‘আমার লাশটা এসে নিয়ে যাবেন’- ওসিকে ফোন করে যুবকের আত্মহত্যা

  গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি ২৬ জুন ২০২০, ২০:৪২:১৫ | অনলাইন সংস্করণ

পাপন। ছবি: সংগৃহীত

‘স্যার আমরা গরীব মানুষ, আমাদের থাকার মতো জায়গা নেই, তাই আমাদের বেঁচে থাকারও অধিকার নেই। সকালে এসে আমার লাশটা নিয়ে যাবেন।’ রাত ১২টার দিকে ওসিকে ফোনে এ কথা বলে নিজের লেদ মেশিনের ঘরে বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে আত্মহত্যা করেন পাপন সাহা (২৪) নামে এক যুবক।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে এ ঘটনা ঘটে। পাপন সাহা গোয়ালন্দ রেলস্টেশন এলাকার মৃত অশোক সাহার ছেলে।

জানা গেছে, গোয়ালন্দ বাজার রেলস্টেশনের পাশে ও গোয়ালন্দ ঘাট থানার সীমানা প্রাচীর সংলগ্ন রেলের জায়গায় দোকানসহ বসতঘর নির্মাণ করে বসবাস করেন পাপন সাহা ও তার পরিবার। সম্প্রতি থানার সীমানা প্রাচীরের উপরে ইটের দেয়াল তুলে বসতঘর সম্প্রসারণের কাজ শুরু করেন পাপন সাহা।

বিষয়টি থানা পুলিশের নজরে আসলে পুলিশ থানার বাউন্ডারির বাইরে কাজ করতে বলে। কিন্তু পাপন সাহা থানার দেয়াল ঘেঁষে কাজ করতে থাকলে বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি আশিকুর রহমান তাকে থানায় ডেকে আনেন।

এরপর পাপনকে থানা হাজতে আটকে রেখে একটি অভিযানে বের হন। ফিরে এসে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে থানার সীমানা প্রচীর থেকে এক ফুট দূরে ঘর নির্মাণের মুচলেকা নিয়ে পাপনকে ছেড়ে দেয়া হয়।

এ দিকে ওই দিন রাত ১২টার দিকে পাপন ওসিকে ফোন করে বলেন, স্যার আমরা গরীব মানুষ, আমাদের থাকার মতো জায়গা নেই, তাই আমাদের বেঁচে থাকারও অধিকার নেই। সকালে এসে আমার লাশটা নিয়ে যাবেন। এরপর রাত পৌনে ১টার দিকে তিনি রেলস্টেশনে তার লেদ মেশিনের ঘরে বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে আত্মহত্যা করেন।

এ দিকে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, একদিকে থানার বাউন্ডারি থেকে দূরে ঘর নির্মাণে পুলিশের চাপ অপরদিকে ওইভাবেই ঘর নির্মাণের চাপ পরিবারের। এতে হতাশ হয়ে পাপন সাহা আত্মহত্যার পথ বেঁছে নেন।

স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর কোমল কুমার সাহা বলেন, পাপন সাহাকে থানা হেফাজতে রাখার খবর শুনে বৃহস্পতিবার দুপুরেই আমি থানায় যাই। কিন্তু থানায় ওসিকে না পেয়ে ফোনে কথা বলি। এ সময় তিনি বলেন, আমি এসে পাপনের সঙ্গে কথা বলে ছেড়ে দিব। পরবর্তীকালে বিকালে আমার ছেলেকে পাঠালে ওসি মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেন।

তিনি আরও বলেন, রাত পৌনে ১০টার দিকে পাপন আমাকে ফোনে জানান, ওসি থানার বাউন্ডারি ওয়াল থেকে এক ফুট দূরে ঘর তুলতে বলেছেন। এ সময় আমি তাকে বলি, ওসি সাহেবের সঙ্গে আমি কথা বলব, তুমি ৬ ইঞ্চি দূরে ঘর নির্মাণ কর। এরপর রাতে পাপনের আত্মহত্যার সংবাদ শুনি।

এ সময় তিনি নিশ্চিত করে বলেন, আমি ও আমার ছেলে সার্বক্ষণিক পাপনের খোঁজ-খবর রেখেছি, পুলিশ পাপনের সঙ্গে কোনো প্রকার দুর্ব্যবহার করেনি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ইউনুছ মোল্লা জানান, পাপন বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে আমাকে জানায়, থানা থেকে তাদের ঘর নির্মাণ কাজে বাঁধা দিচ্ছে। আমি সরেজমিন এসে দেখতে পাই, থানার বাউন্ডারি ওয়ালের সঙ্গে তারা ঘরের দেয়াল তুলেছে এবং উপরের টিন অনেকখানি থানার সীমানার মধ্যে ঢুকে গেছে। এ সময় আমি তাদের পরামর্শ দেই, থানার বাউন্ডারির ভেতর থেকে স্থাপনা সরিয়ে আনার জন্য।

এ দিকে পাপন সাহার মা পুষ্প রানী সাহা বলেন, পুলিশ আমার ছেলেকে থানায় আটকে রাখায় অভিমান করে সে আত্মহত্যা করেছে।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি আশিকুর রহমান জানান, পাপন সাহাকে থানা হেফাজতে রেখে জরুরি প্রয়োজনে আমরা একটু বাইরে যাই। সেখান থেকে ফিরে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেই। তার সঙ্গে কোনো প্রকার খারাপ আচরণ কেউ করেনি। রাতে তার ফোন পাওয়ার পর আমি তাকে ভালোভাবে বোঝানোর চেষ্টা করি। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি তার পরিবারকেও জানাই। কিন্তু তাকে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। থানায় আটকে রাখার কারণে কেউ আত্মহত্যা করতে পারে তা বিশ্বাস করা কঠিন।

তিনি আরও জানান, তার মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত