। তাও কদিন পর পর ভেঙে যায়।

স্থানীয়দের উদ্যোগে ঠিক করা হয়। স্বাধীনতার পর থেকে স্থানীয়রা এখানে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু কাজ হচ্ছে না।

স্থানীয়রা জানান, বারহাট্টার আসমা ইউনিয়নের মনাশবাজার থেকে একটি পাকা সড়ক গোড়ল এলাকা হয়ে কলমাকান্দার দশধার ও আমবাড়ি সড়কে মিশেছে। ওই পথ দিয়ে গাবারকান্দা, দেওপুর, বাউসী, হাজীগঞ্জ, শেখেরপাড়া, ছয়গাঁওসহ অন্তত ২৫ গ্রামের মানুষ চলাচল করতে হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহস্রাধিক শিক্ষার্থী নদীর ওপর নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হয়।

তারা নদীর ওপর পাকা ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। কিন্তু কোনো কাজের কাজ হচ্ছে না।

গোড়ল গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মো. শহীদ আলী ফকির জানান, দেশ এত এগিয়ে যাচ্ছে। গ্রামগুলো শহরের মতো হচ্ছে। কিন্তু আমাদের এখানে একটি সেতু হচ্ছে না। বারবার যোগাযোগ করেও কোনো সুফল পাচ্ছি না। আমরা আমাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে পারছি না।

একই গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত টেক্সটাইল ইঞ্জি. নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমার বাবা-দাদাদের সময় থেকে এই দুর্ভোগ চলছে। কিন্তু কারও চোখে পড়ে না। স্বাধীনতার পর থেকে প্রায় ৫০ বছর ধরে জনপ্রতিনিধিদের ধরনা দিচ্ছি, সবাই কথা দিয়েছেন। ভোট নিয়েছেন, কিন্তু কেউ কথা রাখেনি।

আমরা এখন প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। একমাত্র তিনিই আমাদের ২৫ গ্রামের মানুষকে রক্ষা করতে পারেন।

গোড়ল এলাকার বাসিন্দা আবদুল হাকিম বলেন, নদীর ওপর প্রায় ৬০ ফুট দীর্ঘ এই নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজারের মতো মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা। আমরা এলাকাবাসীর স্বেচ্ছাশ্রমে প্রতি বছর সাঁকো মেরামত করা হয়।

অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মো. শহীদ আলী ফকির বলেন, বাঁশের সাঁকো দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বারহাট্টা কলেজ, হাজীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, গোড়ল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আসমা ইউনিয়ন পরিষদের মানুষ যাতায়াত করে থাকে। সেতু না থাকায় প্রতিদিন সবাইকে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হয়।

স্কুলশিক্ষক নূরে আলম খান বলেন, কেউ কথা রাখছে না। নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিরা আমাদের কাছে আসেন ভোট চাইতে, ওয়াদা করেন সেতু করে দেবে। অনেকেই প্রতিশ্রুতি দেন আমাদের যাতায়াতের পথে সেতু নির্মাণ করে দেয়ার। কিন্তু নির্বাচনের পর কেউ আর এলাকাবাসীর খোঁজখবর নেন না।

এ বিষয়ে বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোরশেদ আলম বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। নদীর ওপর সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত